খাশগজি ইস্যুতে সৌদির ওপর বাড়ছে মার্কিন চাপ | বিশ্ব | DW | 11.10.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সৌদি আরব-যুক্তরাষ্ট্র

খাশগজি ইস্যুতে সৌদির ওপর বাড়ছে মার্কিন চাপ

নিখোঁজ সাংবাদিক জামাল খাশগজির সন্ধানে সৌদি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন সেনেটররা৷ তুরস্ক অভিযোগ করে আসছে, ওয়াশিংটন পোস্টের এই লেখককে ইস্তানবুলে সৌদি কনসুলেটে হত্যা করা হয়েছে৷

মার্কিন সিনেটের ২২ সদস্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন৷ গ্লোবাল ম্যাগনিটস্কি হিউম্যান রাইটস অ্যাকাউন্টিবিলিটি অ্যাক্টের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকা এই সৌদি সাংবাদিকের নিখোঁজের ঘটনার দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা৷

সিনেটের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কমিটির প্রধান বব কোর্কার এবং শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সিনেটর বব মেনেন্দেজও আছেন চিঠিতে স্বাক্ষরদাতাদের মধ্যে৷

হোয়াইট হাউসে পাঠানো চিঠিতে, ‘‘এই বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানবাধিকারের কোনো লঙ্ঘন হয়েছে কিনা তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে৷’’

১২০ দিনের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনকে এই বিষয়ে কংগ্রেসের মুখোমুখি হতে হবে৷ এর ফলে সৌদি আরব ও শীর্ষ সৌদি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার পথ খুলতে পারে

তুর্কি কর্মকর্তাদের অভিযোগ খাসগজিকে কনসুলেটের ভেতর হত্যা করে তাঁর মরদেহ সরিয়ে ফেলা হয়েছে৷ সৌদি আরব অবশ্য বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে৷ কনসুলেটের বাইরের সিসিটিভি ক্যামেরায় খাশগজির ঢোকার ভিডিও থাকলেও, সেখান থেকে বের হওয়ার কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি সৌদি আরব৷

Istanbul Saudischer Journalist Khashoggi betritt Konsulat von Saudi-Arabien

কনসুলেটের বাইরের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা দৃশ্যে খাশগজিকে কনসুলেটে ঢুকতে দেখা যাচ্ছে

ট্রাম্প ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তিনি ‘শীর্ষ সৌদি কর্মকর্তাদের’ সঙ্গে এই ইস্যুতে ‘একাধিকবার’ কথা বলেছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘এটি আমাদের এবং হোয়াইট হাউসের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়৷ যা ঘটছে, তা আমরা পছন্দ করছি না৷ আপনারা জানেন, এখনো তাঁরা বলছেন, ‘আমাদের এ বিষয়ে কিছু করার নেই’৷ কিন্তু সবাই এই একই কথাই বলছেন৷’’

ট্রাম্প বলেন, ‘‘এখনো কেউই জানেন না কী ঘটেছে৷ আমরাও জানি না৷’’

‘নির্দেশ করছে ঐদিকেই’

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় মিত্র সৌদি আরব৷ মানবাধিকার ও ইয়েমেন ইস্যুতে দেশটির অবস্থান নিয়ে বিশ্বব্যাপী সমালোচনার মুখেও ট্রাম্প প্রশাসন ইরান, সিরিয়া ও ইসরায়েল ইস্যুতে সৌদি আরবকে সাথে নিয়েই নীতি নির্ধারণের পথ বেছে নিয়েছে৷

সেনেটের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কমিটির প্রধান হিসেবে বব কোর্কার মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন দেখে থাকেন৷ বুধবার তিনি জানান, খাশগজিকে ‘‘কনসুলেটে ঢোকার পরপরই মেরে ফেলা হয়ে থাকতে পারে' এবং ‘তাঁর সাথে যা ঘটেছে, তাতে সৌদি আরবের যোগসাজশ রয়েছে৷’’

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে তিনি বলেন, ‘‘তাঁর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে যা তথ্য মিলছে, সবই সৌদি সম্পৃক্ততার কথা বলছে৷ সৌদি আরবকে এর ব্যাখ্যা দিতে হবে৷’’

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, মার্কিন গোয়েন্দারা খাশগজিকে অপহরণের একটি সৌদি পরিকল্পনার কথোপকথন উদ্ধার করতে পেরেছেন৷ সৌদি আরব ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের একজন কঠোর সমালোচক ছিলেন খাসগজি৷ গত বছর তিনি সৌদি আরব থেকে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেন৷

খাসগজির বন্ধু এবং তুরস্ক-আরব মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান তুরান কিসলাকসি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ইয়েমেন ও সিরিয়া ইস্যুতে মতামত দেয়ায় তাঁকে হত্যা করা হয়েছে৷’’

তুরস্কের গণমাধ্যমে ভিডিও

খাশগজিকে হত্যার মিশনে আসা সন্দেহভাজন একটি দলের ১৫ সদস্যের ছবি প্রকাশ করেছে তুরস্কের বিভিন্ন গণমাধ্যম৷ এঁদের মধ্যে এক শীর্ষ সৌদি ফরেনসিক কর্মকর্তাও আছেন৷

‘সৌদি হত্যাকারী দলের’ সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, ঘটনার দিন সকালে ইস্তানবুলের আতাতুর্ক বিমানবন্দরে খুব ভোরে দুটি ব্যক্তিগত সৌদি জেট বিমান এসে নামছে৷ এরপর কূটনৈতিক ভিসা নিয়ে নয় ব্যক্তিকে প্রবেশ করতে দেখা যায়৷ এরপর খাশগজি কনসুলেটে প্রবেশ করেন এবং পরে তাঁদেরকে সৌদি কনসুলেটের পাশে এক হোটেল থেকে বের হতে দেখা যায়৷

প্রায় দুই ঘণ্টা পর কূটনৈতিক নাম্বারপ্লেট লাগানো একটি কালো গাড়ি কনসুলেট থেকে বের হয়ে সৌদি রাষ্ট্রদূতের বাসায় যায়৷ সেদিন বিকেলেই ১৫ সৌদি নাগরিক তুরস্ক ছেড়ে যান বলেও জানানো হয়েছে৷

তদন্ত করতে সৌদি কনসুলেট ও রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে তল্লাশি চালাতে চান তুর্কি কর্মকর্তারা৷ সৌদি যুবরাজও এরই মধ্যে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিতে আগ্রহের কথা জানিয়েছেন৷ ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী, প্রতিটি দূতাবাসই সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের সার্বভৌম অঞ্চল এবং যে-দেশে সে দূতাবাস অবস্থিত, সে দেশও অনুমতি ছাড়া দূতাবাসে প্রবেশ করতে পারে না৷

জটিল কূটনীতি

তুরস্কে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সৌদি আরব অন্যতম হলেও আঞ্চলিক বিবাদে জড়িয়ে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরে চলছে টানাপড়েন৷

সৌদি আরব ও দেশটির প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধে তুরস্ক কাতারের পক্ষ নিয়েছিল৷ মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ভূমিকা এবং মুসলিম ব্রাদারহুড ইস্যুতেও দুই দেশের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত৷

বিশ্লেষকরা বলছেন, খাশগজির সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ডে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হলেও তুরস্ক একা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে যেতে চাচ্ছে না৷ কোনো ব্যবস্থা নেয়ার আগে তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য মিত্রদের কাছ থেকে রাজনৈতিক সহযোগিতার আশ্বাস খুঁজছে দেশটি৷

তবে গত বছর তুরস্কে ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থান, এক মার্কিন যাজককে গ্রেপ্তার ও সিরিয়া ইস্যুতে অবস্থানকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প প্রশাসনের সাথেও খুব একটা ভালো সম্পর্ক যাচ্ছে না তুরস্কের৷

চেস উইন্টার/ এডিকে

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন