আসক্তি কমাতে জার্মানির নতুন কৌশলপত্র | বিজ্ঞান পরিবেশ | DW | 21.02.2012
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞান পরিবেশ

আসক্তি কমাতে জার্মানির নতুন কৌশলপত্র

নেশা, তা সে যে ধরণেরই হোক না কেন পরিত্যাজ্য৷ জার্মানিতে এই নেশার আপদ বাড়ছে৷ আর তা নিয়ে জার্মান সরকারের চিন্তার শেষ নেই৷ এমনকি অভিবাসীদের মধ্যেও এই নেশা ছড়িয়ে পড়েছে৷

অনেক রকম নেশাতেই এখন জার্মানির সামাজিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে৷ এর মধ্যে রয়েছে অ্যালকোহল, ধূমপান, মাদক, কম্পিউটার গেমস এমনকি ইন্টারনেট পর্যন্ত৷ জার্মান সমাজ বিজ্ঞানীরা তাই ভাবছেন কীভাবে এইসব নেশা দূর করা যায়৷ ইতিমধ্যে জার্মানির সরকার নেশার হাত থেকে জনগণকে বাঁচানোর জন্য একটি জাতীয় কৌশলপত্র তৈরি করেছে৷

এইসব আসক্তির মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যেটা, সেটা হলো অ্যালকোহল৷ এই সমস্যা জার্মানিতে আগেও ছিল এখনও রয়েছে৷ বিশ্বে সবচেয়ে বেশি অ্যালকোহল পান করা হয় যেসব দেশে, জার্মানি তার মধ্যে অন্যতম৷ অ্যালকোহল শুধু নেশার সমস্যা হলেও যথেষ্ট ছিল, কিন্তু এর কারণে সামাজিক অস্থিরতাও সৃষ্টি হচ্ছে৷ জার্মান কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি তিনটি অপরাধের একটি সংঘটিত হচ্ছে মদ্যপান ঘটিত কারণে৷ এছাড়া প্রতি বছর জার্মানিতে অ্যালকোহল সংশ্লিষ্ট অসুস্থতার পেছনে খরচ হচ্ছে ২৬৭ বিলিয়ন ইউরো৷ জার্মান কৌশলপত্র অনুযায়ী, মানুষের মধ্যে মদ্যপানের হার কিছুটা কমে আসলেও এটাই এখন এক নম্বর সমস্যা৷ তবে বয়স্করা যেমন মদ্যপানের খারাপ দিক সম্পর্কে সচেতন হচ্ছে, তরুণদের মধ্যে ঘটছে তার উল্টোটা৷ বিশেষ করে টিনেজারদের মধ্যে অ্যালকোহল প্রীতি দিন দিন বাড়ছে৷ জার্মানিতে ১৬ বছর বয়স হলেই যে কেউ বিয়ার এবং ওয়াইন কিনতে পারে৷ তবে হুইস্কির মত কড়া অ্যালকোহল কেনার অনুমতির জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হয় ১৮ হওয়া পর্যন্ত৷ জার্মান কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত অ্যালকোহল পানের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করার জন্য সম্প্রতি প্রচারণা শুরু করেছে৷ জার্মানির ড্রাগ কমিশনার মেশ্টহিল্ড ডিকমান্স বলেছেন, মদ্যপান থেকে টিনেজারদের রক্ষার জন্য প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলোকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে৷

Flash-Galerie Computerspiel Command & Conquer Tiberian Twilight

দ্বিতীয় যে সমস্যাটি এখন জার্মানিতে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে সেটি হলো ধূমপান৷ তবে আশার কথা হলো, টিনেজারদের মধ্যে ধূমপানের হার দিন দিন কমছে৷ এমনকি এটা গত কয়েকবছরে মধ্যে সর্বনিম্নে পৌঁছেছে৷ তবে কর্তৃপক্ষ আরও বেশ কিছু দিক খুঁজে পেয়েছেন যেটি তাদের শঙ্কিত করে তুলেছে৷ তার একটি হলো ইন্টারনেট আসক্তি৷ বিশেষজ্ঞরা দেখছেন জার্মান কিশোর কিশোরীরা ঘন্টার পর ঘন্টা ইন্টারনেটে সময় কাটাচ্ছে৷ এবং এজন্য তাদের বাড়িতে কিংবা ক্যাফেতে কম্পিউটারের সামনে বসে থাকতে হচ্ছে না৷ অত্যাধুনিক মোবাইলের কল্যাণে তাদের হাতের কাছেই রয়েছে ইন্টারনেট সংযোগ৷ কর্তৃপক্ষের হিসাব মতো, দেশে আড়াই লাখের মত ইন্টারনেট আসক্ত রয়েছে যাদের বয়স ১৪ থেকে ২৪ বছর৷ তবে এই আসক্তিকে এখনও অসুস্থতার পর্যায়ে ফেলতে চাচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা৷

এর বাইরে আরও একটি সামাজিক সমস্যা বড় হয়ে দেখা দিয়েছে জার্মানিতে৷ সেটি হলো মাদক গ্রহণ এবং অভিবাসীদের মধ্যে এই প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে৷ দেখা গেছে, রুশ বংশোদ্ভূত তরুণ তরুণীদের মধ্যে আফিম জাতীয় মাদক গ্রহণের প্রবণতা বেশি৷ অন্যদিকে মুসলিম দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের সন্তানদের মধ্যে অ্যালকোহল পান এবং গাঁজা সেবনের প্রবণতা বেশী দেখা গেছে৷ এছাড়া বিদেশী বংশোদ্ভূতদের মধ্যে জুয়া খেলার প্রতি আসক্তিও একটি বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিচ্ছে৷ এদের অনেকেই জার্মান ভাষায় দুর্বলতার কারণে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয় না৷ জার্মান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এসব সমস্যা দূর করতে বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছে৷

প্রতিবেদন: রিয়াজুল ইসলাম
সম্পাদনা: অরুণ শঙ্কর চৌধুরী

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন