করোনা আতঙ্ক: কমছে যুদ্ধে মৃত্যু | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 03.04.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

মধ্যপ্রাচ্য

করোনা আতঙ্ক: কমছে যুদ্ধে মৃত্যু

সারা বিশ্ব আজ কোভিড-১৯ মহামারির বিরুদ্ধে প্রাণপণে যুদ্ধ করছে৷‍ ‍ বেশিরভাগ দেশ লকডাউনে, চারিদিক স্তব্ধ, থেমে গেছে অস্ত্রের ঝনঝনানি৷‍ ‍ তবে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি এর মধ্যেও জটিল আকার নিচ্ছে৷‍

গত সপ্তাহে সৌদি আরব হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি জানায়৷‍ ‍ ‍তারপর প্রতিশোধ নিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অন্তত ১৯ বার বিমান হামলা চালায়৷‍

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে মার্চ মাসে মাত্র ১০৩ জন বেসামরিক নাগরিক মারা গেছেন৷‍ ‍২০১১ সালে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এক মাসে এত কম প্রাণহানি আর কখনো দেখা যায়নি৷‍ ‍

যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস' বুধবার এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে৷‍

প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্চে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ বাহিনী ও তাদের মিত্রপক্ষের বিমানহামলা ও গোলার আঘাতে ৫১ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন৷‍

বাকিরা বোমা বিস্ফোরণ, নির্যাতন এবং রহস্যজনক ‘গুপ্তহত্যার' শিকার করেছে৷‍ ‍এছাড়া জঙ্গিদল এক জনের শিরশ্ছেদ করেছে৷‍ ‍ এই এক মাসে আহত হয়েছেন পাঁচ শতাধিক মানুষ৷‍সংখ্যাটা গত ১০ বছরের গৃহযুদ্ধের তুলনায় নিতান্তই কম৷‍সিরিয়াযুদ্ধ এখন পর্যন্ত তিন লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে৷‍

জাতিসংঘের আহ্বান

জাতিসংঘ কোভিড-১৯ কে বৈশ্বিক মহামারী ঘোষণার পর মার্চের শুরুতে রাশিয়ার উদ্যোগে সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আসাদ বাহিনী, বিদ্রোহী যোদ্ধাদল এবং জঙ্গিবাহিনীর একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে আসতে সম্মত হয়েছে৷‍ ‍ 

জাতিসংঘ এ সময়ে পুরো দেশে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছে৷‍ সিরিয়ায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে৷‍ ‍ জাতিসংঘের আশঙ্কা দেশটির শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে যেকোনো মুহূর্তে মারাত্মক সংক্রামক এই ভাইরাস দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তে পারে৷‍

শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে গাদাগাদি করে থাকা গৃহহীনরা নূন্যতম সুবিধা পায় না৷‍পরিষ্কার পানি সেখানে বহু কষ্টে মেলে৷‍ সাবান যেন শুধু স্বপ্নেই দেখা যায়৷‍

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোর অসহায় মানুষকে করোনার প্রকোপ থেকে রক্ষা করতে গত ২৩ মার্চ সারাবিশ্বে অতি দ্রুত যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছিলেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিয়ো গুতেরেস৷‍

গুতেরেস বলেন, ‘‘এখন অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে এবং একজোট হয়ে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে আমাদের জীবনের আসল লড়াই লড়তে হবে৷‍ বন্দুক, কামান আর বিমানহামলা বন্ধ করুন৷‍’’

আফগানিস্তান  কঙ্গো

সিরিয়া ‍ছাড়াও যুদ্ধবিধ্বস্ত ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো এবং আফগানিস্তানে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়েছে৷‍ ‍ বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যুদ্ধের কারণে নাজুক অবস্থায় থাকা এসব দেশের জনগণ করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে মারা যাওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে আছেন৷‍ ‍

তালেবানের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার বলা হয়, দেশের যেসব এলাকায় করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ওইসব এলাকায় আপাতত যুদ্ধ বন্ধ রাখতের তারা রাজি৷‍ ‍ তবে জঙ্গি সংগঠনটি ভাইরাসের কারণে তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে বলে সংবাদ সংস্থা এপি যে খবর প্রকাশ করেছে তা সত্যি নয় বলে দাবি করেন তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ৷‍ ‍

তিনি বলেন, ‘‘তারা আমার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করেছে৷‍ ‍ তবে আল্লাহ মাফ করুন, যদি আমাদের নিয়ন্ত্রিত কোনো এলাকায় ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব হয় তবে আমরা সেখানে যুদ্ধ বন্ধ রাখবো, যেন স্বাস্থ্যকর্মীরা জনগণেকে সেবা দিতে পারেন৷‍

ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ থামছে না

ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন জোট৷‍ ‍ তাদের অস্ত্রের জোগান দিচ্ছে জার্মানি৷‍ ‍ জার্মান কোম্পানিগুলো গত বছরই সরকারের কাছ থেকে সৌদি জোটের কাছে ১০০ কোটি ইউরোর অস্ত্র বিক্রির অনুমতি পায়৷‍ ‍ অর্থমন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, বর্তমান করোনা সংকটের মধ্যেও অস্ত্র বিক্রি চলছে৷‍ ‍

করোনায় সারা বিশ্বে ১০ লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন৷‍ ‍ ‍মারা গেছেন ৫৩ হাজার ১১৬ জন৷‍

এসএনএল/এসিবি (এএফপি, এপি, ডিপিএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন