1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

সামুদ্রিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে এবছর প্রবাল মহামারী

প্রবাল প্রাচীর যেমন মুগ্ধতা আনে পর্যটকের মনে, সমুদ্র ভ্রমণে৷ তেমনি পরিবেশের ভারসাম্য আর অনেক সামুদ্রিক প্রাণীর অস্তিত্বও এর ওপরেই নির্ভরশীল৷ সম্প্রতি সমুদ্রের উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে মড়ক লেগেছে প্রবাল প্রাচীরে৷

default

মড়ক লেগেছে প্রবাল প্রাচীরে

মাইলের পর মাইল জুড়ে থাকা পরিবেশের রক্ষক এই সমুদ্র দেয়ালের নিযুত নির্মাতার মৃত্যু ঘটছে৷

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ান গবেষকরা জানিয়েছেন, ২০১০ সালটি কোরাল বা সামুদ্রিক প্রবালদের জন্য আক্ষরিক অর্থেই খুব বাজে বছর৷ তাঁরা বলেছেন, এ'বছরে সমুদ্রের উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে দেখা দেয়া বিবিধ সংকটে ‘কোরাল ব্লিচিং' বা প্রবালদের ক্রমশ সাদাটে হয়ে মরে যাওয়ার প্রবণতাটি ভয়াবহ হারে বেড়েছে৷

গবেষকরা জানিয়েছেন. দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ভারত মহাসাগরের কোরাল রিফ বা প্রবাল প্রাচীরগুলো গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে এবছর৷ অস্ট্রেলিয়ান সেন্টার ফর কোরাল স্টাডিজ এর গবেষকরা কোরাল ট্রায়াঙ্গল নামে খ্যাত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ভারত মহাসাগরের এই প্রবাল প্রাচীর সম্পর্কে বলেছেন- প্রায় পাঁচশো রকমের প্রবাল রয়েছে এই প্রবাল ত্রিভূজ এলাকায়, যারা সমুদ্রের পানির উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে বিবর্ণ হয়ে ক্রমশ মৃত্যুর দিকে এগিয়ে চলেছে৷

নিসর্গের সৌন্দর্যে যেমন ভিন্নমাত্রা যুক্ত করে এই প্রায় আণুবীক্ষণিক প্রাণীটি, ঠিক তেমনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা আর সামুদ্রিক প্রাণী বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছদের খাদ্য হিসেবেও প্রবাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷

Great Barrier Reef

২০১০ সালটি কোরাল বা সামুদ্রিক প্রবালদের জন্য আক্ষরিক অর্থেই খুব বাজে বছর (ফাইল ফটো)

উল্লেখ্য, প্রবাল অ্যান্থজোয়া শ্রেণীভুক্ত একধরণের সামুদ্রিক প্রাণী হলেও, এরা সাগরের নীচে দৃঢ় কোন তলের উপর স্থিরভাবে জীবন কাটিয়ে দেয়৷ প্রতিটি প্রবাল তার শরীরের চারপাশে ক্যালসিয়াম কার্বনেট নিঃসরণের মাধ্যমে শক্ত পাথুরে খোলস বা বহিঃকঙ্কাল তৈরি করে৷ একটি প্রবালের মৃত্যুর পরে সেই দেহাবশেষের উপরেই আরেকটি প্রবাল বসে, আর এভাবেই সৃষ্টি হয় প্রবাল দ্বীপ এবং প্রবাল প্রাচীরের৷

জানা গেছে, ছয় মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃত এই কোরাল রিফের সামুদ্রিক এলাকার মধ্যে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, পাপুয়া নিউ গিনি, ফিলিপাইনস, ইস্ট টিমর এবং সলোমন দ্বীপপুঞ্জের উপকূলীয় সমুদ্র৷ অস্ট্রেলিয়ান সেন্টার ফর কোরাল স্টাডিজের গবেষক অ্যান্ড্রু বায়ার্ড জানিয়েছেন, অচিরেই এই বিশাল অংশের প্রবাল প্রাচীরে নাটকীয় পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে৷ তিনি বলেন, এই বিস্তৃত এলাকা ভারত মহাসাগর থেকে শুরু করে কোরাল ট্রায়াঙ্গল পর্যন্ত বিস্তৃত৷ ইতোমধ্যেই কোরাল ব্লিচিং এর এই ঘটনাটি ঘটতে শুরু করেছে, কেননা প্রশান্ত মহাসাগরের জল ইতোমধ্যেই উষ্ণ হতে শুরু করেছে৷

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল চেঞ্জ ইন্সটিট্যুটের প্রধান ওভে হোয়েগ গ্যুল্ডবার্গ বলেছেন, ‘আপনি যদি লক্ষ্য করেন তাহলে দেখবেন এই বিশাল সামুদ্রিক এলাকার জলের তাপমাত্রা ইতোমধ্যেই এক থেকে তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়েছে৷'

যদিও প্রবালের এই মহামারীকে প্রাকৃতিক অমোঘ চক্রের এক পুনরাবৃত্তিই বলছেন কোন কোন গবেষক৷ কিন্তু একথাও তাঁরা জোর দিয়ে বলছেন - সমুদ্রের জলের আকস্মিক এই উষ্ণতা বৃদ্ধি আর জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এই প্রবাল মহামারীর সৃষ্টি হয়েছে৷ অর্থাৎ প্রবাল নামের ক্ষুদ্র এই পরোপকারী অণুজীবদের মহামারীর মূল কারণটি উর্ধ্বশ্বাস যন্ত্রপ্রগতিলুব্ধ অবিবেচক এই পৃথিবীরই মানুষ৷

প্রতিবেদন: হুমায়ূন রেজা

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়