1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

পরমাণু ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্ষেত্রে কর ছাড় দিচ্ছে ইইউ

২ ফেব্রুয়ারি ২০২২

২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন দূর করার লক্ষ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আপাতত পরমাণু ও প্রাকৃতিক গ্যাসের উপর নির্ভরতা বাড়াতে চায়৷ কিন্তু বিষয়টি নিয়ে সদস্য দেশগুলির মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে৷

https://p.dw.com/p/46On9
ছবি: W. Pattyn/blickwinkel/picture alliance

ইউরোপীয় ইউনিয়নে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জার্মানির গুরুত্ব কতটা কমে গেছে, বুধবারের একটি ঘোষণা তা স্পষ্ট করে দিচ্ছে৷ জার্মানির তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও ইইউ প্রাকৃতিক গ্যাস ও পরমাণু জ্বালানিকে পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে৷ তবে এ ক্ষেত্রে কিছু শর্তও বেঁধে দেওয়া হচ্ছে৷ ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন শূন্যে আনার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে ইউরোপীয় রাষ্ট্রজোট বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্দেশ্যে এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে৷ ফলে প্রাকৃতিক গ্যাস ও পরমাণু জ্বালানি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করলে কোম্পানিগুলিকে কম কর দিতে হবে৷ তবে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট বা ইইউ সরকার পরিষদ আগামী চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে এই পদক্ষেপ বন্ধ করার ক্ষমতা রাখে৷

বিষয়টি নিয়ে ইউরোপে তীব্র তর্ক-বিতর্ক ও বিভাজন দেখা যাচ্ছে৷ জার্মানির মতো দেশ এবং একাধিক পরিবেশ সংগঠন ও বিশেষজ্ঞ এর তুমুল বিরোধিতা করেছে৷ কিন্তু ইউরোপীয় কমিশনের যুক্তি, পুরোপুরি পুনর্বব্যহারযোগ্য জ্বালানির পথে যাবার প্রক্রিয়ায় আপাতত প্রাকৃতিক গ্যাস ও পরমাণু জ্বালানির উপর নির্ভর করতেই হবে৷ অন্তর্বর্তীকালীন এই ব্যবস্থা ছাড়া লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে না বলে মনে করছে ইইউ৷

ইইউ-র খসড়া ‘ট্যাক্সোনমি’ আইন অনুযায়ী ২০৩০ সালের আগে নির্মিত গ্যাস-চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিকে পরিবেশবান্ধব হিসেবে গণ্য করা হবে৷ তবে এমন কেন্দ্রে কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গমনের মাত্রা কিলোওয়াট প্রতি ঘণ্টায় ২৭০ গ্রামের কম হতে হবে৷ কোনো পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে একই স্বীকৃতি পেতে হলে সেটিকে হালের প্রযুক্তির মানদণ্ড অনুযায়ী গড়ে তুলতে হবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে পরমাণু বর্জ্য দূর করার পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখতে হবে৷

এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিরোধীরা ঝুঁকির প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করছেন৷ বিশেষ করে তেজস্ক্রিয় বর্জ্যের কারণে দীর্ঘমেয়াদী বিপদের আশঙ্কা নিয়ে তাঁরা দুশ্চিন্তা করছেন৷ তাছাড়া প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো জীবাশ্মভিত্তিক জ্বালানি কোনোমতেই পরিবেশবান্ধব হতে পারে না বলে তারা মনে করছে৷ তাছাড়া এর ফলে পরিবেশের যে ক্ষতি হবে, কার্বন নির্গমন সামান্য কমিয়ে মোটেই বিশেষ লাভ হবে না৷

মূলত ফ্রান্সের উদ্যোগেই ইইউ কমিশন আইনের এই খসড়া প্রস্তুত করেছে৷ গোটা বিশ্বে পরমাণু জ্বালানির অন্যতম বড় উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে করের ক্ষেত্রে ছাড়ের জন্য তদ্বির করেছে এমানুয়েল মাক্রোঁর সরকার৷ পোল্যান্ড ও হাঙ্গেরিও সেই উদ্যোগে সমর্থন জানিয়েছে৷ অন্যদিকে জাপানের ফুকুশিমা পরমাণু কেন্দ্রে বিপর্যয়ের পর জার্মানি রাতারাতি পরমাণু শক্তি বর্জন করে জ্বালানির এই উৎসের বিরোধিতা করে আসছে৷ তবে গ্যাস ব্যবহারকারী হিসেবে জার্মানি সে ক্ষেত্রে আরও নমনীয় নিয়ম চেয়েছিল৷ ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া, স্পেন ও লুক্সেমবুর্গের মতো দেশ পরমাণু ও প্রাকৃতিক গ্যাস – দুই উৎসেরই বিরোধিতা করছে৷ এমনকি ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকও এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে৷

এসবি/কেএম (ডিপিএ, এএফপি)