গাছের ডিএনএ দিয়ে গোয়েন্দাগিরি | অন্বেষণ | DW | 19.07.2016
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

গাছের ডিএনএ দিয়ে গোয়েন্দাগিরি

অপরাধের তদন্তের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির গুরুত্ব দিনে দিনে বেড়েই চলেছে৷ যেমন ডিএনএ-ম্যাচিং নির্ভুল প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগছে৷ তবে শুধু মানুষ বা অন্যান্য প্রাণী নয়, গাছপালার ডিএনএ-ও রহস্যের কিনারা করতে সাহায্য করছে৷

জঙ্গলে অপরাধের ঘটনা৷ খুন করে সব চিহ্ন মিটিয়ে দেবার চেষ্টা করা হয়েছে৷ বিশাল এক গাছের নীচে লাশ পুঁতে দেওয়া হয়েছে৷ খুনির কোনো হদিশ পাওয়া যাচ্ছে না৷ এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি দ্রুত তদন্তকারীদের নজরে এসে পড়েছে৷

কিন্তু অকুস্থলে তার কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি৷ খুন রহস্যের এখনো কোনো কিনারা হয়নি৷ এমনকি বহু বছর পরেও অপরাধের এমন ঘটনা সেরা তদন্তকারীদের মনে চ্যালেঞ্জ হিসেবে ঘোরাফেরা করে৷

উভে শ্লেয়েনবেকার আবার এই কেস ঘেঁটে দেখছেন৷ সন্দেহভাজন ব্যক্তির কাছে গাছের একটি পাতা পাওয়া গেছে, যার ভিত্তিতে তাঁর মনে প্রশ্ন জেগেছে – গাছেরও কি আঙুলের ছাপ আছে, যা দিয়ে তাকে চিহ্নিত করা যায়? তিনি বলেন, ‘‘সে সময়ে আমরা প্রথমে মানুষের ডিএনএ নিয়ে কাজ করেছিলাম৷ তারপর প্রাণীদের ডিএনএ নিয়েও কাজ করলাম৷ তখন জানতাম না কোন গাছ আমরা ল্যাবে আনবো৷ ঠিক করলাম, একই সঙ্গে গবেষণা ও তদন্তের কাজ করবো৷''

অকুস্থলে যে গাছের নীচে লাশ পাওয়া গেছে, পাতাটা যে ঠিক সেই গাছের, তা কি প্রমাণ করা সম্ভব? শ্লেয়েনবেকার ডিএনএ তুলনা করে সেটা প্রমাণ করে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে কাঠগড়ায় তুলতে চান৷ উভে শ্লেয়েনবেকার বলেন, ‘‘কিছু লোক বলেছিলেন, এত পুরানো উপকরণ থেকে কিছুই আলাদা করা যাবে না৷ পাতাটি সে সময়ে ছ'বছর পার করেছিল৷''

গাছপালার জেনেটিক মেটিরিয়াল বিশ্লেষণ করার কথা প্রায় কেউই ভাবেননি৷ যে ডিএনএ প্রতিটি পাতাকে নির্দিষ্ট গাছের সঙ্গে মেলাতে পারে, তা তখনো অজানা ছিল৷ শ্লেয়েনবেকার বলেন, ‘‘বিশ্লেষণ করতে এক বছরেরও বেশি সময় লেগেছিল৷ বই ঘাঁটাঘাঁটি থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে গাছপালার ডিএনএ বার করার প্রক্রিয়া শিখতে হয়েছে৷ তারপর নিজস্ব ল্যাবে অকুস্থলে পাওয়া পাতার বিশ্লেষণ প্রস্তুত করতে হয়েছে৷''

অক্লান্ত পরিশ্রম করে সেই এক্সট্র্যাকশনের কাজ তদন্তকারীর জন্য একই সঙ্গে চ্যালেঞ্জ ও বড় সম্ভাবনা৷ পাতাটি চিহ্নিত করার কাজে সফল হলে তিনি পুলিশের ইতিহাসে স্থান পেয়ে যাবেন৷ উভে শ্লেয়েনবেকার বলেন, ‘‘জীবনে এমন কেস একবারই আসে৷ কাজ শেষ হলেই তা বোঝা যায়৷ অকুস্থলে পাওয়া কোনো বস্তু শেষ পর্যন্ত কাজে লাগবে কি না, তা জানার কোনো উপায় নেই৷ পরে দু'টি বস্তুর মধ্যে মিল আবিষ্কার করলে তা কেস সমাধানের ক্ষেত্রে চাবিকাঠি হয়ে উঠতে পারে৷''

জেনেটিক পরীক্ষা সফল হয়েছে৷ ফলাফল নিয়েও কোনো সন্দেহ নেই৷ সন্দেহভাজন ব্যক্তির গাড়ির মধ্যে পাওয়া পাতাটি অকুস্থলের পাশের গাছটি থেকেই এসেছে৷ তবে এই অকাট্য প্রমাণ গল্পের শেষ নয়৷ শ্লেয়েনবেকার বলেন, ‘‘তারপর প্রশ্ন ওঠে, আদালত আনকোরা নতুন এই পদ্ধতিকে স্বীকৃতি দেবে কিনা৷ তার উপর কেসটা উচ্চতর আদালতে যাচ্ছিল৷ তবে সর্বোচ্চ আদালত এই পদ্ধতিকে বৈধ হিসেবে মেনে নিয়েছে৷''

শ্লেয়েনবেকারের এই যুগান্তকারী কাজের ফলে তদন্তের এক সম্পূর্ণ নতুন প্রক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে৷ গাছপালার জেনেটিক বৈশিষ্ট্যের প্রয়োগ অপরাধবিজ্ঞানকে এক ধাক্কায় অনেকটা এগিয়ে নিয়ে গেছে – এককালে মানুষের ডিএনএ-র ক্ষেত্রে যেমনটা হয়েছিল৷

অপরাধীকে শেষ পর্যন্ত খুনের সাজা পেতে হয়েছে৷ গোটা বিশ্বে এই প্রথম কোনো তদন্তে গাছপালার ডিএনএ-র ভিত্তিতে রায় শোনানো হলো৷ সামান্য একটি পাতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হয়ে উঠলো৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়