1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

আলাপ

সামাজিক মাধ্যমে আসক্তি নিয়ে বলছেন এক মনঃচিকিৎসক

বর্তমানে অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে আসক্ত হয়ে পড়ছেন৷ এতে তাদের শারীরিকের চেয়ে মানসিক ক্ষতিই বেশি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা৷

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ও আবাসিক মনঃচিকিৎসক ডা. তারিকুল আলম ডয়চে ভেলেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আগে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যে ধরণের বন্ধন ছিল, এখন তা নেই৷ ফলে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে অনেকে সময় কাটাতে বেশি বেশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের পথ বেছে নিচ্ছে৷ এই মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক, কীভাবে তা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, এ ক্ষেত্রে বাবা-মাদের করণীয় কী হতে পারে – এমন নানান বিষয়ে কথা বলেছেন ডাঃ আলম৷

ডয়চে ভেলে: সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহারের কারণে একজন মানুষের তো শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হচ্ছে, সেই ক্ষতির দিকটা কীরকম?

ডাঃ তারিকুল আলম: সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহারের কারণে শারীরিকের চেয়ে মানসিক ক্ষতি বেশি হচ্ছে৷ মোবাইল ফোন আর কম্পিউটার ব্যবহারের জন্য চোখ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি মেরুদণ্ডেও ব্যথা হতে পারে৷ হতে পারে ঘুমের সমস্যাও৷ তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে মূল যে সমস্যাটা হয় সেটা হলো ‘বিহেভিয়ার এডিকশন' অর্থাৎ ইন্টারনেট বা সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি আসক্তি৷ আসক্তি যখন হয়ে যায়, তখন সে চাইলেই সমস্যা থেকে বের হয়ে আসতে পারে না৷ তার কারণে দীর্ঘসময় ব্যবহারের ফলে বিভিন্ন রকমের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়৷

অডিও শুনুন 09:11

‘শারীরিকের চেয়ে মানসিক ক্ষতিই বেশি’

এই ধরনের কোনো রোগী কি এখন পর্যন্ত পেয়েছেন?

আমাদের কাছে এই ধরনের অনেক রোগী আসে৷ বিশেষ করে টিনএজারদের বাবা-মা তাঁদের সন্তানদের নিয়ে আসছেন৷ তাদের পড়াশোনায় মনোযোগ কমে গেছে৷ তার আচরণ পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে৷ তার সামাজিক যোগাযোগে পরিবর্তন হচ্ছে৷

এই রোগীদের প্রতি আপনাদের কী পরামর্শ থাকে?

প্রত্যেকটা জিনিসের একটা ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক থাকে৷ এই সোস্যাল মিডিয়া মানুষ যে উদ্দেশ্যে ব্যবহার শুরু করেছিল এখন অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে সেটা ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ আমরা কখনই বলি না যে এগুলো ব্যবহার করা যাবে না৷ তবে ব্যবহারের একটা লিমিট আছে৷ সেটা মেনে চলতে হবে৷ সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে৷ নির্দিষ্ট সময় থাকবে৷ যাতে তার মধ্যে আসক্তি তৈরি না হয়৷ এটাই আমাদের পরামর্শ৷

এই যে লিমিটের কথা আপনি বলছেন৷ সেটা নিয়ে কি কোনো গবেষণা আছে যে, দিনে কত ঘণ্টা ব্যবহার করলে চোখ বা মস্তিষ্ক ভালো থাকবে?

এই ধরনের সুনির্দিষ্ট কোনো গবেষণা নেই৷ তবে যাঁরা কম্পিউটারে কাজ করেন তাদের ক্ষেত্রে কিছু নিয়মকানুন আছে৷ যেমন একটানা ৩০ মিনিটের বেশি কাজ করা যাবে না৷ একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে৷ একটা অ্যাঙ্গেল থেকে ব্যবহার করতে হবে৷ এখন নির্ভর করছে কোন বয়সে ব্যবহার করছে৷ একজন স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীর ইন্টারনেট যতটুকু প্রয়োজন তার চেয়ে বেশি প্রয়োজন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া একজন শিক্ষার্থীর৷ আসলে বিষয়টা হলো, এটা তার প্রয়োজন কিনা৷ আজকাল তো অনেকে আউটসোর্সিংয়ের কাজ করে৷ ইন্টারনেট দিয়ে অনেকে উপার্জনও করছেন৷ আমাদের মতে, যার যতটা প্রয়োজন ততটা ব্যবহার করতে হবে৷

আপনাদের কাছে সাধারণত কেমন বয়সের রোগী আসেন?

আমাদের কাছে যারা আসে তাদের রোগী বলব না, তারা পরামর্শ নিতে আসে৷ এদের মধ্যে ক্লাস সেভেন থেকে শুরু করে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আছে৷ সন্তানদের মধ্যে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়, তারা তো আর বাবা-মায়ের নিয়ন্ত্রণে থাকে না৷ বেশি যারা আসে তাদের বয়স ২০ বছরের মধ্যে৷ বড়দের ক্ষেত্রে রিলেশনে সমস্যা হতে পারে৷ পারিবারিক সমস্যা হতে পারে৷

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহার করে অনেকে উপার্জন করছেন৷ তারাও তো অনেক সময় এগুলো ব্যবহার করছেন৷ তাহলে তাদের ক্ষতির দিকটা কেমন?

এখানে এটা যে করছে সে কিন্তু অ্যাবিউজ করছে না৷ তার ক্ষতির দিকটাও আছে৷ তার শারীরিক ক্ষতি হতে পারে, চোখের সমস্যা হতে পারে৷ কিন্তু মানসিক ক্ষতি হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই৷ তবে তারও কম্পিউটার ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে বৈজ্ঞানিক নিয়মকানুন আছে সেটা মেনে চলা উচিত৷ কেউ যদি কোনো জিনিস বেশিও ব্যবহার করে তবে সেটা যদি ‘প্রপার’ হয় তাহলে তাতে ক্ষতির সম্ভাবনা কম৷

আপনাদের কাছে যারা পরামর্শ নিতে আসছে তাদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতির দিকটা কী?

বাবা-মা বিষয়টা বুঝতে পারেন যখন তাঁদের সন্তানদের অ্যাকাডেমিক দিকটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷ এখন পারিবারিক বন্ধনটা দুর্বল হয়ে গেছে৷ বাবা-মা সন্তানের সঙ্গে বন্ধুর মতো আচরণ করেন না৷ স্কুল-কলেজ থেকে সন্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসা শুরু করলে বা রেজাল্ট ভালো হচ্ছে না – এমন পরিস্থিতি হলে বাবা-মা নোটিশ করছেন৷ তখন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছেলে সারাদিনই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম নিয়ে ব্যস্ত আছে৷ এই ধরনের সম্পর্ক রিলেটেড সমস্যা নিয়েই অভিভাবকরা বেশি আসেন৷

যারা সমস্যা নিয়ে আসছে, তাদের সমস্যায় পড়ার কারণ কী বলে?

আগে যেমন পারিবারিক বন্ধন ছিল৷ বাবা-মা, ভাই-বোনের মধ্যে একটা সু-সম্পর্ক ছিল, এখন সেটা অনেকটা দুর্বল হয়ে গেছে৷ এখন আর পারিবারিক বন্ধন নেই, যে যার মতো হয়ে গেছে৷ যে ছেলেটা সারাদিন ফেসবুক ব্যবহার করছে, সে আসলে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে সময় কাটাতে এই পথ বেছে নিয়েছে৷ পরিবারের সঙ্গে বন্ধন কমে যাওয়ার কারণে এই ধরনের মাধ্যমে তার যোগাযোগটা বেড়ে যাচ্ছে৷

অভিভাবকদের প্রতি আপনার পরামর্শ কী?

স্বাধীনতা সবারই দরকার৷ কিন্তু আমরা যারা বাবা-মা আমাদের অনেক দায়িত্ব রয়েছে৷ যখন কোনো সমস্যা হচ্ছে তখন আমরা খুব উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি৷ একটা বাচ্চা যে কীভাবে বড় হচ্ছে, কাদের সঙ্গে মিশছে, কীভাবে বড় হওয়া উচিত এই জায়গাগুলোতে ছোটবেলা থেকেই মনোযোগ দিতে হবে৷ একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর চাইলেও অনেক কিছু হয় না৷ কারণ যে বাবা-মা আপনাকে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে অভ্যস্ত করছেন, তিনি কিন্তু আপনার লিমিট ঠিক করে দিচ্ছেন না৷ এই জায়গায় প্রথম থেকেই বাবা-মাকে সতর্ক হতে হবে৷ প্রযুক্তি ব্যবহারে খুব বেশি বাড়াবাড়ি হওয়া উচিত না৷ এটা বাবা-মাকে বুঝতে হবে৷

প্রিয় পাঠক, আপনি কিছু বলতে চান? তাহলে নীচে মন্তব্যের ঘরে লিখতে পারেন...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও