আক্ষরিক অর্থে আবার বিচ্ছিন্ন  জনসন | বিশ্ব | DW | 16.11.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্রেক্সিট

আক্ষরিক অর্থে আবার বিচ্ছিন্ন  জনসন

ট্রাম্পের পরাজয় ও ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের বিদায়ের পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় নিজেকে বিচ্ছিন্ন করেছেন৷ চলতি সপ্তাহেই ইইউ-র সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবার কথা৷

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন একের পর এক নাটকীয় ধাক্কার মুখে পড়ছেন৷ অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ‘বন্ধু’ ডনাল্ড ট্রাম্পের পরাজয়ের পরেই ক্ষমতাকেন্দ্রের দুই ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির প্রস্থান তাঁর প্রায় একচ্ছত্র ক্ষমতা অনেকটা দুর্বল করে দিয়েছে৷ তার উপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ব্রেক্সিট-পরবর্তী বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে ঐকমত্যের শেষ সুযোগের ঠিক আগে তিনি করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় আবার নিজেকে বিচ্ছিন্ন করতে বাধ্য হলেন৷ উল্লেখ্য, এপ্রিল মাসে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে তাঁর প্রাণসংশয় দেখা দিয়েছিল৷ এক টুইট বার্তায় জনসন অবশ্য আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন, যে তাঁর শরীরে কোনো উপসর্গ নেই৷ এক ব্যক্তির সংস্পর্শে আসায় তিনি নিয়ম মেনে নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখছেন৷ তবে বিচ্ছিন্ন থাকলেও তিনি কাজ চালিয়ে যাবেন বলে দাবি করেছেন৷

  

বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টোরি দলের সংসদ সদস্য লি অ্যান্ডারসনের সঙ্গে প্রায় ৩৫ মিনিট সময় কাটিয়েছিলেন৷ সে সময়ে দুজনের কেউই মাস্ক পরেন নি৷ তাঁদের মধ্যে দূরত্ব ছিল এক মিটারের মতো৷ শনিবার অ্যান্ডারসনের শরীরে কোভিড-১৯ ধরা পড়ে৷ এদিকে গোটা দেশে করোনা সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে৷ আপাতত ২রা ডিসেম্বর পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে৷ তবে পরিস্থিতি সামলাতে জনসন সরকারের ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা বেড়ে চলেছে৷ জনমত সমীক্ষায় জনসনের প্রতি জনসমর্থনও পড়তির দিকে৷

  

এমন কঠিন পরিস্থিতিতে বরিস জনসনের প্রধান উপদেষ্টা ও ব্রেক্সিট প্রচার অভিযানের মূল হোতা ডমিনিক কামিংস শুক্রবার ডাউনিং স্ট্রিট ছেড়ে চলে গেছেন৷ তার এক দিন আগে জনসনের যোগাযোগ দপ্তরের প্রধান লি কেইনও পদত্যাগ করেন৷ ফলে করোনা সংকট বা ইইউ-র সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তিনি ঘনিষ্ঠ এই দুই ব্যক্তির কাছে আর পরামর্শ চাইতে পারবেন না৷ অন্যদিকে তাদের প্রস্থানের ফলে মন্ত্রিসভা, সরকার ও দলের সঙ্গে জনসনের সংঘাত আগের তুলনায় কমে যাবে বলে ক্ষমতাসীন দলের একাংশ আশা করছে৷ তবে সংবাদ মাধ্যমের একাংশের সূত্র অনুযায়ী কামিংস ও কেইন ডাউনিং স্ট্রিট ছেড়ে চলে গেলেও মেয়াদের বাকি সময় তাঁরা বাসা থেকে কাজ করবেন৷

  

কামিংস ও কেইনের মতো কট্টর ব্রেক্সিটপন্থিরা কোণঠাসা হয়ে পড়ায় চলতি সপ্তাহে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনায় বোঝাপড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাচ্ছে বলে কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করছেন৷ সে ক্ষেত্রে ব্রিটেন ইইউ-র বেশিরভাগ শর্ত মেনে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করতে রাজি হতে পারে৷ তখন ১লা জানুয়ারি থেকে দুই পক্ষের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কে তেমন কোনো বিঘ্ন ঘটবে না৷ আলোচনা বিফল হলে শুল্কসহ নানা বাধা সৃষ্টি হতে চলেছে৷ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের মাত্রাও অনেক কমে যাবার আশঙ্কা রয়েছে৷ এমনটা হলে ব্রেক্সিট ও করোনা মহামারির ফলে বিপর্যস্ত ব্রিটিশ অর্থনীতি আরও দুর্দিনের মুখ দেখতে পারে৷

ব্রেক্সিট পুরোপুরি কার্যকর হবার পরেও ব্রিটেনের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বিশেষ করে জার্মানির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় থাকবে বলে মনে করেন ব্রিটেনের যুবরাজ চার্লস৷ রবিবার জার্মান সংসদে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি দুই পক্ষের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক তুলে ধরেন৷ ব্রিটেনের রাজপরিবারের সঙ্গে জার্মানির নিবিড় পারিবারিক সম্পর্কের সুবাদে তিনি ভাষণের কিছু অংশ জার্মান ভাষায় পড়ে শোনান৷

  

এসবি/কেএম (ডিপিএ, এএফপি, এপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন