করোনা হেরে গেল অপরাধের কাছে | আলাপ | DW | 11.09.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

করোনা হেরে গেল অপরাধের কাছে

করোনা মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে পঙ্গু করে দিয়েছে, তবে থামাতে পারেনি অপরাধ৷ ভারতে করোনার সময় অপরাধের গ্রাফ সমানে উপরে উঠেছে৷

দিল্লিতে করোনা-কেন্দ্রের ভেতরেও ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে

দিল্লিতে করোনা-কেন্দ্রের ভেতরেও ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে

সাধারণ মানুষ করোনার ভয়ে যতই মাস্ক পরে, সামাজিক দূরত্ব তৈরি করে ভয়ে ভয়ে বাস করুন না কেন, অপরাধীরা করোনার ভয় থেকে মুক্ত৷ না হলে করোনা আক্রান্ত নারীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁকে ধর্ষণ করে অ্যাম্বুলেন্সের চালক? ঘটনাটি ঘটেছে কেরালায়৷ কয়েকদিন আগে৷

একটি অ্যাম্বুলেন্সে দুইজন করোনায় আক্রান্ত নারীকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল৷ দুইজনকে আলাদা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল৷ প্রথমে বছর চল্লিশের করোনা আক্রান্ত নারীকে অ্যাম্বুলেন্স চালক হাসপাতালে নামিয়ে দেয়৷ তারপর ১৯ বছরের তরুণীকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় অ্যাম্বুলেন্স নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করে৷ তারপর তাঁকে হাসপাতালে নামিয়ে দিয়ে চলে যায়৷ সেই চালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ৷

এটা তো বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়৷ দিল্লিতে করোনা-কেন্দ্রের ভিতরে একটি মেয়েকে ধর্ষণ করেছিল দুই যুবক৷ কিছুদিন আগে৷ সেই করোনা-কেন্দ্রে আরো রোগী ছিলেন৷ বাইরে নিরাপত্তারক্ষী ছিল৷ করোনা-কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো৷ তা সত্ত্বেও বাথরুমের কাছে নিরালা জায়গা বেছে ধর্ষণ করে ওই দুই যুবক তাই করোনা নামক ভয়ংকর অতিমারীও হেরে যাচ্ছে এই অপরাধীদের কাছে৷ তারা ধরা পড়বে জানে, ধর্ষণের আইন এখন খুব কড়া, সে সবও তাদের অজানা নয়, তা সত্ত্বেও এই ধরনের অপরাধ করে যাচ্ছে৷ বস্তুত, করোনাকালে কোন অপরাধটাই বা কমেছে ভারতে?

খুনের কথাই ধরা যাক৷ উত্তর প্রদেশে যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যে খুন লেগেই আছে৷ খুব কম সময়ের ব্যবধানে তিনজন সাংবাদিক খুন হয়েছেন৷ দিন দুয়েক আগেই বুলন্দশহর থেকে দিল্লি ফেরার পথে এক ট্যাক্সিচালক খুন হয়েছেন৷ পরিবারের অভিযোগ, ‘জয় শ্রীরাম’ না বলায় তাঁকে খুন করে দুই সওয়ারি৷ পুলিশ অবশ্য তা মানতে চায়নি৷ নিজের মেয়েকে বেচে দিয়েছেন এই গুজবের ভিত্তিতে মৈনপুরিতে একজন দলিতকে তাঁরই বাড়ির ছাদে পিটিয়ে মেরেছে পাঁচজন লোক৷ কুশীনগরে তো পুলিশের সামনেই খুনের দায়ে এক অভিযুক্তকে পিটিয়ে মারা হয়েছে৷ লকডাউন হওয়ার আগে গত জানুয়ারিতে উত্তর প্রদেশে একদিনে ১৩টা খুন হয়েছিল৷ দেখা যাচ্ছে, করোনার সময়েও যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যে সেই চরিত্রের বদল হয়নি৷

রাজধানী দিল্লিই বা কম যায় কীসে? পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১ জুন থেকে দিল্লিতে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫টি করে ছিনতাই হচ্ছে৷ দিন কয়েক আগের ঘটনা৷ মূলচন্দ থেকে নেহরু প্লেস আসার পথে অটোতে বসা এক বাঙালি মেয়ের হাত থেকে ব্যাগ টান মারে এক বাইক আরোহী৷ মেয়েটিও পাল্টা টান দেয়, তখন তাঁর হাত চেপে ধরে দুষ্কৃতী৷ ভয়ে মেয়েটি ব্যাগ ছেড়ে দেয়৷ এটিএমে গিয়ে পিন বদলে ১৫ হাজার টাকা তুলে নেয় দুষ্কৃতীরা৷ রাস্তায় চলার সময় মোবাইল, গলার হার ছিনতাই তো নিত্যদিনের ঘটনা৷ সেই সঙ্গে গাড়ি চুরি, ডাকাতি, হত্যা, মহিলা নির্যাতন সহ সব ধরনের অপরাধেরই বাড়বাড়ন্ত৷

কেন এই অবস্থা? দিল্লি পুলিশের একটা ব্যাখ্যা হলো, করোনার পর জেলগুলিকে খালি করার দরকার হয়৷ কারণ, রাজধানীর জেলে উপচে পড়া ভিড় ছিল৷ সেখানে সামাজিক দূরত্ব মানার জন্য যে সব অপরাধীর সাত বছরের কম হাজতবাসের সাজা ছিল, তাদের অনেককেই প্যারোলে ছেড়ে দেয়া হয়েছে৷ ছাড়া পেয়ে তারা আবার অপরাধ করতে শুরু করেছে৷ আইজি জেল রাজ কুমার সম্প্রতি ইন্ডিয়া টুডে-কে জানিয়েছেন, ‘‘দিল্লির জেল থেকে চার হাজার ৩০০ জনকে ছাড়া হয়েছিল৷ তারপর আবার ৫০ জনকে বিভিন্ন অপরাধের কারণে ধরা হয়েছে৷’’

লকডাউনের ফলে প্রচুর লোকের চাকরি গেছে৷ ব্যবসা মার খেয়েছে৷ আনলকের পর সব খুলেছে ঠিকই, কিন্তু চাকরি, ব্যবসা কিছুই আর আগের মতো নেই। তাই চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি এ সব বাড়বে তা জানা কথা৷ তা সত্ত্বেও করোনার বাজারে অপরাধের সংখ্যা মাত্রাছাড়া ভাবে বেড়েছে৷ ১ থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত দিল্লিতে ৪৭১টা ছিনতাই হয়েছে৷ জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ২২৬টা খুন, ২৩৬টা খুনের চেষ্টা, প্রায় ৫৭ হাজার চুরি, ৭০০ ডাকাতি এবং ১৩ হাজারেরও বেশি গাড়ি চুরি হয়েছে৷ 

পিছিয়ে নেই পশ্চিমবঙ্গও৷ সেখানে আবার রাজনৈতিক খুন লেগেই আছে৷ বিজেপি-র অভিযোগ, তাদের হেমতাবাদের বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়কে খুন করে গাছে ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে৷ অবশ্য এটাকে আত্মহত্যা বলেছে৷ আরও কিছু বিজেপি নেতা ও কর্মীকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ৷ করোনাকালেও নিয়মিত তৃণমূল বনাম বিজেপি কর্মীদের লড়াই হয়েছে৷ সব মিলিয়ে অপরাধের হিসাবে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থাও খারাপ৷

জাতীয় মহিলা কমিশনের তথ্য বলছে, ২৩ মার্চ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত, অর্থাৎ লকডাউনের প্রথম পর্যায়ে তারা নারী নির্যাতনের ৫৮৭টি অভিযোগ পেয়েছে৷ তার মধ্যে ২৩৯টি গার্হস্থ হিংসার৷ করোনা কেটে গেলে যখন পুরো হিসাব আসবে, তখন বোঝা যাবে, গার্হস্থ হিংসার প্রকৃত ছবি৷

ফলে করোনাকালে অপরাধের বাড়বাড়ন্ত ভারতে৷ কোনো অপরাধই কমেনি৷ বরং তা বাড়ছে৷  

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন