একনায়কতন্ত্রের পথে হাঁটছে তুরস্ক | বিশ্ব | DW | 01.03.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

তুরস্ক

একনায়কতন্ত্রের পথে হাঁটছে তুরস্ক

ইউরোপের সাংবিধানিক আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তুরস্ক একনায়কতন্ত্রের পথে হাঁটছে৷ তাই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তুরস্কের সংবিধান সংশোধনের পক্ষে মত দিয়েছেন তাঁরা৷ একটি জার্মান পত্রিকা তাদের মন্তব্য নিয়ে প্রতিবেদন করেছে৷

জার্মান-তুর্কি সাংবাদিক ডেনিজ ইউচেলের মুক্তি চান তাঁরা

জার্মান-তুর্কি সাংবাদিক ডেনিজ ইউচেলের মুক্তি চান তাঁরা

ভেনিস কমিশন হলো ইউরোপের সাংবিধানিক আইন বিশেষজ্ঞদের উপদেষ্টা কমিটি৷ এই কমিটির বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘‘তুরস্কের বর্তমান অবস্থা প্রমাণ করে যে দেশটি গণতন্ত্রের পথ থেকে কতটা সরে গেছে বা যাচ্ছে৷’’ বুধবার জার্মান পত্রিকা ‘স্যুড ডয়চে সাইটুং’ তাঁদের মতামতের ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদন করেছে৷ সেখানে তাঁরা বলেছেন, ‘‘তুরস্কে যে সংবিধান প্রণয়নের কথা বলা হচ্ছে, সেটা কার্যকর হলে দেশটিতে স্বৈরশাসন কায়েম হবে৷’’ জানুয়ারিতে তুরস্কের পার্লামেন্ট সংবিধানে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে৷ আর তা অনুমোদন করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এর্দোয়ান৷

সংবিধানের এ সব ধারার পরিবর্তনের ফলে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা আরও বাড়ছে৷ বিরোধী দলগুলো এরপর থেকেই বিক্ষোভ শুরু করেছে৷ কেননা সংবিধানের এ ধরনের পরিবর্তনের ফলে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট হবেন সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী৷ যে কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ার এবং কার্যকর করার ক্ষমতা থাকবে তাঁর হাতে৷ এমনকি তিনি একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে পারবেন, প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন যা অবৈধ৷ অর্থাৎ একটি রাজনৈতিক দল হবে রাষ্ট্রের অংশ অথবা স্বয়ং রাষ্ট্র, যা ভয়াবহ ঘটনা বলে মনে করেন তুরস্কের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেনিজ বাইকাল৷

জার্মানিতে সাংবাদিকের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ

জার্মান-তুর্কি সাংবাদিক ডেনিজ ইউচেলকে সন্ত্রাসী সংগঠনের সমর্থনে প্রচারণার অভিযোগে কারাদণ্ড দিয়েছে তুরস্কের আদালত৷ এর প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে জার্মানির রাজনীতিবিদরা৷ রাস্তায় নেমে এসে বিক্ষোভ জানাচ্ছে সাধারণ মানুষ৷ মঙ্গলবার জার্মানির রাজধানী বার্লিনে ব্যস্ত সময়ে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন শত শত মানুষ৷ তাঁদের হাতে ছিল ব্যানার, আর মুখে উচ্চারিত হচ্ছিল ‘ফ্রি ডেনিজ’ অর্থাৎ ডেনিজকে মুক্ত করো৷ বিক্ষোভ মিছিলটি তুরস্কের দূতাবাসে পৌঁছায়৷ সাংবাদিক ডেনিজকে আটকের ঘটনায় সরাসরি নিন্দা জানিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গাব্রিয়েল৷ ডেনিজ ইউচেল তুরস্কের কুর্দ অধিবাসীদের প্রতি তুর্কি সরকারের আচরণ সম্পর্কে একাধিক প্রবন্ধ লিখেছেন – যা তাঁকে আংকারার সুনজরে আনেনি বলে ধরে নেওয়া যায়৷

তুরস্কের রাষ্ট্রদূতকে সমন

মঙ্গলবার তুরস্কের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন পরররাষ্ট্রমন্ত্রী৷ তুরস্কে বাকস্বাধীনতার এবং সাংবাদিকদের স্বাধীনতার লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে সতর্ক করে দেন তিনি৷ ডেনিজকে কারাদণ্ডের ঘটনায় দু'দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হতে পারে বলে জানান তিনি৷ ২০০২ সালের পর এই প্রথম তুরস্কের কোনো জার্মান সাংবাদিকের কারাদণ্ড হলো৷

ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর লাখো গ্রেপ্তার

গত বছরের জুলাইতে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর গণমাধ্যম, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মী, শিক্ষক, সেনাবাহিনীর সদস্য, পুলিশসহ লাখো মানুষকে গণগ্রেপ্তার করা হয়৷ এক লাখেরও বেশি মানুষকে চাকুরি থেকে বরখাস্ত করা হয়৷

এপিবি/ডিজি (এপি, এএফপি, রয়টার্স, ডিপিএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন