আফগান শরণার্থীকে ফিরিয়ে এনে ভুল শুধরালো জার্মানি  | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 13.08.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

জার্মানি

আফগান শরণার্থীকে ফিরিয়ে এনে ভুল শুধরালো জার্মানি 

এক আফগান শরণার্থীকে ভুল করে জার্মানি থেকে ফেরত পাঠানোর পর আবার ফিরিয়েও এনেছে কর্তৃপক্ষ৷ গত জুলাই মাসে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়েছিল তাঁকে৷ জার্মান ফেডারেল পুলিশ জানায়, গত রবিবার তাঁকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে৷

শুধু ২০ বছর বয়সি এ আফগান শরণার্থী নয়, গত কয়েক মাসে বিভিন্ন দেশ থেকে জার্মানিতে আশ্রয় নিতে আসা বেশ কিছু শরণার্থীকে ভুল বশত তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে

জার্মানির ফেডারেল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জার্মান ‘ব্যক্তিগত গোপনীয়তা আইন' অনুযায়ী নসিবুল্লাহ এস. নামের এ শরণার্থীকে আফগানিস্তান থেকে আসা আরো ৬৯ জন আশ্রয়প্রার্থীর সাথে গত জুলাই মাসে দেশে ফেরত পাঠানো হয়৷ আশ্রয় বিষয়ে দায়ের করা  নসিবুল্লাহর আবেদনটি গত এপ্রিল মাসে খারিজ হয়ে গেলেও তিনি এ বিষয়ে জার্মানির গ্রাইফসভাল্ড শহরে প্রশাসনিক আদালতে করা আবেদনের চুড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিলেন৷

এদিকে নসিবুল্লাহকে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রায় দু'সপ্তাহ পর প্রশাসনিক আদালতে দায়ের করা তাঁর আবেদনের চুড়ান্ত মীমাংসা না হওয়ার বিষয়টি নজরে আসে কর্তৃপক্ষের৷ চুড়ান্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নসিবুল্লাহকে জার্মানিতে ফিরিয়ে আনা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ৷ জার্মানির ‘ফেডারেল অফিস ফর মাইগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি' কর্তৃর্পক্ষ এ বিষয়টিকে ‘প্রক্রিয়াগত ভুল' বলে স্বীকার করেছে৷

বিন লাদেনের ‘দেহরক্ষী'

প্রায় দু্'দশক জার্মানিতে আবস্থান করার পর টিউনিশিয়ান আশ্রয়প্রার্থী সামি এ.-কে দেশে ফেরত পাঠায় জার্মান কর্তৃপক্ষ৷ ওসামা বিন লাদেনের দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে৷ কিন্তু জার্মান আইনে নিজ দেশে নির্যাতিত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে কোনো ব্যক্তিকে দেশে ফেরত না পাঠানোর বিধান রয়েছে৷ এ আইন অনুযায়ী, সামিকে দেশে ফেরত না পাঠানোর বিষয়ে আদালতের একটি নির্দেশনা ছিল৷ আদালতের নির্দেশনার বিষয়টি পাশ কাটিয়ে তাকে টিউনিশিয়াতে ফেরত পাঠানো হয়৷

এদিকে ওসামা বিন লাদেনের এ দেহরক্ষীকে জার্মানিতে পূণরায় প্রবেশের বিষয়ে সোমবার এক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জার্মান সরকার৷ নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি নিশ্চিত করে বোখুম শহর কর্তৃপক্ষের একজন মুখপাত্র জানান, অভিযুক্ত ব্যাক্তির পুনরায় প্রবেশের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞাটি মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইমিগ্রেশন আইন মেনেই আরোপ করা হয়েছে৷ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে একবার ফেরত পাঠানো হলে আইন অনুযায়ী এ ব্যাক্তি শেনজেনভুক্ত দেশে আর প্রবেশ করতে পারে না বলে জানান এ মুখপাত্র৷

ইউক্রেনের সেবাকর্মী

গত জুলাই মাসে বয়স্কদের সেবা প্রদানকারী ইউক্রেনের নাগরিক স্ভেটলানা কে. তাঁর পরিবারসহ দেশে ফেরত পাঠায় কর্তৃপক্ষ৷ স্ভেটলানা জার্মানিতে বয়স্কদের সেবা প্রদান বিষয়ে একটি প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নিচ্ছিলেন৷ বয়স্কদের সেবা প্রদান বিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নেওয়ার কারণ দেখিয়ে জার্মানির একটি আদালত পরিবারটিকে দেশে পাঠানোর বিষয়টি অবৈধ বলে ঘোষণা দেয়৷

চাইনিজ উইগুর

এদিকে গত এপ্রিল মাসে জার্মানিতে আশ্রয়প্রার্থী চীনের উইগুর সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তিকে দেশে ফেরত পাঠায় বাভেরিয়া রাজ্য কর্তৃপক্ষ৷ উইগুর সম্প্রদায়ের এ ব্যক্তিকে দেশে ফেরত না পাঠানোর বিষয়ে আদালতের একটি নিষেধাজ্ঞা ছিল৷ কিন্তু আদালতের এ নিষেধাজ্ঞা কর্তৃর্পক্ষের কাছে সময়মতো পৌঁছায়নি৷

আফগান সৈনিক

ভুল করে  দেশে ফেরত পাঠানোর পর আশ্রয় প্রার্থী এক আফগান সৈন্যকে ফিরিয়ে এনেছে জার্মান সরকার৷ ২৪ বছর বয়সি হাশমাতুল্লাহ এফ. নামে এ আফগান সৈনিক জানান, অ্যামেরিকান সৈন্যদের পক্ষে কাজ করার কারণে তালেবানরা তাঁকে প্রণনাশের হুমকি দিচ্ছে৷ এদিকে জার্মানিতে ফিরিয়ে আনার পর দেশটির একটি আদালত তাঁকে তিন বছর বসবাসের অনুমতি প্রদান করেন৷

আরআর/ এসিবি (ডিপিএ, এএফপি, রয়টার্স, এপি, এপিডি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন