1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সংবাদভাষ্য

বার্লিন হামলা জার্মানিতে পরিবর্তন আনবে

অনেকদিন ধরে জার্মানরা যে আশঙ্কায় ছিল অবশেষ সেটি সত্যি হলো৷ বার্লিনের হামলা জার্মানিতে পরিবর্তন আনতে বাধ্য বলে মনে করেন ডয়চে ভেলের প্রধান সম্পাদক আলেক্সান্ডার কুডাশেফ৷

বার্লিনের হামলা সকলকে প্রচণ্ড আঘাত করেছে এবং আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলেছে৷ ১২ জন নিহত হয়েছে৷ আহত হয়েছেন প্রায় ৫০ জন৷ তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা মারাত্মক৷ এই হামলা, এই সন্ত্রাসী কাজের লক্ষ্য ছিল পুরো দেশ তথা জার্মানরা যে সমাজে বাস করেন সেই মুক্ত সমাজ৷ ক্রিসমাস মার্কেটের মতো শান্তিপূর্ণ জায়গায় হামলা করা হয়েছে, যেখানে জার্মানরা ছাড়াও বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে আসা মানুষ তাঁদের দৈনন্দিন জীবনের ঝক্কি থেকে খানিকটা মুক্তি পেতে বড়দিনের আমেজ নিয়ে ঘুরে বেড়ায়৷

সবাইকে লক্ষ্য করে হামলা

আমরা যাঁরা স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করতে চাই, তাঁরা সবাই এই হামলার লক্ষ্য ছিলাম৷ আমাদের ইচ্ছার উপর এই হামলা হওয়ার কারণে জার্মানিতে পরিবর্তন আসবে৷ আমরা আর এখন আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের শিকার হওয়ার আশঙ্কায় নেই, আমরাও এখন ব্রিটিশ, ফ্রেঞ্চ, স্প্যানিশ, ইসরায়েলি, মার্কিন সহ অন্যান্যদের মতো ভুক্তভোগী হয়ে গেছি৷

হামলাকারী মানসিকভাবে সুস্থ ছিল কিনা, সে একা হামলা করেছে কিনা, মৌলবাদী কোনো গ্রুপ এর পেছনে আছে কিনা – এ সব আলোচনা এখন মুখ্য নয়, বরং এই হামলা মুক্ত সমাজের উপর আক্রমণ এবং এটিকে সেভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে৷ ক্রিসমাস মার্কেটে হামলার মাধ্যমে খ্রিষ্টান প্রতীকের উপর আক্রমণ চালানো হয়েছে, যেটি জার্মানিসহ ইউরোপীয় ঐতিহ্যের অংশ৷

চ্যান্সেলর ঠিক বলেছেন: হামলার দিনটি জার্মানির জন্য একটি কঠিন দিন৷ গত কয়েক বছরে জার্মানিতে ছোট ও মাঝারি আকারের কয়েকটি হামলা হয়েছে, কয়েকটি আবার ব্যর্থ করে দেয়া হয়েছে৷ তবে বার্লিনের হামলাটি সব বিবেচনায় অনেক বড় একটি ঘটনা৷

আলেক্সান্ডার কুডাশেফ

ডয়চে ভেলের প্রধান সম্পাদক আলেক্সান্ডার কুডাশেফ

জার্মান সমাজের মানসিকতায় পরিবর্তন আসবে৷ সন্ত্রাসবাদকে আমাদের স্বাধীনচেতা মনোভাবে প্রভাব ফেলতে না দিতে আমরা এতদিন যে দৃঢ়সংলকল্প ছিলাম সেটা এবার কিছুটা নড়বড় হয়ে পড়বে৷ জার্মানরা এবার থেকে একটু কম নিরাপত্তা বোধ করবে৷

একটি রাজনৈতিক ভূমিকম্প?

হামলাকারী যদি শরণার্থী হন তাহলে ভবিষ্যতে এ ধরণের ভূমিকম্প দেখা দিতে পারে৷ চ্যান্সেলরের শরণার্থী নীতি কঠোর সমালোচনার মুখে পড়বে৷ শুধু তাই নয়, জার্মান সমাজ যেরকম বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব নিয়ে শরণার্থীদের গ্রহণ করেছে সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে৷

এমন দিনে শান্ত থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ৷ কিন্তু শান্ত থাকা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে৷ ২০১৬ সালের ১৯ ডিসেম্বরের সন্ধ্যা জার্মানিকে পরিবর্তিত করবে৷ কতটা? সেটিই এখন দেখার বিষয়৷ 

আলেক্সান্ডার কুডাশেফ/জেডএইচ

প্রিয় পাঠক, আপনি কি আলেক্সান্ডার কুডাশেফের সঙ্গে একমত? জানান নীচে মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়