1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

তুরস্ক

এর্দোয়ানকে আরো বেশি ক্ষমতা দেওয়া নিয়ে বিতর্কের শুরু

সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ব্যাপক নির্বাহী ক্ষমতা পাবেন ও প্রধানমন্ত্রীর পদটি বাতিল করা হবে৷ এমনকি তিনি তাঁর রাজনৈতিক দলের সদস্যও থাকতে পারবেন৷ সংসদীয় বিতর্ক চলবে দু'সপ্তাহ ধরে৷

গতবছরের শেষে একটি সংসদীয় পরিষদ নতুন ১৮ ধারার সংবিধানটির খসড়া সম্পর্কে একমত হয়৷ সংসদীয় আলাপ-আলোচনার পর প্রস্তাবটিকে সংসদে দু' পর্যায়ের ভোটে অনুমোদিত হতে হবে৷ অতঃপর একটি গণভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত অথবা প্রত্যাখ্যাত হবে৷

বর্তমান প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়েপ এর্দোয়ানের প্রতিষ্ঠিত ন্যায় ও উন্নয়ন দল (একেপি বা এ কে পার্টি) বহু বছর ধরে, এমনকি এর্দোয়ান যখন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখন থেকেই  সংবিধান পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন করে আসছে, কেননা, শক্তিশালী নেতৃত্ব অধিকতর সমৃদ্ধি এনে দেবে বলে একেপি মনে করে৷

একটি বিরোধী দলের সমর্থন

একে পার্টি তুর্কি সংসদে বৃহত্তম দল হলেও, সংবিধান সংসদের জন্য যে তিন-পঞ্চমাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন, তার জন্য তাদের আরো ১৪টি ভোট আবশ্যক৷ ৫৫০ আসনের তুর্কি সংসদে ৩৩০টি ভোট সংগ্রহের জন্য একেপি দল সংসদের ক্ষুদ্রতম গোষ্ঠী, এমএইচপি দলের উপর নির্ভরশীল৷ এই উগ্র জাতীয়তাবাদী ‘জাতীয় আন্দোলন দল'-এর সংসদে ৪০টি আসন আছে৷

সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত শলাপরামর্শ শুরু হওয়ার সময় থেকেই এমএইচপি দল একেপিকে সমর্থন করে আসছে৷ খাতাপত্রে বিরোধীদল হলেও, উভয় দলই তুরস্ককে ‘মহান' করে তোলার স্বপ্ন দেখে৷ তবে এমএইচপি দলের কিছু সাংসদ প্রেসিডেন্সিয়াল সিস্টেমের বিরোধিতা করেন৷ অবশ্য দলীয় প্রধান দেভলেৎ বাহচেলি ইতিমধ্যেই তাঁর সমর্থন ঘোষণা করেছেন৷ অপরদিকে একেপি দলের একক সাংসদরাও প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দিতে পারেন৷ কাজেই সংসদে ভোটের ফলাফল যে শেষমেষ কী হবে তা নিয়ে আগে থেকে ভবিষ্যদ্বাণী করা শক্ত৷

আতাতুর্কের স্বপ্ন

অটোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর নতুন তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা মুস্তাফা কেমাল আতাতুর্ক সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেন, যাতে একজনের হাতে বড় বেশি ক্ষমতা না থাকে৷ ১৯৮০ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর জেনারেল কেনান এভ্রেন দেশের বুনিয়াদী আইনের পুনর্বিন্যাস করেন৷ কিন্তু আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে তুরস্কের ৯৪ বছরের ইতিহাসে রাষ্ট্রপ্রধান ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা প্রচলনের প্রচেষ্টা এই প্রথম৷

তুরস্কের বৃহত্তম বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি) নতুন সংবিধানের বিরোধী৷ সিএইচপি'র উপ-সভাপতি বুলেন্ত তেজকান বলেছেন যে, এর ফলে ১০০ বছর আগে সুলতানের হাত থেকে যে ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, তা আবার ‘রাজপ্রাসাদের' হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হবে৷ ‘‘আমাদের প্রজাতন্ত্রের যা কিছু অর্জন, তা বিনষ্ট করবে এই সংবিধান সংশোধন'', বলেছেন তেজকান৷ এমনকি তিনি ‘‘একজন মানুষের একনায়কতন্ত্রের'' কথাও বলেন৷ সিএইচপি নেতা কেমাল কিলিচদারোগলু সরাসরি অভিযোগ করেছেন, ‘‘ওরা গণতান্ত্রিক সংসদীয় শাসনব্যবস্থাকে একটি সমগ্রতাবাদী শাসনব্যবস্থায় পরিণত করতে চাইছে''৷

এর্দোয়ান থাকতে পারবেন ২০২৯ সাল অবধি

খসড়া অনুযায়ী, এই সংবিধান সংশোধন অনুমোদিত হলে এর্দোয়ান আরো দু'টি পাঁচ বছরের কর্মকালের জন্য প্রেসিডেন্ট থাকতে পারবেন৷ তাঁর বর্তমান কর্মকালকে না ধরা হলে, এর অর্থ এই যে, এর্দোয়ান ২০২৯ সালে অবধি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট থাকতে পারবেন৷

এসি/এসিবি (কেএনএ, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন