‘আলিয়ার সাথে কওমিকে গুলিয়ে ফেলা ভুল’ | আলাপ | DW | 22.01.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার

‘আলিয়ার সাথে কওমিকে গুলিয়ে ফেলা ভুল’

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কায়সার আহমেদ মনে করেন, আলিয়া মাদ্রাসা আর কওমি মাদ্রাসার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে আর কর্মক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়ছে৷ ডয়চে ভেলেকে দেয়া তার সাক্ষাৎকারের বিস্তারিত...

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কায়সার আহমেদ

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কায়সার আহমেদ

ডয়চে ভেলে: মাদ্রাসার সিলেবাসে  কি ‘সাধারণ শিক্ষার’ বিষয়গুলোও থাকে?

কায়সার আহমেদ: অবশ্যই৷ সাধারণ শিক্ষায় যা যা পড়ানো হয় তার পুরোটাই মাদ্রাসায় পড়ানো হয়৷ প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা, ইংরেজি, বিজ্ঞান সবই পড়ানো হয়৷ অতিরিক্ত আরো তিন থেকে পাঁচটি ইসলামি বিষয়ও পড়ানো হয়৷ জাতীয় শিক্ষা কারিকুলাম যা, মাদ্রাসায়ও তাই৷

পাঠ্যপুস্তক ও পাঠ্যসূচি কারা ঠিক করেন?

পুরোটাই ঠিক করে জাতীয় শিক্ষাক্রম এবং পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)৷

মাদ্রাসার যে-কোনো পর্যায় থেকে সাধারণ শিক্ষায় যাওয়ার সুযোগ আছে?

সুযোগ আছে এবং অনেকেই এখান থেকে সাধারণ শিক্ষায় যাচ্ছেন৷ মাদ্রাসা থেকে আলিম পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের যে-কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছেন৷ মেডিক্যালে ভর্তি হচ্ছেন৷ এমনকি বুয়েটেও ভর্তি হচ্ছেন৷

অডিও শুনুন 08:21

‘সাধারণ শিক্ষায় যা যা পড়ানো হয় তার পুরোটাই মাদ্রাসায় পড়ানো হয়’

সাধারণ শিক্ষার সাথে মাদ্রাসা শিক্ষার মান কিভাবে সমন্বয় করা হয়?

জেডিসি হচ্ছে অষ্টম শ্রেণির জেএসসি'র সমান, দাখিল এসএসসির সমান আর আলিম এইচএসসির সমান৷

মাদ্রাসায় শারীরিক ও মানসিক ‘শিক্ষার' কি কোনো ব্যবস্থা আছে?

আছে৷ খেলাধুলা, শরীর চর্চা, সহশিক্ষা, চারু ও কারু শিক্ষাসহ সব ধরনের ব্যবস্থাই মাদ্রাসায় আছে৷

চাকরির ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য করা হয় কিনা...

কোনো পার্থক্য করা হয় না৷ কেনো কোনো ক্ষেত্রে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এগিয়ে থাকেন৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায়ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা উপরের দিকে থাকেন৷ মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষার পাঠ্যসূচি ও পাঠক্রম যেহেতু একইরকম তাই পার্থক্যের কোনো কারণ নেই৷ তারা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারও হচ্ছেন৷ বাকিটা নির্ভর করে ব্যক্তির যোগ্যতা ও দক্ষতার ওপর৷

মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে আছে, চাকরি পায় না- মানুষের মধ্যে এমন ধারণার কারণ কী?

এখানে দুইটি ধারা আছে৷ আলিয়া ধারার শিক্ষা আছে, আবার কওমি ধারার মাদ্রাসাও আছে৷ কেউ যদি কওমির সাথে আলিয়াকে গুলিয়ে ফেলেন তাহলে ওই ধারণা তৈরি হতে পারে৷ কওমিতে তো সাধারণ পাঠ্যসূচি ও পাঠক্রম নেই৷ ওখানে কী পড়ানো হয় তা-ও তো প্রকাশ করা হয় না ঠিকভাবে৷ এখন কওমি মাদ্রাসায় পড়ে যখন কেউ একজন সাধারণ চাকরি পায় না, তখন সাধারণ মানুষের ধারণা হয় যে, মাদ্রাসায় পড়লে চাকরি পাওয়া যায় না৷ তারা গণিত, ইংরেজি , বিজ্ঞান পড়েন না৷ তাহলে সাধারণ চাকরি পাবেন কিভাবে?

আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষকরা কি সাধারন শিক্ষায় শিক্ষিত, নাকি মাদ্রাসা পাস করা?

না না, সেটা নয়৷ যিনি আলিম স্তরে বাংলা পড়ান, তিনি অবশ্যই বাংলা সাহিত্যে এমএ পাস করেছেন৷ যিনি ইংরেজি পড়ান, তিনি ইংরেজি সাহিত্যে এমএ পাস করেছেন৷ যিনি ফিজিক্স পড়ান, তিনি ফিজিক্সে অনার্স ও মাস্টার্স করা৷

মাদ্রাসায় কি বিভিন্ন বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স পড়ানো হয়?

সাধারণ বিষয়, যেমন বাংলা, ইংরেজি, গণিত, পদার্থ বিজ্ঞান- এসব বিষয়ে অনার্স, মাস্টার্স পড়ানো হয় না৷ সেখানে  কোরআন, হাদিস, ফিকাহ- এসব বিষয়ের ওপর অনার্স- মাস্টার্স করানো হয়৷

কওমি ধারার শিক্ষাকে কি সাধারণ শিক্ষার সাথে সমন্বয় করা সম্ভব?

কেন সম্ভব হবে না? সরকারও তো সেটা চেষ্টা করছে৷ তাদের সাথে কথাও হচ্ছে৷ তারাও তো এদেশের নাগরিক৷ তারা বঞ্চিত হবেন কেন?

নির্বাচিত প্রতিবেদন