কলকাতা-জার্মানিকে এক করেছে যে প্রদর্শনী | বিশ্ব | DW | 01.03.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

কলকাতা

কলকাতা-জার্মানিকে এক করেছে যে প্রদর্শনী

কলকাতার গোয়েটে ইনস্টিটিউট, মাক্স ম্যুলার ভবনের সহযোগিতায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিনব এক প্রদর্শনী চলছে, যার মূল বিষয়, ১৯৬০-এর দশকের শেষে দুনিয়াজুড়ে চলা ছাত্র-যুব আন্দোলন৷

ঐ সময় গোটা পৃথিবীতে একের পর এক দেশে, প্রায় একই সময়ে ছাত্র-ছাত্রীদের নেতৃত্বে গণ-আন্দোলন হয়েছে৷ প্রেক্ষাপট ছিল আলাদা, বিরোধিতার বিষয় এবং আন্দোলনের লক্ষ্যও ছিল আলাদা৷ কিন্তু সবকটি আন্দোলনই ছিল রাষ্ট্র বা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ-প্রবণতার বিরুদ্ধে৷

পশ্চিম জার্মানিতে ছাত্রসমাজ ফুঁসে উঠেছিল সরকারি অবহেলা, বৈষম্য এবং দ্বিচারিতার বিরুদ্ধে৷ বৃহত্তর গণতন্ত্রের দাবিতে সোচ্চার হয়েছিল৷ এবং সেই প্রথম জার্মানির রক্ষণশীল যুবসমাজের চিন্তাভাবনায় বৈপ্লবিক বামপন্থি প্রবণতা ধরা পড়েছিল, যা রুখতে মরিয়া হয়ে গিয়েছিল শাসকগোষ্ঠী৷

অন্যদিকে একই সময়ে ফ্রান্সেও সরকারবিরোধী, প্রতিষ্ঠানবিরোধী আন্দোলনের জনজোয়ার এসেছিল, যার প্রথম সারিতে ছিল ছাত্র-যুবরা৷ দেশের একাধিক শহরে শুরু হয়েছিল উত্তাল গণ-আন্দোলন, যা বদলে দিয়েছিল সেদেশের সাংস্কৃতিক, সামাজিক এবং নৈতিক চিন্তাধারার গতিপথ৷

আবার একই সময়ে ব্যাপক সামাজিক আন্দোলন শুরু হয়েছিল মেক্সিকোয়, যার ধাত্রীভূমি ছিল সেদেশের এক গুচ্ছ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়৷

এর পাশাপাশি এক পয়সা ট্রামভাড়া বাড়ানোর বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল হয়েছিল কলকাতা শহর এবং ছাত্র-যুবদের মানসিকতা ক্রমশ এগোতে শুরু করেছিল এক অতিবিপ্লবী বামপন্থি মানসিকতার দিকে৷

প্রায় গবেষকের অনুসন্ধিৎসা এবং তথ্যনিষ্ঠা নিয়ে এই আন্তর্জাতিক আন্দোলনগুলি একসূত্রে গাঁথা হয়েছে ‘‌গ্লোবাল ইউথ মুভমেন্টস ১৯৬৮'‌ শীর্ষক প্রদর্শনীতে৷ তথ্যের আলোকে উদ্ভাসিত এক প্রদর্শনী ছাড়াও আলোচনাচক্র, থিয়েটার, সিনেমার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে বিশ্বব্যাপী এক বৈপ্লবিক চিন্তাসূত্রকে৷ এবং সেই সুবাদেই পরস্পরের হাত ধরেছে কলকাতা এবং জার্মানি৷

অডিও শুনুন 03:10

‘সরাসরি কোনও যোগসূত্র না থাকলেও এক ধরনের মূল বিষয় উঠে আসছে’

একই সূত্রে এতগুলো আন্তর্জাতিক ঘটনাকে গাঁথতে গিয়ে ঠিক কোন বিষয়টা মাথায় রাখতে হয়েছিল?‌ এই প্রশ্নের উত্তরে এই প্রদর্শনীসহ গোটা অনুষ্ঠানটার নির্বাচক ও সংগঠক, সাংবাদিক নাজেস আফরোজ ডয়চে ভেলেকে জানালেন, ‘‌‘‌এটা একটা খুব অদ্ভুত ঘটনা যে একসঙ্গে ৫৬টা দেশে এরকম ছাত্র-যুব, তারা আন্দোলন করতে শুরু করেছে৷ তাদের মধ্যে ২২টা হচ্ছে ইউরোপে৷ ইউরোপে তবু বোঝা যায় যে তারা পাশাপাশি দেশ৷ তাদের মধ্যে একটা জায়গা থেকে আরেকটা জায়গায় খবর যাচ্ছে, তথ্য যাচ্ছে এবং সেখানে তারা আন্দোলন করছে৷ তাদের মধ্যে সরাসরি কোনও যোগসূত্র না থাকলেও এক ধরনের মূল বিষয় উঠে আসছে৷ এটা যখন আমি নির্বাচন করছি, তখন এক নম্বর মাথায় রাখতে হচ্ছে যে সবকটার কী কারণ ছিল, সেই কারণগুলো খুঁজে বের করা৷ দ্বিতীয় হচ্ছে, সে সংক্রান্ত কী কী প্রামাণ্য তথ্য, মানে খবরের কাগজ, ছবি— এগুলি কী কী পাওয়া যেতে পারে, সেগুলোকে জোগাড় করা৷ এবং সবকটাকে মিলিয়ে একসঙ্গে দেখা৷ এটা আগে কখনও হয়নি৷ প্রত্যেকটা আলাদা আলাদাভাবে দেখা হয়েছে এবং ইউরোপে একসঙ্গে দেখা হয়েছে৷ কিন্তু মেক্সিকোতে ঘটছে একই সময়, এদিকে দক্ষিণ এশিয়াতে ঘটছে একই সময় - সরাসরি সেভাবে হয়ত কোনও যোগসূত্র নেই, কিন্তু যদি একসঙ্গে দেখা যায়, তা হলে অনেকগুলো একই ধরনের কেন্দ্রীয় ভাবনা এখান থেকে বেরিয়ে আসে৷ তবে এমন নয় যে প্রথম থেকেই মাথাটা পরিষ্কার ছিল যে আমাকে কী কী দেখতে হবে৷ কিন্তু সবকটা আলাদা আলাদা করতে করতে, এবং একসঙ্গে যখন করছি সমস্তটা, জোগাড় করেছি তথ্য- করতে গিয়ে তখন তার মধ্যে থেকে একটা (‌কেন্দ্রীয় বিষয়)‌ বেরোচ্ছে এবং সেইটাকে আমি এই প্রদর্শনীতে রাখার চেষ্টা করেছি৷'‌'

‌নাজেস আফরোজ জানাচ্ছেন, ‘‘কলকাতা এবং জার্মানি, এই বিষয়টাকে আলাদা করে দেখা হয়েছে প্রদর্শনীতে৷ কিন্তু তার ভেতরে সবই আছে৷ এর ভেতরে ‘‌প্রাগ বসন্ত'‌, '‌৬৮ সালে যেটা ঘটেছিল, সেটা যেমন আছে, মেক্সিকোতে অক্টোবর '‌৬৮-তে যেটা ঘটেছে, সেটাও রয়েছে৷ প্যারিসে যেটা হয়েছে, সেটাও রয়েছে৷ কিন্তু তার একটা প্রেক্ষাপট হিসেবে বিভিন্ন দেশে যা ঘটছিল, বিশেষ করে অ্যামেরিকা এবং ইউরোপে যে আন্দোলন হয়েছে, যেমন ভিয়েতনাম যুদ্ধ বিরোধী আন্দোলন, বা চীনে যে সাংস্কৃতিক আন্দোলন হচ্ছিল এবং তার ফলে ঐতিহাসিক ‘‌রেড বুক'‌-এর সারা দেশে ছড়িয়ে যাওয়া, সেসময়কার যে চীনা যুবক-যুবতীরা, তাঁদের সেই রেড বুকের প্রতি যে আকর্ষণ, সেটাও রয়েছে৷ এবং এগুলো সারা পৃথিবীজুড়ে একসঙ্গে ঘটেছিল৷ সব ঘটনা দেওয়া সম্ভব না হলেও, যেগুলো বড় ঘটনা, সেগুলো সবই জায়গা পেয়েছে প্রদর্শনীতে৷ যেমন পশ্চিমবঙ্গে ১৯৫৯ সালের খাদ্য আন্দোলন, বা ট্রাম ভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছাত্র আন্দোলন - এগুলো সবই আছে৷''

১ মার্চ এই প্রদর্শনীর শেষ পর্বে ছিল একটি আলোচনাসভা, যার কেন্দ্রীয় আলোচ্য ‘‌সমাজ, রাজনীতি এবং সমসময়ে ছাত্রদের ভূমিকা'‌, যে বিষয়টি গত কয়েক বছরে বারবার উঠে এসেছে মানুষের আলোচনায়, তর্কে-বিতর্কে৷ আর ২ মার্চ প্রদর্শনী শেষ হচ্ছে মহাশ্বেতা দেবীর বিখ্যাত ‘‌হাজার চুরাশির মা'‌ অবলম্বনে গোবিন্দ নিহালনির সমনামী চলচ্চিত্রটি দিয়ে, যে কাহিনী ষাটের দশকের শেষ এবং সত্তরের শুরুতে বাংলা উত্তাল করা নকশাল আন্দোলনের কথা বলে৷ ঠিক যে ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণের চৌকাঠে এসে থমকে দাঁড়িয়েছিল '‌৬৮-র বিশ্বজোড়া গণ-আন্দোলন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন