1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সাক্ষাৎকার

লাইসেন্স পেয়ে গেলেই ভেজাল ওষুধ উৎপাদন শুরু হয়

বাংলাদেশে ভেজাল ওষুধ নির্ধারণ করার মতো জনবল ও কার্যকারিতা নেই৷ কোম্পানিগুলো মানসম্মত ওষুধ উৎপাদন করে লাইসেন্স নেয়, পরে নিম্নমানের কাঁচামাল ব্যবহার করে৷ জানান জাতীয় ভেজাল প্রতিরোধ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এসএম মোরশেদ৷

এসএম মোরশেদ, জাতীয় ভেজাল প্রতিরোধ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান

এসএম মোরশেদ, জাতীয় ভেজাল প্রতিরোধ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান

ডয়চে ভেলে: আপনারা ভেজাল ওষুধ নিয়ে বহুদিন ধরে কাজ করছেন৷ বাংলাদেশে ভেজাল ওষুধের দৌরাত্ম্য এত বেশি কেন?

এসএম মোরশেদ: বাংলাদেশে ভেজাল ওষুধ নির্ধারণ করার মতো সরকারের পক্ষ থেকে যে জনবল রয়েছে, তা যথেষ্ট নয়৷ একেবারেই অপ্রতুল৷ সেজন্য ভেজাল প্রতিরোধে গত প্রায় আট বছর ধরে কাজ করছি আমরা৷ আমরা ভেজাল খাদ্যসামগ্রি ও ওষুধ তৈরিকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সচেতন করার জন্য জেলায় জেলায় প্রচারণা চালাচ্ছি৷ এ সব প্রতিষ্ঠানের কাছে গিয়ে কথা বলছি৷ আসলে সব কিছুতেই তো ভেজাল৷ যে কোনো ওষুধ কোম্পানিতে গেলে দেখবেন যে, তারা যখন লাইসেন্সটা নেয়, তখন মানসম্মত ওষুধ উৎপাদন করেই লাইসেন্সটা নেয়৷ কিন্তু লাইসেন্স পাওয়ার পর, তারা আর মানসম্মত ওষুধ তৈরির দিকে খেয়াল রাখে না৷ তখন নিম্নমানের কাঁচামাল দিয়ে ওষুধ উৎপাদন করে৷ ফলে এর ভুক্তভোগী হন সাধারণ মানুষ৷ অথচ সাধারণ জনগণ পয়সা দিয়েই এই ওষুধ কিনছেন৷ অথচ তাঁদের রোগ প্রতিরোধে তা কাজে আসছে না৷ তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন৷

ভেজাল ওষুধের কারণে শারীরিক অসুস্থতা বা মৃত্যুর ঘটনা কি ঘটে? এর কোনো পরিসংখ্যান আছে আপনাদের কাছে?

হ্যাঁ, আমাদের কাছে তথ্য আছে৷ সেসব তথ্য নিয়ে আন্দোলন করার কারণে প্রায় ৫২ টি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে সরকার নোটিস পাঠিয়েছে৷ ২০টি প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং বাকিগুলো প্রক্রিয়াধীন আছে৷

কোন লক্ষণগুলো দেখে বোঝা যায় যে ওষুধগুলো ভেজাল?

খোলা বাজারে বিশেষ করে চর্ম এবং যৌন রোগের ভেজাল ওষুধ বিক্রি হয়ে থাকে৷ এগুলো খেলে ক্যানসারের উপসর্গ দেখা দেয়, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়৷ এ ধরনের নিম্নমানের ওষুধ খেয়ে মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে৷ কিন্তু এগুলো নিয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করে না৷ বাংলাদেশে চিকিৎসা নিয়ে ব্যবসার কারণে এ সব ভেজাল ওষুধ খেয়ে অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷

অডিও শুনুন 07:57

‘খোলা বাজারে বিশেষ করে চর্ম এবং যৌন রোগের ভেজাল ওষুধ বিক্রি হয়ে থাকে’

দেশে আগাছার মতো ক্লিনিক গজিয়ে উঠছে, সেখানে ভেজাল ওষুধের দৌরাত্ম্য কতটা?

সরকারি হাসপাতালগুলোতে কিছু ওষুধ দেয়া হয়৷ আর বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হয় বেশি৷ ছোটখাটো বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে প্রায় ৯০ ভাগ ওষুধই ভেজাল৷

গ্রাম না শহর? কোথায় ভেজাল ওষুধ বেশি বিক্রি হয়?

ওষুধ যে ভেজাল হতে পারে – গ্রামের মানুষ তা চিন্তাও করতে পারেন না৷ তাঁদের কল্পনাতেও আসে না এটা৷ শহরের মানুষ এ বিষয়ে কিছুটা সচেতন৷ শহরে কিছুটা মনিটরিংও হয়৷ ওষুধ কোম্পানিগুলো গ্রামে-গঞ্জে এই ওষুধ ছড়িয়ে দেয় এবং চিকিৎসকদের উপঢৌকন দেয়, যাতে তাঁরা প্রেশকিপশনে এই ওষুধের নাম লেখেন৷ তাছাড়া গ্রামের অনভিজ্ঞ মানুষদের ওষুধের দোকানের কর্মচারীরা ওষুধ দিয়ে থাকে কোনো প্রেসক্রিপশন ছাড়াই৷ তারাই বলে দেয় কোন রোগের কী ওষুধ৷

ভেজাল ওষুধের কারণে গর্ভবতী নারীরা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন?

হ্যাঁ, তাঁরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন৷ কিন্তু হাসপাতালগুলো এগুলো চেপে রাখে, যাতে তা গণমাধ্যমে না আসে৷

এর প্রতিকার কী?

প্রতিকার পাওয়ার জন্য জনসচেতনতার বিকল্প নেই৷ তাই আমরা জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছি৷ আমরা বিভিন্ন সেমিনার করছি৷ যেসব কোম্পানি সরকারের ছত্রছায়ার আছে, তারা আমাদের পাত্তা দিতে চায় না৷ তারা পেশীশক্তি ব্যবহার করে আমাদের এই সচেতনতা বৃদ্ধি রোধ করার চেষ্টা করে৷ আসলে বাংলাদেশে যে আইন আছে, সেই আইনেরও প্রয়োগ নেই৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়