আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুবরণ | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 18.09.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুবরণ

হাটহাজারী বড় মাদ্রাসার মহাপরিচালকের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর একদিন পরই মারা গেলেন হেফাজতে ইসলামের সর্বোচ্চ নেতা শাহ আহমদ শফী৷ সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে৷

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে পুরান ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন৷ হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগরের নেতা জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহসভাপতি মাওলানা আব্দুর রউফ ইউসুফি বাংলাদেশে ডয়চে ভেলের কনটেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এই তথ্য জানান৷ উন্নত চিকিৎসার জন্য বিকালে হেলিকপ্টারে করে তাকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছিল৷

ইসলামী ঐক্য জোটের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আলতাফ হোসেন বিডিনিউজকে বলেন, ‘‘উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ বিকালে হেলিকপ্টারে উনাকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছিল৷ আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তির পর সন্ধ্যায় তিনি ইন্তেকাল করেন৷’’

ইসলামি ঐক্যজোটের মহাসচিব ও হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ সংবাদ মাধ্যমটিকে জানান, শাহ আহমদ শফীর বয়স হয়েছিল ১০৩ বছর৷ দীর্ঘদিন ধরে তিনি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, শ্বাসকষ্টসহ বার্ধক্যজনিত দুর্বলতায় ভুগছিলেন৷

হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবদী বিডিনিউজকে জানিয়েছেন, শনিবার বাদ জোহর হাটহাজারী মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে জানাজা হবে তাদের প্রয়াত আমিরের। 

মাদ্রাসা কবরস্থানেই আহমদ শফীকে দাফন করার কথা রয়েছে৷ প্রাথমিকভাবে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মাদ্রাসার শূরা কমিটির (পরিচালনা কমিটি) সদস্য সালাহউদ্দিন নানুপুরী। 

আল্লামা শফী রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা মাদ্রাসা, পটিয়ার আল জামিয়াতুল আরাবিয়া মাদ্রাসা এবং হাটহাজারীর দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন৷ এরপর ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসাতেও চার বছর শিক্ষা নেন৷ ১৯৮৬ সালে হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক পদে যোগ দেন তিনি৷ এরপর থেকে টানা ৩৪ বছর ওই পদে ছিলেন তিনি৷

বাংলায় ১৩টি ও উর্দুতে নয়টি বইয়ের রচয়িতা শফী নারীবিরোধী নানা বক্তব্যের জন্য বিভিন্ন সময় সমালোচিত হন৷ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে ২০১৩ সালে গণজাগরণ আন্দোলন শুরুর পর হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে তিনি বেশি আলোচনায় আসেন৷ ২০১৭ সালে তার সঙ্গে বৈঠকের পর কওমির সনদের স্বীকৃতি এবং সুপ্রিম কোর্ট থেকে ভাস্কর্য অপসারণের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷

হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক হিসেবে কওমি মাদ্রাসাগুলোর নেতৃত্ব দিয়ে আসা আহমদ শফী ‘বড় হুজুর' নামে পরিচিত৷কওমি মাদ্রাসা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশেরও (বেফাক) সভাপতি ছিলেন তিনি৷ এছাড়া হেফাজতে ইসলাম নামে সংগঠনের আমিরের দায়িত্বও পালন করেন৷

দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার নায়েবে মুহতামিম বা সহকারি পরিচালকের পদে ছিলেন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব জুনাইদ বাবুনগরী৷ অসুস্থ আল্লামা শফীর উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়ে কয়েক মাস আগে বাবুনগরীর সঙ্গে শফী সমর্থকদের দ্বন্দ্ব বাঁধে৷ চলতি বছরের জুনে সহকারি পরিচালকের পদ হারান বাবুনগরী৷ আহমদ শফী আজীবন মুহতামিম পদে থাকবেন বলেও শূরা কমিটির সভায় তখন সিদ্ধান্ত হয়৷

বুধবার হাটহাজারী বড় মাদ্রাসায় কয়েকশ শিক্ষার্থী বিক্ষোভ শুরু করেন৷ তারা আল্লামা শফীর অব্যাহতি এবং তার ছেলে মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক আনাস মাদানির বহিষ্কার দাবিতে বিভিন্ন কক্ষে ভাংচুরও চালান৷ সেই সঙ্গে আনাস মাদানি কর্তৃক অব্যাহতি দেওয়া তিন শিক্ষককে পুনর্বহাল, তার নিয়োগ দেয়া ‘অযোগ্য ও বদ আখলাকের' শিক্ষক ও স্টাফদের ছাঁটাই এবং মাদ্রাসার ছাত্রদের উপর জুলুম ও হয়রানি বন্ধ করার দাবি জানায়৷

বৃহস্পতিবার রাতে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির বৈঠকে আল্লামা শফী পদত্যাগ করেন বলে জানা যায়৷ তার ছেলেসহ দুই শিক্ষককে অব্যাহতিও দেয়া হয়৷ বৈঠকের পর আহমদ শফীকে মাদ্রাসাটি থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে চট্টগ্রাম শহরের একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়৷ একদিন পরই ঢাকায় মারা গেলেন তিনি৷

এফএস/এসিবি (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন