আরব দেশগুলিতে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কতটা? | বিশ্ব | DW | 02.05.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

আরব দেশগুলিতে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কতটা?

‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স' সংগঠনের তালিকায় সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে আরব দেশগুলির স্থান একেবারে নীচের দিকে৷ এই সব দেশে সরকারি বিধিনিয়ম লঙ্ঘণ করলে সাংবাদিকদের কড়া সাজা হতে পারে৷

২০১৩ সালের জুলাই মাসে মিশরের সামরিক হর্তাকর্তারা নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মেদ মুরসিকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করেন৷ মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য মুরসি মিশরকে একটি মধ্যমপন্থি ইসলামি দেশে পরিণত করতে চান, এমন আভাস দেখা দিয়েছিল৷ মুরসির সমর্থকরা মুরসির অপসারণের বিরুদ্ধে সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে প্রতিবাদ জানান – যেমন পূর্ব কায়রোর নসর সিটি এলাকার রাবা-আল-আদাউইয়া চত্বরে৷

১৪ই আগস্ট তারিখে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা রাবা-আল-আদাউইয়া চত্বরে একটি সুবিশাল বিক্ষোভ সমাবেশকে ছত্রভঙ্গ করার প্রচেষ্টায় গুলি চালায়: প্রাণ হারান ৮০০-র বেশি মানুষ, আহত হন হাজার জনের বেশি৷

আলোকচিত্রী মাহমুদ আবু জায়িদ ওরফে শওকান সেদিন অকুস্থলে ছিলেন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের ছবি তুলছিলেন৷ তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় ও তাঁর বিরুদ্ধে – অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ভাষায় – ন'টি ‘‘ভুয়ো অভিযোগে'' মামলা করা হয়, যার মধ্যে হত্যাও ছিল৷ সেযাবৎ শওকান কারারুদ্ধ রয়েছেন৷ তাঁর মামলার শুনানি ৪০ বার পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে৷

Ägypten Kampagne Freedom Of Shawkan Mahmoud Abou Zeid Fotojournalist (Freedom Of Shawkan campaign)

আলোকচিত্রী মাহমুদ আবু জায়িদ ওরফে শওকান

শওকান সম্প্রতি ইউনেস্কোর সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হওয়ার পর মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘‘গভীর দুঃখ'' প্রকাশ করেছে যে, ‘‘সন্ত্রাস ও অপরাধ সংক্রান্ত কার্যকলাপের দায়ে অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে'' সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে৷

অপ্রিয় সাংবাদিকদের ভাগ্যে যা জোটে

শওকানের ঘটনা থেকেই বোঝা যায়, মিশর কেন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স সংগঠনের প্রকাশিত সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সংক্রান্ত তালিকায় ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৬১তম স্থান অধিকার করেছে – ইরাকের একটি স্থান তলায় ও লিবিয়ার একটি স্থান আগে৷

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স সংগঠনের গণমাধ্যম সংযোগ কর্মকর্তা ক্রিস্টফ ড্রায়ার বলেন যে, মিশরের প্রশাসন প্রধানত দু'টি কারণে অপ্রিয় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন: ‘‘সরকার এখন নিজের প্রাণ বাঁচাতে ব্যস্ত৷ বিশেষ করে অর্থনৈতিক সংকট এমন একটা পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, প্রশাসন কোনো ধরনের সমালোচনাকে প্রশ্রয় দিতে চান না৷ মুবারকের কী  ঘটেছিল, সকলের তা স্মরণে আছে এবং তা আরো একবার ঘটতে দিতে সরকার রাজি নন৷''

তলানি

সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে আরব দেশগুলির স্থান সাধারণভাবে নীচের দিকে৷ তাদের মধ্যে সেরা হলো টিউনিশিয়া: উত্তর আফ্রিকার এই দেশটি রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের তালিকায় ৯৭তম স্থান অধিকার করেছে৷ আরব দেশগুলির মধ্যে দ্বিতীয় স্থানাধিকারী কাতার কিন্তু রয়েছে ১২৫তম স্থানে – অথচ কাতার আল-জাজিরার দোহাই দিয়ে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে নিজেদের উদারপন্থি সাংবাদিকতার ঘাঁটি বলে প্রচার করে থাকে৷ তবে আরব উপদ্বীপে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে কাতারের অবস্থানই সবচেয়ে ভালো, কেননা বাহরাইনকে পাওয়া যাবে ১৬৬তম স্থানে, ইয়েমেনকে ১৬৭-তে ও সৌদি আরবকে ১৬৯তম স্থানে৷

লক্ষণীয় যে,সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সংক্রান্ত পরিস্থিতিকিন্তু সংশ্লিষ্ট দেশটির অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত নয় – তালিকায় আরব বিশ্বের দরিদ্রতম দেশ ইয়েমেনের স্থান ধনি দেশ সৌদি আরবের উপরে৷ তিন বছর ধরে গৃহযুদ্ধ চলা সত্ত্বেও ইয়েমেনে সাংবাদিকদের পরিস্থিতির অবনতি ঘটেনি, বরং তার উলটো: তথাকথিত ‘আরব বসন্ত' শুরু হওয়ার ঠিক পরে, অর্থাৎ ২০১২ সালে ইয়েমেনে তৎকালীন তালিকায় ১৭১তম স্থান অধিকার করেছিল; দেশটি আজ তার চার ঘর উপরে৷

রাজনৈতিক সংস্কৃতি

 সংবাদপত্রের স্বাধীনতা একটি দেশেররাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিফলন৷ অপ্রিয় ও অপ্রীতিকর খবরাখবর রোধ করাই অধিকাংশ আরব দেশের সরকারবর্গের লক্ষ্য – বলেন ক্রিস্টফ ড্রায়ার৷ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দমননীতির অর্থ জনসাধারণকেও সাবধান করে দেওয়া, মাথা গুঁজে ও মুখ বুজে না থাকার কী ফল হতে পারে৷

সংযুক্ত আরব আমিরাতের লেখক ও সংবাদপত্রের কর্মী আহমেদ মনসুর ২০১১ সাল যাবৎ কারাবাস করছেন, কেননা তিনি নাকি দেশের প্রেসিডেন্ট খলিফা বিন জায়িদ আল নাহিয়ানের অবমাননা করেছেন৷

মনসুরকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় ও পরে রাজক্ষমা করা হয়৷ ২০১৭ সালের মার্চ মাসে তাঁকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়: এবার অভিযোগ, তিনি নাকি জাতীয় ঐক্যকে বিপন্ন করেছেন৷ এর স্বল্প আগে মনসুর নিকটপ্রাচ্যে যাবতীয় রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবি জানিয়ে প্রকাশিত একটি আবেদনে স্বাক্ষর করেছিলেন এবং আমিরাতে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা প্রসঙ্গেফরাসি ল্যমঁদ দৈনিকে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে মন্তব্য করেছিলেন যে, ‘‘ওরা যাবতীয় স্বাধীন কণ্ঠকে স্তব্ধ করতে চায়৷'' সেটাই ছিল তাঁর অপরাধ৷ ২০১৮ সালের মার্চ মাসে মনসুরের বিরুদ্ধে মামলার শুনানি শুরু হওয়ার কথা ছিল – অর্থাৎ তিনি গ্রেপ্তার হবার এক বছর পরে৷ কিন্তু অভিযোগের বয়ানই নাকি এ পর্যন্ত দাখিল করা হয়নি৷

ভিডিও দেখুন 02:18
এখন লাইভ
02:18 মিনিট

#FreeRaif: Can artists topple tyrants?

নিপীড়নের যুক্তি হল ‘দেশের স্থিতি'

আরব বসন্ত শুরু হবার সাত বছর পরে আরব দেশগুলির সরকারবর্গ জনসাধারণকে মোটামুটি আবার নিয়ন্ত্রণে এনে ফেলতে পেরেছেন৷ আইনশৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য নাকি কড়া শাসন ছাড়া আর কোনো পন্থা নেই, এই হলো তাঁদের যুক্তি – লোকদেখানো যুক্তি, বলে ক্রিস্টফ ড্রায়ারের ধারণা, কেননা আরব বসন্তই প্রমাণ করে দিয়েছে যে, বিভিন্ন দেশের ‘স্থিতিশীল' প্রশাসন স্রোতের মুখে কুটোর মতো ভেসে গেছে৷ আরব বসন্তের সাত বছর পরেও তা ঘটতে পারে, কেননা মানুষের দুঃখ-দুর্দশা ও অসন্তোষ একই রয়ে গেছে৷

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের মতে জার্মান সরকার ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচিত, আরব দেশগুলির কাছে আরো ভালোভাবে স্পষ্ট করে দেওয়া যে, দমননীতির মাধ্যমে সৃষ্ট ‘স্থিতি'-তে কেউ আগ্রহী নয়৷  এছাড়া সমালোচনার গলা টিপে ধরলে শুধু চাপই বৃদ্ধি পায় ও শেষমেষ বিস্ফোরণের সৃষ্টি করে৷

ক্যার্স্টেন ক্নিপ/এসি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন