‘আল্লাহর দল’ নিষিদ্ধ | বিশ্ব | DW | 07.11.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

‘আল্লাহর দল’ নিষিদ্ধ

বাংলাদেশে আরো একটি জঙ্গি সংগঠন ‘আল্লাহর দল’কে নিষিদ্ধ করেছে সরকার৷ বড় ধরনের নাশকতা পরিকল্পনার অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে৷

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

আগস্টে রাজধানীর হাতিরঝিল এবং দক্ষিনখান এলাকা থেকে আল্লাহর দলের ভারপ্রাপ্ত আমির ইব্রাহিম আহমেদ হিরোসহ ৮ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১৷ জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় বিস্তারিত তথ্য৷

জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে যুক্ত র‌্যাবের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার জানান, ‘‘সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করে ১৯৯৫ সালে৷ পরে তারা জেএমবির সঙ্গে একীভূত হয়ে যায়৷ ২০০৫ সালে দেশের ৬৩ জেলায় একসঙ্গে বোমা হামলায় জেএমবির সাথে তারাও অংশ নেয়৷ আল্লাহর দলের আমীর মতিন মেহেদি সিরিজ বোমা হামলায় গ্রেপ্তার হন ২০০৭ সালে৷ তিনি ওই মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে এখন কারাগারে আছেন৷’’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছিুক ওই কর্মকর্তা জানান, জেএমবি দুর্বল হয়ে পড়ায় আল্লাহর দল আবার নতুন করে নিজেরাই সংগঠিত করার চেষ্টা করে৷ মতিন মেহেদি গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত আমির ইব্রাহিম আহমেদ হিরো মূল দায়িত্বে ছিলেন৷ দলে অধিনায়ক হিসেবে পরিচিত ইব্রাহিম৷

বাংলাদেশের জনসাধারণের কাছে প্রায় অপরিচিত এই সংগঠন হঠাৎ করে কেনো নিষিদ্ধ করা হলো, তা জানতে গিয়ে জানা গেছে বেশ কিছু নতুন তথ্য৷

আইনশৃ্ঙ্খলা বাহিনীর কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে ধীরে ধীরে নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করছিল ‘আল্লাহর দল’৷ সংগঠনটির সদস্য সংখ্যা কত তা র‌্যাব এখনও নিশ্চিত হতে না পারলেও অন্য জঙ্গি সংগঠনের চেয়ে এটি বেশ ভালো অবস্থানে আছে বলেই ধারণা তাদের৷ রিক্রুটমেন্টের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের টার্গেট করছিল ‘আল্লাহর দল’৷ ‘ট্রেইনড’ বাহিনী গড়ার লক্ষ্যে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবির অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের দলে ভেড়ানোর ছিল নতুন কৌশল৷

র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার-বিন- কাশেম গত সেপ্টেম্বরে এক প্রেস ব্রিফিং-এ বলেন, ‘‘আটকদের কাছ থেকে জানা গেছে, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাকরিচ্যুতদেরও দলে ভেড়ানোর কাজ করছিল৷ তারা অস্ত্র সংগ্রহে ব্যর্থ হয়ে এই কৌশল অবলম্বন করে৷’’ তবে বৃহস্পতিবার তিনি বা ব়্যাবের অন্য কোনো কর্মকর্তা ডয়চে ভেলেকে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য জানাতে রাজি হননি৷

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, ‘‘দেশে তাদের অর্থের উৎস আমরা জানতে পেরেছি৷ তবে বিদেশ থেকে তারা অর্থ পায় কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি৷ তাদের কতগুলো ব্যাংক অ্যাকাউন্টের খোঁজ পাওয়া গেছে৷ তাদের ফান্ড বেশ বড়৷’’

৬৩ জেলায় বোমা হামলার পর আল্লাহর দলের সদস্যদের আর কোনো নাশকতায় অংশ নেয়ার তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নেই বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা৷ তবে বড় ধরনের নাশকতার জন্য সংগঠনকে শক্তিশালী করা হচ্ছিলো বলে তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি৷ তবে দলটির সামরিক শাখা এখনও ততোটা শক্তিশালী নয় বলেও জানান তিনি৷

অডিও শুনুন 01:31

‘তাদের নিষিদ্ধ করলেই তো তারা আর শেষ হয়ে যায় না’

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুর রশীদ বলেন, ‘‘জঙ্গিরা তাদের পৃষ্ঠপোষকদের নির্দেশনা অনুযায়ী পক্ষ পরিবর্তন বা নতুন গ্রুপে যোগ দিয়ে কাজ করে৷ আল্লাহর দলের ব্যাপারে যেসব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তাতে তাই প্রতীয়মান হয়৷ তারা প্রথমে স্বাধীনভাবে আত্মপ্রকাশ করলেও পরে জেএমবির সাথে কাজ করে৷ জেএমবি দুর্বল হওয়ার পর এখন তারা আবার আলাদাভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে৷ এটা তাদের আরেকটি কৌশল৷’’

তিনি বলেন, ‘‘জঙ্গিদের আরেকটি কৌশল হলো যখন কোনো একটি গ্রুপ পরিচিত হয়ে যায়, চাপের মুখে পড়ে, তখন তারা নতুন নামে অথবা নতুন কৌশলে কাজ করে৷ তাই নতুন নতুন জঙ্গি গ্রুপের নাম আমরা জানতে পারি৷ তাদের নিষিদ্ধ করলেই তো তারা আর শেষ হয়ে যায় না৷ তারা নানাভাবে তাদের তৎপরতা চালাতে চেষ্টা করে৷’’

র‌্যাব জানিয়েছে, ২০১০ সাল থেকে তারা এ পর্যন্ত আল্লাহর দলের মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে৷ তবে এর বাইরে পুলিশও বিভিন্ন সময় আল্লাহর দলের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে৷ ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পুলিশ ঠাকুরগাঁও থেকে আল্লাহর দলের চার সদস্যকে আটক করে৷

বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি তালিকায় আল্লাহর দলসহ আটটি সংগঠন রয়েছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন