1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘সিরিয়ায় পুটিনেরই জয়, সর্বক্ষেত্রে, সব পরিবেশে'

রাশিয়া সিরিয়ায় সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে, এক নয়, একাধিক কারণে৷ কিন্তু সব মিলিয়ে ক্রেমলিন এ অঞ্চলে নিজের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকেই নিশ্চিত করছে বলে মনে করেন ডয়চে ভেলের রুশ ও ইউরোপীয় ভাষা বিভাগের প্রধান ইঙ্গো মানটয়ফেল৷

Russland Wladimir Putin in Moskau

ভ্লাদিমির পুটিন

রাশিয়া যে সিরিয়ায় তার সদ্যসৃষ্ট সামরিক ঘাঁটিতে জঙ্গিজেট, জঙ্গি হেলিকপ্টার ও অপরাপর সামরিক সরঞ্জাম স্থাপন করছে, ইউরোপের উদ্বাস্তু সংকট তার কারণ নয়৷ ক্রেমলিন সিরিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপ অভিমুখে উদ্বাস্তুর স্রোতকে একটি আন্তঃ-ইউরোপীয় সমস্যা বলে বাতিল করেছে৷ বলতে কি, নৈতিক মূল্যবোধ কোনোকালেই রাশিয়ার বিদেশনীতিতে কোনো বিশেষ ভূমিকা রাখেনি৷

জাতীয় স্বার্থই বড় কথা

মস্কো শুধু বিভিন্ন দেশের ভূরাজনৈতিক স্বার্থই বিবেচনা করে থাকে৷ কাজেই সিরিয়ার রক্তপাতে রাশিয়ার স্বকীয় দায়িত্বের নীতিগত প্রশ্ন থেকে অব্যাহতি পেয়ে রুশ পররাষ্ট্রনীতি নির্দ্বিধায় আসাদ প্রশাসনকে কূটনৈতিক ও সামরিক সমর্থন দিয়ে গেছে৷ মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার পরিশিষ্ট সহযোগী হলেন এই আসাদ – রাশিয়ার ক্ষমতার রাজনীতিতে শুধুমাত্র এই বাস্তব সত্যটির গুরুত্ব আছে৷

Angela Merkel Bundestag Rede Reichstag Berlin Deutschland

জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল

কিন্তু এবার ক্রেমলিন দৃশ্যত চিন্তায় পড়েছে যে, আসাদ-এর গুরুত্ব কমতে চলেছে৷ ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তির ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বৈরিতা কমার লক্ষণ দেখা দিয়েছে৷ ওদিকে ইরান বস্তুত আসাদ-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী৷ অপরদিকে সিরিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের ক্রমবর্ধমান সামরিক হস্তক্ষেপ প্রাথমিকভাবে ইসলামিক স্টেট-এর বিরুদ্ধে হলেও, শেষ অবধি তা আসাদ-এর কর্তিত প্রশাসনের পক্ষেও বিপদ হয়ে উঠতে পারে বৈকি৷

সেই কারণেই পুটিন দৃশ্যত সক্রিয় হবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন৷ পশ্চিমি বিশ্ব যখন আইএস-এর বিরুদ্ধে সংগ্রামে লিপ্ত, তখন তার সুযোগ নিয়ে বিগত কয়েক সপ্তাহে একটি ঝটিতি অভিযানে সিরিয়ার উপকূলে একটি রুশ সামরিক ঘাঁটি গড়ে তোলা হয়েছে৷ পুটিন যখন এ মাসের শেষে জাতিসংঘের সাধারণ সম্মেলনে বক্তৃতা দেবেন, তখন তিনি নিশ্চয় এই নতুন সামরিক ঘাঁটিকে আইএস-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে রাশিয়ার অবদান বলে চালাবার চেষ্টা করবেন৷

Mannteufel Ingo Kommentarbild App

ইঙ্গো মানটয়ফেল, ডয়চে ভেলে

রাশিয়া কী চায়

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমি শক্তি যদি এই ব্যাখ্যা মেনে নেয়, তাহলে পুটিন তাঁর সর্বোচ্চ লক্ষ্য সাধিত হয়েছে, বলে গণ্য করতে পারবেন: ক্রাইমিয়া দখল ও পূর্ব ইউক্রেনে যুদ্ধের ফলে রাশিয়া যে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, তার অন্ত ঘটার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে; রাশিয়া আবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমপর্যায়ের পরাশক্তি হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারে৷ সেই সঙ্গে আসাদ প্রশাসনও অন্তত কিছুদিনের জন্য রেহাই পাবে – যা রাশিয়ার শক্তিমত্তার আরেক প্রমাণ হিসেব গণ্য হবে৷

যুক্তরাষ্ট্র যদি আইএস বিরোধী একটি যৌথ অভিযানে সম্মত না-ও হয়, সেক্ষেত্রেও ভূমধ্যসাগরের পূর্বাঞ্চলে রাশিয়ার নতুন সামরিক ঘাঁটি কেউ কেড়ে নিতে পারবে না – গৃহযুদ্ধে সিরিয়া খণ্ডখণ্ড হয়ে গেলেও নয়৷ রাশিয়ার সেটাই লাভ৷ এই লাকাকিয়া অঞ্চল আসাদ পরিবারের বাসভূমি৷ ইতিহাস বলে, আলাওয়াইটরা এখানেই প্রথম বসতি গড়েছিল৷ আসাদ-পরবর্তী পর্যায়ে যে এখানে ছোটখাটো একটি আলাওয়াইট রাজ্য গড়ে উঠতে পারে না, এমন নয় – প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বাস্তবিক যা ঘটেছিল৷ সামরিক ঘাঁটি থাকায় রাশিয়া সেই নতুন রাষ্ট্রটির স্থায়ী রক্ষাকর্তা হয়ে উঠতে পারে৷ কাজেই সিরিয়ায় পুটিন-এর জয় সর্বক্ষেত্রে ও সব পরিবেশে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়