অর্থমন্ত্রী অস্বীকার করলেই কি দারিদ্র্য কমবে? | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 16.06.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

অর্থমন্ত্রী অস্বীকার করলেই কি দারিদ্র্য কমবে?

করোনায় দেশে নতুন করে দুই কোটি ৪৫ লাখ মানুষ দরিদ্র্র হয়েছেন। দুইটি বেসরকারি গবেষণা সংস্থার যৌথ জরিপে এই দাবি করা হয়েছে। কিন্তু অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল এই তথ্য মানতে নারাজ। তাহলে বাস্তব চিত্র কী?

২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়ের তথ্য নিয়ে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশান রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) এবং ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভলপমেন্টের (বিআইজিডি) এক গবেষণা গত এপ্রিল মাসে প্রকাশ হয়। তাতে বলা হয় করোনায় দেশে নতুন করে দরিদ্র  হয়েছেন দুই কোটি ৪৫ লাখ মানুষ। এটা মোট জনসংখ্যার ১৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ ।

কিন্তু গত ৯ জুন অর্থমন্ত্রী মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে বলেন,‘‘নতুন দরিদ্রের এই হিসাব আমি স্বীকার করিনা। যাদের কাছে তালিকা আছে দুই কোটি বা এক কোটি বা ১০ জন, এই তথ্য তারা কোথায় পেয়েছেন তা জানা দরকার।''

তিনি আরো বলেন, ‘‘এই কাজটি করার জন্য আমাদের ইন হাউজ প্রতিষ্ঠান আছে। যেমন- বিবিএস, বিআইডিএস। এই সব প্রতিষ্ঠান থেকে যতদিন তথ্য না পাবো, ততদিন অন্য প্রতিষ্ঠানের তথ্য গ্রহণ করতে পারি না।''

তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন অর্থমন্ত্রী এটা স্বীকার করতে না চাইলেও বাস্তব অবস্থা এরকমই। হয়তো এখন কিছু লোকের অবস্থার উন্নতি হয়েছে। আর সরকারও আসলে এটা স্বীকার করে। স্বীকার করে বলেই সামাজিক নিরাপাত্তা বেষ্টনী এবার বাজেটে বাড়ানো হয়েছে।

সিপিডিও গত বছর করোনা শুরুর পর এক গবেষণায় বলেছে যে  কাজ হারানোর কারণে তখন দারিদ্র্য সীমা ২০ থেকে ৩৩ ভগে উন্নীত হয়েছে।

দারিদ্র্যসীমা হিসাব করা হয় একজন নাগরিকের প্রতিদিনের খাদ্যে কত ক্যালরি থাকে সেটার ওপর। যারা প্রতিদিন দুই হাজার ২০০ কিলো ক্যালরি বা তার বেশি খাবার গ্রহণ করেন তারা দারিদ্রসীমার ওপরে। মার্কিন ডলারের হিসেবে যাদের দৈনিক আয় দুই ডলারের বেশি নয় তারাও গরিব৷

স্বাভাবিক অবস্থায় বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর ২০ ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে আছেন। জনসংখ্যা ১৭ কোটি হিসেবে তাদের সংখ্যা তিন কোটিরও বেশি।  সিপিডির অর্থনীতিবিদ ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন," এই দারিদ্র্যসীমার ঠিক উপরে আছেন আরো ৩০ শতাংশ মানুষ। যারা যেকোনো দুর্যোগ বা দুর্বিপাকে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যান। করোনায় সেটা হয়েছে। আর এটা শুধু বাংলাদেশে নয় সারা বিশ্বেই হয়েছে।” 

অডিও শুনুন 07:08

ড. গোলাম মোয়াজ্জেম: ‘‘অথমন্ত্রীর কথা স্ববিরোধী৷ দারিদ্র্য না বাড়লে সরকার সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী বাড়াচ্ছে কেন? ’’

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্ট্যাডিজ-এর গত বছর সেপ্টেম্বরে এক গবেষণায় দেখা যায়, করোনার শুরুতে বাংলাদেশে এক কোটি ১০ লাখ মানুষ সরসরি কাজ হারিয়েছেন। শুধু পোশাক খাতেই সাড়ে তিন লাখ মানুষ কাজ হারিয়েছেন। তদের মধ্যে ৩৮ ভাগ আবার কাজ ফিরে পেয়েছেন।  কিন্তু অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে আরো অনেক লোক কাজ হারিয়েছেন, যার হিসাব সরকারের পক্ষ থেকে করা হয়নি। ড. গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, এই কাজ হারনোর কারণেই নতুন দারিদ্র্য বেড়েছে। এটা অস্বীকার করার কিছু নাই। যারা কাজ আবার পেয়েছেন তারা হয়তো পোশাক কর্মী থেকে গৃহকর্মীর কাজ পেয়েছেন।

তার মতে, সরকারের নিজেরই উচিত একটি ডাটাবেজ তৈরি করা। সেটা করা হচ্ছে না। বেসরকারি খাতে এইসব গবেষণার উদ্দেশ্য সরকারকে সহায়তা করা। যাতে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী বাড়াতে পারে। সঠিক পরিকল্পনা নিতে পারে। তার মতে," অথমন্ত্রীর কথা স্ববিরোধী। দারিদ্র্য না বাড়লে সরকার সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী বাড়াচ্ছে কেন?' 

অডিও শুনুন 04:13

ড.হোসেন জিল্লুর রহমান: ‘‘অর্থমন্ত্রী ঢালাওভাবে অস্বীকার করলেই তো বাস্তব অবস্থার পরিবর্তন হয়ে যাবে না৷’’

পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন," আমাদের এই গবেষণাটি নীতি গ্রহণে সরকারকে সহযোগিতার জন্য। ২০২০ সালের জুনেও এই গবেষণাটি আমরা করেছি। তখন করোনার প্রথম অভিঘাতে নতুন দরিদ্রের সংখ্যা আরো বেশি ছিল মোট জনগোষ্ঠীর ২১ দশমিক ২৪ শতাংশ। এক বছরে সেটা কমে এসেছে কিন্তু কাঙ্খিতভাবে কমেনি।”

তিনি জানান, তাদের গবেষণায় আরও অনেক তথ্য আছে । মানুষের পারিবারিক সঞ্চয়, ঋণের বোঝা, খরচের বোঝা কেমন। মানুষ কত অংশ শহর ছেড়ে গ্রামে গিয়েছে। কত লোক কাজ ফিরে পেয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের যে প্রচেষ্টা তা কতটা সফল হয়েছে তা এর মাধ্যমে বোঝা যায়। আর কী পরিকল্পনা নিতে হবে তাও এই তথ্য থেকে স্পষ্ট হয়।

তার মতে, সরকারের এই জরিপের কাজটি আরো তিন বছর আগে করার কথা ছিল। কিন্তু এখনো করেনি। আমাদের জরিপ যদি ভুল হয় সরকার একটি গ্রহণযোগ্য জরিপ করে দেখাতে পারে। অর্থমন্ত্রী ঢালাওভাবে অস্বীকার করলেই তো বাস্তব অবস্থার পরিবর্তন হয়ে যাবে না।

আমরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে নমুনা সংগ্রহ করে এই জরিপ করেছি।”

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়