1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি

সিসিটিভি কি সন্ত্রাস রুখতে পারবে?

বার্লিনে গত ৯ই ডিসেম্বরের ট্রাক আক্রমণ শহরের প্রকাশ্য স্থানগুলিতে আরো বেশি ভিডিও নজরদারির দাবি জোরদার করেছে৷

সিসিটিভি বসানোর সমর্থকরা আপাতত যে দু'টি দৃষ্টান্ত দিচ্ছেন, তার প্রথমটি ঘটে সপ্তাহ দুয়েক আগে রাজধানীর হ্যারমানস্ট্রাসে মেট্রো স্টেশনে৷ স্থানটি ব্রাইটশাইডপ্লাৎস থেকে তিন স্টপ দূরে৷ হ্যারমানস্ট্রাসে মেট্রো স্টেশনের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একজন পুরুষ কীভাবে এক তরুণীকে বিনা প্ররোচনায় পিছন থেকে লাথি মেরে সাবওয়েতে নামার সিঁড়ি দিয়ে ফেলে দিচ্ছে৷

ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মহিলার হাত ভেঙে যায়৷ ভিডিও ফুটেজ থেকে মহিলার আক্রমণকারীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়৷ ২৭ বছর বয়সি বুলগেরীয় যে বুলগেরিয়ায় পলায়ন করেছে, তদন্ত থেকে তা-ও জানা যায়৷

এ ধরনের দ্বিতীয় ঘটনা ঘটেছে ঐ বার্লিনেই, যেখানে গত ২৪শে ডিসেম্বর সাতজন কিশোর বা তরুণ এক রাস্তায় শোয়া নিরাশ্রয় ব্যক্তির গায়ে আগুন ধরিয়ে দেবার চেষ্টা করে৷ আক্রমণটি ঘটে শ্যোনলাইনস্ট্রাসে মেট্রো স্টেশনে৷ ১৫ থেকে ২১ বছরের কিশোর ও তরুণরা এক ৩৭ বছর বয়সি নিরাশ্রয় ব্যক্তির বিছানায় আগুন ধরিয়ে দেয়৷ আক্রান্ত ব্যক্তির কোনো ক্ষতি না ঘটলেও তাঁর জিনিসপত্র সব পুড়ে যায়৷ মেট্রো ট্রেনের এক ড্রাইভার সহ পথচারীরা একটি ‘ফায়ার এক্সটিঙ্গুইশার' ব্যবহার করে আগুন নিভিয়ে ফেলেন৷

পরে পুলিশ একটি সাবওয়ে ট্রেনের কামরায় সংশ্লিষ্ট কিশোর-তরুণদের ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করলে পর, সন্দেহভাজনদের ছ'জন স্বেচ্ছায় পুলিশের কাছে ধরা দেয়৷ জানা যায় যে, তাদের সাতজন এসেছে সিরিয়া থেকে আর সপ্তম জন এসেছে লিবিয়া থেকে৷

আনিস আমরির কাহিনি

ব্রাইটশাইডপ্লাৎসের বড়দিনের বাজারে ট্রাক নিয়ে যে আক্রমণ চালায়, সেই আনিস আমরি কিন্তু ভিডিও নজরদারির ধার ধারেনি৷ ১৯শে ডিসেম্বর আক্রমণ চালানোর পর আমরি যে ইউরোপীয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সত্ত্বেও কী করে পুলিশে ও গোয়েন্দা বিভাগের নজর এড়িয়ে ফ্রান্স হয়ে ইটালি পৌঁছাল, তা নিয়ে এখনও জল্পনা-কল্পনা চলেছে৷ ২৪ বছর বয়সি টিউনিশীয় চারদিন পরে মিলানে ইটালীয় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারায়৷

জার্মান ডাব্লিউডিআর টেলিভিশন সংস্থার বিবরণ অনুযায়ী, আমরি নর্থরাইন ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যের রুয়র শিল্পাঞ্চলের ১২টি বিভিন্ন মসজিদে গেছে, এছাড়া জার্মানির অন্যত্র আরো তিনটি মসজিদে তার যাতায়াত ছিল৷ আমরি সব মিলিয়ে আটটি ভুয়ো নাম ব্যবহার করেছে, তার মধ্যে একটি ওবারহাউজেনে তার রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন দাখিল করার সময়৷

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে আমরি মোটামুটি বার্লিনেই ছিল, যদিও তার নর্থরাইন ওয়েস্টফালিয়া রাজ্য ছাড়ার কথা নয়, কেননা তার রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন ঐ রাজ্যে জমা পড়েছে৷ এমনকি রাজ্য গোয়েন্দা দপ্তর মে মাসের ১০ তারিখে আমরিকে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের পর্যায়ভুক্ত করে৷ আমরি বার্লিনে বিশেষভাবে সন্দেহজনক আচরণ করে; উগ্রপন্থি সালাফি ও ইসলামপন্থিদের সঙ্গেও তার সংযোগ ছিল৷ বার্লিনে সে যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে, তাদের মধ্যে দু'জন সন্ত্রাসী আক্রমণের পরিকল্পনা করছে, বলে পুলিশের কাছে খবর ছিল৷ নর্থরাইন-ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যের ডর্টমুন্ডে আমরির দুই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ ছিল, যাদের দৃশ্যত তথাকথিত ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে সংযোগ আছে৷

‘সিসিটিভি দিয়ে সন্ত্রাস রোখা যায় না'

এ কথা বলেছেন জার্মান পুলিশ সংগঠন সমিতির উপপ্রধান অ্যার্নস্ট ভাল্টার৷ বলেছেন, ‘‘কিন্তু আততায়ীদের ধরতে তা কাজে লাগানো যেতে পারে৷ জার্মানিতে সেটা কত খারাপ, তা আমরা দেখলাম৷ আমরি উধাও হলো, আমরা তাকে গ্রেপ্তার কতে পারলাম না৷''

অপরদিকে জার্মান বিচারক সমিতির মুখপাত্র ইয়েন্স নিসা ডিপিএ সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন, প্রকাশ্য ভিডিও নজরদারির ফলে সন্ত্রাসবাদীরা উৎসাহিত বোধ করতে পারে, বলে বিচারক সমিতির আশঙ্কা৷ ভিডিও ফুটেজ সন্ত্রাসীদের আরো বেশি পাবলিসিটি এনে দেবে৷

একটি সাম্প্রতিক ইউগভ জরিপে কিন্তু ৬০ শতাংশ জার্মান বলেছেন যে, ভিডিও নজরদারি জার্মানিকে আরো নিরাপদ করে তুলবে, বলে তাঁদের ধারণা৷

সিসিটিভি কি সত্যিই সন্ত্রাস রুখতে পারবে? আপনার কী মনে হয়? লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়