আসছে বৃদ্ধ বাবা-মার স্বার্থে ভরণপোষণ সংক্রান্ত আইন | বিশ্ব | DW | 29.03.2012
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

আসছে বৃদ্ধ বাবা-মার স্বার্থে ভরণপোষণ সংক্রান্ত আইন

বৃদ্ধ বাবা-মাকে সন্তানরা যাতে ভরণপোষণ দিতে বাধ্য হয়, তার জন্য আইন করা হচ্ছে৷ সরকার এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিলেও, আইন যাতে দ্রুত হয় সেজন্য আদালতে গেছেন এক আইনজীবী৷ আর এনিয়ে সরকারকে নেটিশ দিয়েছে আদালত৷

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফরিদুজ্জামান ফরহাদ সিলেটের সাম্প্রতিক একটি ঘটনার কথা জানান ডয়চে ভেলেকে৷ তিনি বলেন, সেখানে একটি পরিবারে বৃদ্ধ বাবাকে বাড়িতেও থাকতে দেয়নি তাঁর একমাত্র সন্তান৷ অথচ সেই সন্তানকে তিনি উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন৷ প্রতিষ্ঠিত করেছেন৷ অ্যাডভোকেট ফরিদুজ্জামান ফরহাদ মনে করেন, বাংলাদেশে সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ লোপ পাচ্ছে৷ এ কারণে বাংলাদেশে এখন ইউরোপ বা অ্যামেরিকার মতো ‘ওল্ড হোম' গড়ে উঠছে৷ বৃদ্ধ বাবা-মায়ের শেষ আশ্রয়স্থল হচ্ছে এই হোমগুলি৷ অযত্ন অবহেলায় তাঁরা শেষ জীবন পার করছেন৷ যা এদেশের ঐতিহ্যের পরিপন্থি এবং অমানবিক৷

তাই বুধবার হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে একটি রিট আবেদন করেন ফরিদুজ্জামান ফরহাদ৷ আবেদনে তিনি বৃদ্ধ বাবা-মাকে সন্তানরা যাতে ভরণপোষণ দিতে বাধ্য থাকে, তার জন্য আইন করার কথা বলেন৷ আদালতও তাঁর আবেদনে সাড়া দিয়ে সরকারের প্রতি রুল জারি করেছে বলে জানা যায়৷ আদালত বলে, এ বিষয়ে আইন করতে সরকারকে কেন নির্দেশ দেয়া হবেনা, তা চার সপ্তাহের মধ্যে জানাতে হবে৷

Bangladesch Alte Menschen

বাংলাদেশেও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের শেষ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে ‘বৃদ্ধাশ্রম’!

অ্যাডভোকেট ফরিদুজ্জামান ফরহাদ জানান, এই আইন হলে বৃদ্ধ বাবা-মার ভরণপোষণের জন্য সন্তানদের আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ দিতে হবে৷ আর না দিলে জেল অথবা জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে৷

এ বিষয় নিয়ে যোগাযোগ করা হলে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানায় যে, তারা এনিয়ে একটি আইনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে৷ প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, বৃদ্ধ বাবা-মাকে সন্তানের সঙ্গে রাখতে হবে৷ ‘ওল্ড হোম' বা বৃদ্ধাশ্রমে রাখা যাবেনা ৷ তবে তাঁরা স্বেচ্ছায় অন্য কোনো বাড়িতে থাকতে চাইলে, সন্তানকে তাঁদের মাসিক আয়ের ১০ ভাগ দিতে হবে৷ একাধিক সন্তান হলে, তারা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ভরণপোষণের বিষয়টি ঠিক করবে৷ আর কেউ এই আইন না মানলে, তার সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা জরিমানা হবে৷

জানা গেছে, এ ধরণের একটি আইন করতে গত বছর জাতীয় সংসদে বেসরকারি দিবসে কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু প্রস্তাব উত্থাপন করেন৷ তার ভিত্তিতেই সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এই আইনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে৷ তবে তা আইনে পরিণত করতে আরো কয়েকটি ধাপ পেরোতে হবে৷

প্রতিবেদন: হারুন উর রশীদ স্বপন, ঢাকা

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন