1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান
বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীরা ডয়চে ভেলের প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলছেনছবি: Arafatul Islam/DW

‘‘ইউরোপের নাম আমাদের পাগল করেছে’’

অনুপম দেব কানুনজ্ঞ ভেলিকা ক্লাদুসা, বসনিয়া
২০ অক্টোবর ২০২০

এভাবেই ডয়চে ভেলের সাংবাদিকদের কাছে নিজের দুর্দশার কথা জানাচ্ছিলেন বসনিয়ায় আটকে পড়া এক বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী৷ কেউ যেন এভাবে বিদেশ আসার চিন্তাও না করে, এমন আহ্বান বসনিয়ার শরণার্থীদের৷

https://www.dw.com/bn/%E0%A6%87%E0%A6%89%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AE-%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%B2-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%9B%E0%A7%87/a-55331079

বসনিয়া-ক্রোয়েশিয়া সীমান্তে আটকে পড়া শত শত বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর খবর সংগ্রহে ডয়চে ভেলে বাংলার দুই সাংবাদিক অনুপম দেব কানুনজ্ঞ এবং আরাফাতুল ইসলাম রয়েছেন বসনিয়ার ভেলিকা ক্লাদুসাতে৷ তাদের কাছেই শরণার্থীরা তুলে ধরেছেন নিজেদের দুঃখের কথা

প্রায় প্রতিদিনই দালালদের মাধ্যমে বসনিয়া-ক্রোয়েশিয়া সীমান্ত পাড়ি দেয়ার জন্য দলে দলে রওয়ানা হন বসনিয়ায় থাকা বিভিন্ন দেশের শরণার্থীরা৷ তারা একে বলেন, ‘গেম মারা’৷ কখনও পায়ে হেঁটে, কখনও বাসে চড়ে, কখনও ট্যাক্সিতে তাদেরকে দালালেরা সীমান্তের আশেপাশে নিয়ে নামিয়ে দেন৷ এরপর তাদের জঙ্গলের মধ্য দিয়ে মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে সীমান্ত পাড়ি দিতে হয়৷

অলিউর রহমান ১৩ তম বারের মতো চেষ্টা করছেন সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার৷ বুশি নামের এক পাকিস্তানি দালালের মাধ্যমে বাসে চড়ে তিনি যাবেন ক্রোয়েশিয়া সীমান্তের পাশে কোনো এক জায়গায়৷ সেখান থেকে দুই দিন হেঁটে তারপর তারা পৌঁছাবেন সীমান্তে৷ অলিউর জানান, এরই মধ্যে তিনি দুইবার ক্রোয়েশিয়া পেরিয়ে স্লোভেনিয়াতে পৌঁছালেও, সেখানে ধরা পড়ে আবার ফেরত এসেছেন৷ ফেরত আসার পথে তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে বলেও ডয়চে ভেলের কাছে জানান তিনি৷

কিন্তু তারপরও কেন আবার একই পথে সীমান্ত পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে অলিউর বলেন, ‘‘এই গেমের জন্য অনেক টাকা খরচ হয়ে গেছে, প্রায় চার লক্ষ টাকা৷ এজন্য যেতেই হবে৷’’
 


 

সবার অবস্থা অবশ্য একরকম না৷ অনেকেই এখন ফেরত যাওয়ার ইচ্ছাও মনে মনে প্রকাশ করছেন৷ কিন্তু এরই মধ্যে প্রায় প্রত্যেকেরই খরচ হয়েছে বড় অঙ্কের টাকা৷

বসনিয়ার ভেলিকা ক্লাদুসাতে আটকেপড়াদের বেশিরভাগই বসনিয়া এসেছেন মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইরান, তুরস্ক, গ্রিস, মেসিডোনিয়া, সার্বিয়া হয়ে৷ অনেকেরই এরই মধ্যে খরচ হয়ে গেছে ১৫-২০ লাখ টাকা৷ কেউ কেউ ভিটে-মাটি বিক্রি বা বন্ধক রেখেও টাকা এনেছেন৷ ফলে দেশে ফিরে এখন চাকরি বা ব্যবসা করে সে ঋণ শোধ করা সম্ভব না বলেও মনে করছেন তারা৷

সিলেটের ছাতক থেকে আসা সাইফুর রহমান ডয়চে ভেলেকে জানান, তার বন্ধুরা এর আগে বেশ কয়েকবার ‘গেমে গিয়ে’ ব্যর্থ হয়েছেন, এবং বাজেভাবে আহত হয়ে এখন চিকিৎসা নিচ্ছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘ইউরোপের নামটাই আসলে আমাদের পাগল করেছে, তাই এই পর্যন্ত আসা৷’’

এখন বাংলাদেশে ফেরত যাবেন কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে সাইফুর বলেন, ‘‘আমার এখন পর্যন্ত ১৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে৷ কেউ যদি আমাকে বলে ১০ লাখ টাকা দিয়ে আমার জায়গায় আসবে, আমি পাঁচ লাখ টাকা লস দিয়ে হলেও দেশে চলে যাবো৷’’

যারা বাংলাদেশ বা অন্য যেকোন জায়গায় মোটামুটি পরিবার চালানোর মতো অর্থ উপার্জন করতে পারছেন, তারা যেন ভুলেও এই পথে ইউরোপ যাওয়ার জন্য না আসেন, সে অনুরোধও জানিয়েছেন সাইফুর৷

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

Russland | Wladimir Putin hält Rede an die Nation

ইউক্রেনের আরো কিছু অংশ কেড়ে নিচ্ছে রাশিয়া

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ
প্রথম পাতায় যান