কুয়াশার পানি কাজে লাগাতে অভিনব প্রণালী | অন্বেষণ | DW | 07.10.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

কুয়াশার পানি কাজে লাগাতে অভিনব প্রণালী

শুষ্ক মরু অঞ্চলে পানির অভাব বড় সমস্যা৷ সেখানে অনেক মানুষের পানি কেনারও সামর্থ্য থাকে না৷ পেরুর এক ইঞ্জিনিয়ার কুয়াশার পানি কাজে লাগাতে অসাধারণ এক প্রণালী গড়ে তুলেছেন৷ ফলে মরুভূমিতেও চাষাবাদ হচ্ছে৷

ভোরবেলায় ধূসর কুয়াশা দেখলে আবেল ক্রুসের মন ভালো হয়ে যায়৷ সেই দৃশ্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‘কুয়াশার এই চাদর এদিকে এসে সব ঢেকে দেবে৷ সেই কুয়াশা বন্দি করাই এই জালের কাজ৷ বাতাস জালের মধ্য দিয়ে গলে যায়, শুধু ক্ষুদ্র বিন্দু থেকে যায়৷ সেই বিন্দুগুলি চ্যানেলের মাধ্যমে আধারে চলে যায়৷ এই প্রণালীর মাধ্যমে পানি সংগ্রহ করে আমরা অনেক জায়গায় জলের সমস্যার সমাধান করছি৷''

প্রায় ২০ বছর আগে কুয়াশায় আচ্ছন্ন এক সন্ধ্যায় আবেলের মাথায় এই আইডিয়া আসে৷ তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে রাজধানী লিমায় এক দরিদ্র এলাকায় বসবাস করতেন৷ তাঁর জমিটি এমনই প্লাস্টিকের জাল দিয়ে ঘেরা ছিল, যেমনটি কাজে লাগিয়ে তিনি আজ মরু এলাকায় কুয়াশা বন্দি করছেন৷ স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেল বলেন, ‘‘নেটের নীচে অনেক বিন্দু জমা হতো, বিশেষ করে যেখানে পূর্বদিক থেকে বাতাস আসতো৷ তখন আমি জালের নীচে একটি চ্যানেল আর আধার রাখলাম৷ সকালে সেই আধার স্বচ্ছ পানি দিয়ে ভরা ছিল৷''

কমলালেবু, আভোকাডো, আঙুর চাষ শুরু করে চাষি হিসেবে কার্লস সাপাটা অত্যন্ত গর্বিত৷ পেরুর দক্ষিণে তাখনা এলাকায় কখনো বৃষ্টি না হলেও তিনি সেখানে অদূর ভবিষ্যতে ফসল তুলতে চলেছেন৷ কুয়াশা বন্দি করার প্রণালী ব্যবহার করে তিনি গাছে পানি দিচ্ছেন৷ কার্লস বলেন, ‘‘পাহাড়ের উপরেই সবচেয়ে বেশি কুয়াশা থাকে৷ সেখান ২০০ বা ৩০০ কুয়াশা ধরার কাঠামো থাকলে আরো অনেক পানি পাওয়া যেত৷ আমার প্রতিবেশী ও আমার ফায়দা হতো৷''

পেরুর প্রায় ২,৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলের প্রায় সব অংশই মরু এলাকা৷ দেশের প্রায় ১ কোটি ১০ লক্ষ মানুষের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি বিশুদ্ধ পানীয় জলের নাগাল পান না৷

মোকেগুয়া শহরের কাছে সবুজ পালের মতো দেখতে আবেল ক্রুস-এর কুয়াশা ধরার প্রণালী শোভা পাচ্ছে৷ একশ'রও বেশি পরিবার মরুভূমির মাঝে বসবাস করতে আসছে৷ সেই লক্ষ্যে তাঁদের সবার আগে পানির প্রয়োজন রয়েছে৷ তার মূল্যও বেশি হলে চলবে না৷ আবেল ক্রুস বলেন, ‘‘এই কুয়াশা বন্দি করার প্রণালীর দাম ৭০ থেকে ৯০ ইউরোর মতো৷ স্থানীয় উপকরণ দিয়েই সেগুলি তৈরি৷''

দারিদ্র্য ও নিজস্ব জমির স্বপ্ন মানুষকে পতিত জমির দিকে চালনা করছে৷ এ ক্ষেত্রে কুয়াশা ধরার প্রণালী তাঁদের সাহায্য করতে পারে৷

কিন্তু ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত পেরুর গ্রীষ্মকালে যখন প্রায় কোনো কুয়াশা দেখা যায় না, তখন কী হবে? বসবাসরতরা আরো বড় আধারে পানি জমা রাখতে চান, যাতে বাইরে থেকে পানি কিনতে না হয়৷

তাখনায় কার্লস সাপাটার কাছে ফেরা যাক৷ আবেল ক্রুস ও তাঁর সহকর্মীরা তাঁদের পরিমাপ যন্ত্রের মাধ্যমে অবস্থা খতিয়ে দেখছেন৷ বাতাসের উৎস অনুযায়ী কুয়াশা ধরার প্রণালীর অবস্থান আদর্শ কিনা, তা পরীক্ষা করা হচ্ছে৷ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে ক্রুস ভাষণ দেন৷ তিনি বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক পুরস্কারও জিতেছেন৷ অথচ নিজের দেশ পেরুতেই অনেকে এই প্রকল্পের সাফল্য সম্পর্কে সংশয় প্রকাশ করে৷ আবেল ক্রুস বলেন, ‘‘আমাকে দেখাতে হবে এবং আমি দেখাচ্ছিও৷ কীভাবে এই গাছপালা বড় হচ্ছে? শুধু বাতাস দিয়ে নিশ্চয়ই নয়৷ গাছে দেয়ার পানি কুয়াশা থেকেই আসছে, তা-ও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে৷ যেসব পরিবারের খাবার কেনারও সামর্থ্য নেই, তারা পানি কিনবে কী করে?''

আবেল ক্রুস ইতোমধ্যে পেরুতে এক হাজারেরও বেশি কুয়াশা ধরার প্রণালী বসিয়েছেন৷ তিনি এই কাজ চালিয়ে যেতে চান, যাতে সবার জন্য যথেষ্ট কুয়াশা ধরা যায়৷

কারেন নাউনডর্ফ/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন