1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান
পরিবেশফ্রান্স

জ্বালানি সংকট কাটাতে কৃত্রিম সূর্যের উপর ভরসা

১৬ মে ২০২২

ইউক্রেন সংকট ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তা বড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে৷ বিকল্প উৎস ও প্রযুক্তির সন্ধান জোরকদমে চলছে৷ এই অবস্থায় ফ্রান্সের দক্ষিণে একটি প্রকল্পকে ঘিরে প্রত্যাশা আরও বেড়ে গেছে৷

https://p.dw.com/p/4BN7l
ইউক্রেন সংকট ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তা বড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে৷ বিকল্প উৎস ও প্রযুক্তির সন্ধান জোরকদমে চলছে৷ এই অবস্থায় ফ্রান্সের দক্ষিণে একটি প্রকল্পকে ঘিরে প্রত্যাশা আরও বেড়ে গেছে৷
ফ্রান্সের দক্ষিণে ইটার নামের এই প্রকল্পে ৩৫টি দেশ যুক্ত রয়েছেছবি: Clement Mahoudeau/AFP/Getty Images

সূর্য আমাদের জ্বালানি সংক্রান্ত সব সমস্যার সমাধান হতে পারে৷ সেটি আসলে বিশাল এক চুল্লির মতো, যার মধ্যে পারমাণবিক ফিউশন হয়ে চলেছে৷ দেড় কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তপমাত্রা ও প্রবল চাপের মধ্যে হাইড্রোজেন পরমাণু হিলিয়ামে ফিউজ হয়ে চলেছে, যার ফলে অকল্পনীয় পরিমাণ শক্তি বার হয়ে আসছে৷

পৃথিবীর বুকেই সূর্যের পারমাণবিক ফিউশন নকল করার তোড়জোড় চলছে৷ এই থার্মোনিউক্লিয়র চুল্লির মধ্যে কৃত্রিম সূর্য সৃষ্টি করা হচ্ছে৷

ফ্রান্সের দক্ষিণে ইটার নামের এই প্রকল্পে ৩৫টি দেশ যুক্ত রয়েছে৷ চুল্লির ভবনটি ইতোমধ্যেই তৈরি হয়ে গেছে, এখন ভেতরে নির্মাণের কাজ চলছে৷ ২০২৫ সালে চুল্লিটি চালু হবার কথা৷ ফার্স্ট লাইট ফিউশন প্রকল্পের নিকোলাস হকার বলেন, ‘‘ফিউশন আসলে প্রথাগত পরমাণু শক্তির সম্পূর্ণ বিপরীত ক্রিয়া৷ পরমাণু শক্তির ক্ষেত্রে একটি হেভি এলিমেন্ট বিভাজন করলে শক্তি বেরিয়ে আসে৷ শেষে যে পদার্থ অবশিষ্ট থাকে, সেগুলি সামলানো বেশ কঠিন৷ ফিউশন মোটেই চেন রিয়্যাকশন নয়৷ পালানোর কোনো পথ থাকে না বলে মেল্টডাউন ঘটে৷''

তাহলে কি নিউক্লিয়ার ফিউশন রিয়্যাক্টর প্রচলিত পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তুলনায় বেশি নিরাপদ? পারমাণবিক শক্তি ক্ষতিকর কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গমন না করলেও তেজস্ক্রিয় বর্জ্য সৃষ্টি করে৷ তাছাড়া দু্র্ঘটনাও ঘটে৷ তা সত্ত্বেও গোটা বিশ্বের অনেক প্রান্ত, বিশেষ করে এশিয়ার কিছু দেশ এখনো পরমাণু চুল্লিতে বিনিয়োগ করে চলেছে৷

জনরোষ সত্ত্বেও ইইউ কমিশন পরমাণু শক্তিকে পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্বর্তী প্রযুক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, যার সাহায্যে ইউরোপ তার জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারে৷

কৃত্রিম সূর্য দূর করবে জ্বালানি সংকট!

প্রশ্ন হলো, নিউক্লিয়ার ফিউশন কি জলবায়ু সংরক্ষণ করতে পারবে? ফ্রান্সের নতুন চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিত এক সূর্য সৃষ্টি করার লক্ষ্য রয়েছে, যা জ্বালানির নির্ভরযোগ্য উৎস হয়ে উঠবে৷ সেই প্রক্রিয়ায় কোনো কার্বন-ডাই-অক্সাইড সৃষ্টি হবে না৷ প্রচলিত পরমাণু কেন্দ্রের তুলনায় কম বিকিরণ ও কম পরমাণু বর্জ্য তৈরি হবে৷

যে হাইড্রোজেন সেই ফিউশন ঘটাবে, সেটি সমুদ্র থেকে আসবে৷ কিন্তু প্রচলিত পরমাণু কেন্দ্রের তুলনায় এ ক্ষেত্রে ভিন্ন সমস্যা রয়েছে৷ ফার্স্ট লাইট ফিউশন প্রকল্পের জানলুকা পিসানেলো বলেন, ‘‘রিয়্যাকশন যাতে পালিয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করতে বিশাল উদ্যোগের প্রয়োজন৷ ফিউশনের ক্ষেত্রে রিয়্যাকশন প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে হলে অনেক বেগ পেতে হয়৷’’

এই প্রকল্পের ব্যয় শুরুতে ৫০০ কোটি ইউরো ধরা হলেও এখন সেই অঙ্ক চার গুণ বেড়ে গেছে৷ একবার চালু হলে ফিউশন প্রক্রিয়া শুরু করতে বিশাল পরিমাণ জ্বালানির প্রয়োজন হবে৷ প্রশ্ন উঠছে, বিশাল উত্তাপ কীভাবে নিরাপদে চুল্লি থেকে বার হবে?

গবেষকরা গোটা বিশ্বে বিকল্প পরমাণু প্রযুক্তির সন্ধান করছেন৷ চীন সম্প্রতি ইউরেনিয়ামের বদলে থোরিয়াম চালিত চুল্লি পরীক্ষার কাজ শুরু করেছে৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিল গেটস ‘ন্যাট্রিয়াম’ চুল্লি গড়ে তোলায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন৷ পানির বদলে তরল সোডিয়াম দিয়ে সেটির কেন্দ্রস্থল শীতল রাখা যাবে৷

প্রতিবাদ ও সমালোচনা সত্ত্বেও পরমাণু শক্তির প্রয়োগ বেড়েই চলেছে৷ মনে হচ্ছে ভবিষ্যতে এ ছাড়া যেন অন্য কোনো উপায় নেই৷

ক্লাউডিয়া লাৎসাক/এসবি

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য

আরো সংবাদ দেখান