1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

সাত খুনের সাজা বহাল

রাজধানীর লালবাগে ২০ বছর আগের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের মামলায় নিম্ন আদালতের রায় বহাল রেখেছে হাইকোর্ট৷ নিম্ন আদালতের রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, নয় জনের যাবজ্জীবন এবং একজনের ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল৷

নিহত হাফিজউদ্দিনের ভাই রিয়াজউদ্দিন আহমেদ রায়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা খুব একটা খুশি হতে পারিনি৷ ওই হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আবদুল আজিজ মিয়ার সাজা বাড়ানো হলে খুশি হতাম৷'' নিম্ন আদালত রায়ে আবদুল আজিজের ১০ বছর কারাদণ্ড দিয়েছিলেন৷ রিয়াজউদ্দিন বলেন, ‘‘ওই খুনের নির্দেশদাতা ছিলেন আবদুল আজিজ৷ তার সর্বোচ্চ সাজা হলে আমরা খুশি হতাম৷''

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন আবদুস ছালাম ওরফে মতি ও জাহিদ হোসেন ওরফে নাটকা বাবু৷ তারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন৷ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ৯ জন হলেন আবদুল আলিম ওরফে শাহীন, মুন্না, কালু ওরফে কাইল্যা, দেলোয়ার হোসেন ওরফে আন্ডা, আমির হোসেন ওরফে আমিরা, মাহাতাব হোসেন, মনির পাটোয়ারী, দিল মোহাম্মদ ওরফে মতি ও মোজাম্মেল৷ এদের মধ্যে প্রথম পাঁচজন কারাগারে, পরের দুজন জামিনে ও শেষ দু'জন পলাতক৷ আর আবদুল আজিজকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়৷ তিনি জামিনে আছেন৷ আদালত আবদুল আজিজসহ তিন আসামিকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন৷

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ১৯৯৪ সালের ৩০শে জানুয়ারি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৫৯ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হুমায়ুন কবির বিজয়ী হন৷ পরদিন তার সমর্থকরা বিজয় মিছিল বের করলে লালবাগের নবাবগঞ্জ রোডে পরাজিত প্রার্থী বিএনপি সমর্থিত আব্দুল আজিজ মিয়ার সমর্থকরা এলোপাতাড়ি গুলি চালায়৷ ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে ৬ জন ও পরে হাসপাতালে আরো একজন মারা যান৷ সেই সময়ে এই ঘটনা ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে৷ খুনিদের বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলনও হয়৷

নিহতরা হলেন লালবাগ এলাকার দেলোয়ার, গাজী, নজরুল, আনোয়ার, হাফিজউদ্দিন, আজিজ ও শাহ আলম৷ ঘটনার পর তখনকার বিজয়ী কমিশনার হুমায়ুন কবির ১৯ আসামির নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরও ৭০ থেকে ৮০ জনের বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন৷ তখন থেকে মামলাটি সেভেন মার্ডার হিসেবে পরিচিতি পায়৷ মামলায় দণ্ড পাওয়া সবাই বিএনপি নেতা আবদুল আজিজ মিয়ার কর্মী ও সমর্থক৷

ঘটনার পর সাড়ে ৩ মাস তদন্ত করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ১৯৯৪ সালের ১৪ মে ২১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে৷ ১লা আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়৷ বিচার চলাকালে আসামি আবদুল মজিদ মৃত্যুবরণ করেন৷ আবদুল মজিদ মামলার অন্যতম আসামি আজিজের বাবা৷

জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ জেলা জজ আদালত ২০০৮ সালের ৭ই মে রায় ঘোষণা করেন৷ রায়ে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, ৯ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আট আসামিকে খালাস দেয়া হয়৷ নিম্ন আদালতের রায়ের পর পলাতক দুই আসামি ছাড়া অপর আসামিরা আপিল করেন৷ ডেথরেফারেন্স শুনানির জন্য মামলাটি হাইকোর্টে আসে৷ চলতি মাসের শুরুতে ডেথরেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়৷

রায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির উল্লাহ বলেন, অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের সাজার রায় বহাল রেখেছেন৷ আসামিদের ডেথরেফারেন্স মঞ্জুর ও আপিল খারিজ করে এই রায় দেয়া হয়েছে৷ তবে রায়ে খুশি নন আসামিপক্ষের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান৷ তিনি জানান, এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করা হবে৷ মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত দুই আসামির জরিমানার আদেশ বাতিল করা হয়েছে৷ জামিনে থাকা তিনজনকে ৩০ দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে৷ আসামিপক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, মাহবুব উদ্দিন খোকন, খুরশীদ আলম খান ও এ এস এম শাজাহান৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়