‘ইরান গোপনে পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে′ | বিশ্ব | DW | 01.05.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ইরান

‘ইরান গোপনে পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে'

ইরানের পরমাণু অভিসন্ধির ‘প্রমাণ' পেশ করলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু৷ অ্যামেরিকা তাতে সন্তুষ্ট হলেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন সংশয় প্রকাশ করেছে৷ 

সোমবার বেশ ঘটা করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ভবনে এক নাটকীয় ‘প্রেজেন্টেশন' আয়োজন করেছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু৷ টেলিভিশনে একেবারে ‘প্রাইম টাইম' বেছে নিয়ে প্রথমে ইংরেজি, তারপর হিব্রু ভাষায় বক্তব্য রাখেন তিনি৷ ভিডিও, গ্রাফিক্স, মঞ্চসজ্জা – সব রকম ব্যবস্থা ছিল৷

তাঁর অভিযোগ, পরমাণু চুক্তি সত্ত্বেও ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির স্বপ্ন ত্যাগ করেনি৷ ‘আমাদ প্রকল্প' নামের এই গোপন কর্মসূচির আওতায় আর্কাইভে পরমাণু অস্ত্র তৈরির নক্সা, নথিপত্র ইত্যাদি সংরক্ষিত আছে৷ অস্ত্র তৈরির নতুন জ্ঞানও তাতে যোগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী৷ প্রায় এক লক্ষ ফাইল থেকে তা স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে৷

গোপন এই কর্মসূচির আওতায় ইরান ৫টি হিরোশিমা মাপের পরমাণু বোমা তৈরি করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে সেগুলি প্রয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে৷ অ্যামেরিকার পর ফ্রান্স ও জার্মানির কাছে এইসব তথ্য তুলে দেওয়া হবে, বলেন তিনি৷

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন, যাবতীয় তথ্য অনুযায়ী ইরানের নেতৃত্ব সে দেশের মানুষের কাছে পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি সম্পর্কে মিথ্যা বলেছে৷ ইসরায়েল যেসব তথ্য আবিষ্কার করেছে, তার ফলে ইরানের অভিসন্ধি আরও ভালো করে বোঝা যাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি৷ তবে নেতানিয়াহু যেসব নথিপত্র তুলে ধরেছেন, তা পরমাণু চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করছে কিনা, পম্পেও তা বলেননি৷ তাঁর মতে, আইনজীবীরা তা খতিয়ে দেখতে পারেন৷ উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী ১২ই মে ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি বাতিল করার হুমকি দিয়েছেন৷

ইরানের নেতৃত্ব নেতানিয়াহুর অভিযোগকে সরাসরি মিথ্যাচার হিসেবে নস্যাৎ করে দিয়েছে৷ সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভাদ জরিফ এক টুইট বার্তায় নেতানিয়াহু সম্পর্কে তীর্যক মন্তব্য করে মিথ্যেবাদী রাখাল ছেলের গল্পের উল্লেখ করেন৷

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনি বলেন, ইরান ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করছে, নেতানিয়াহুর বক্তব্যে এমন কোনো ইঙ্গিত নেই৷ সেই চুক্তি মোটেই বিশ্বাস ও আস্থার উপর নির্ভরশীল নয়৷ যাচাই করার এবং তথ্য খতিয়ে দেখার স্পষ্ট ও কড়া কাঠামোর ভিত্তিতে এই চুক্তি কার্যকর করা হচ্ছে, বলেন তিনি৷ আইএইএ-র গত ১০টি রিপোর্ট অনুযায়ী ইরান সব শর্ত মেনে চলছে৷

নেতানিয়াহু ‘প্রমাণ' হিসেবে যেসব নথিপত্র তুলে ধরেছেন, তার বেশিরভাগই ২০১৫ সালে পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরের আগের সময়ের৷ ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত এক টুইট বার্তায় বলেন, অতীতে ইরানের পরমাণু কার্যকলাপের প্রেক্ষিতে পরমাণু চুক্তির পক্ষে যুক্তি আরও জোরালো হয়ে উঠছে৷

ব্রিটেনও মনে করে যে, ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির ইচ্ছার কারণে আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থার ইতিহাসে সবচেয়ে বিস্তৃত ইনস্পেকশনের কাঠামো সৃষ্টি করা হয়েছিল৷ জার্মান সরকারের এক মুখপাত্র বলেছেন, পরমাণু চুক্তির আওতায় নিরপেক্ষ ইনস্পেকশনের সুযোগ বজায় রাখতে হবে৷

এসবি/এসিবি (রয়টার্স ডিপিএ)

 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন