1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

মুক্তমনাদের হত্যায় ‘সেল্ফ সেন্সরশিপ' বাড়ছে

বাংলাদেশে মুক্তমনাদের উপর ধারাবাহিক হামলার কারণে দেশটিতে বাকস্বাধীনতা চর্চার পরিধি ক্রমশ সঙ্কুচিত হচ্ছে৷ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ সব হত্যাকাণ্ডের কারণে অনলাইনে অনেকেই ‘সেল্ফ সেন্সরশিপ' বেছে নিচ্ছেন৷

বাংলাদেশে গতমাসে তিনজন অ্যাক্টিভিস্ট, এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, এক হিন্দু দর্জি ও একজন পীর খুন হয়েছে৷ দুর্বৃত্তরা চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে তাদের হত্যা করে৷ এ সব হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে তথাকথিত ‘ইসলামিক স্টেট' এবং জঙ্গি গোষ্ঠী ‘আনসার আল-ইসলাম'৷

স্থানীয় গণমাধ্যমে জানাচ্ছে, গত ১৪ মাসে দেশটিতে অন্তত ৩৪টি মোটামুটি একই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে যাতে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ৩৫ ব্যক্তি, আহত ১২৯৷ অধিকাংশক্ষেত্রে দুর্বৃত্তরা চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মুক্তমনাদের হত্যা করেছে, যেগুলোর মধ্যে ২৩টি হামলার দায় স্বীকার করেছে মৌলবাদীরা৷ তবে বাংলাদেশ সরকার বরাবরই দেশটির মাটিতে আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠীর উপস্থিতির কথা অস্বীকার করে আসছে৷

ভুক্তভোগীদের দোষারোপ

গতবছর ডয়চে ভেলের ‘দ্য বব্স' অ্যাওয়ার্ডজয়ী মুক্তমনা ব্লগের মডারেটর বন্যা আহমেদ সাম্প্রতিক ধারবাহিক হত্যাকাণ্ড খুব শীঘ্রই বন্ধ হবে বলে মনে করেন না৷ চলতি মাসের শুরুতে বার্লিনে রি:পাবলিকা সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘‘যেসব লেখক এবং অ্যাক্টিভিস্ট গত কয়েকমাসে খুন হয়েছেন, তারা বাংলাদেশের সমাজে নারী, সংখ্যালঘু এবং সমকামীদের সমান অধিকারের পক্ষে কাজ করেছেন৷ নিহতদের কয়েকজন ধর্মান্ধতার সমালোচনাও করেছেন৷''

রি:পাবলিকায় দেয়া বক্তব্যে আহমেদ দক্ষিণ এশিয়ার দেশটির প্রধানমন্ত্রীসহ একাধিক রাজনীতিবিদের সমালোচনা করেছেন, কেননা তারা সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর শিকারদের দায়ী করে বিভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন৷

এদিকে, মুক্তমনাদের উপর হামলার পরিধি বাড়ায় আন্তর্জাতিক প্রেস ফ্রিডম সূচকগুলোতে বাংলাদেশের অবস্থানের আরো অবনতি ঘটেছে৷ প্যারিসভিত্তিক রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের এশিয়া অঞ্চলের প্রধান বেনজামিন ইসমাইল মনে করেন, বাংলাদেশে বাকস্বাধীনতা পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক৷ তিনি বলেন, ‘‘গত দু'বছর ধরে একের পর এক গুপ্তহত্যা এবং হামলা সাংবাদিক এবং ব্লগারদের মধ্যে ‘সেল্ফ সেন্সরশিপ' বাড়িয়ে দিয়েছে৷ যদি সরকার এসব প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ না নেয় তাহলে এখনই যেসব বিষয় নিয়ে লেখালেখি সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত, সেগুলো নিষিদ্ধ বিষয়ে পরিণত হবে৷''

সামাজিক যোগাযোগ গবেষক ফাহিম হোসেইন মনে করেন, সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর কারণে বাংলাদেশের মানুষ সামগ্রিকভাবে নিজেদের মত প্রকাশের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে৷ তিনি বলেন, ‘‘এই নিরাপত্তাহীনতা ব্যক্তি পর্যায় থেকে অনলাইন এবং অফলাইন মিডিয়াতেও ছড়িয়ে পড়ছে৷''

আইসিটি অ্যাক্ট ‘বাকস্বাধীনতার পরিপন্থি'

বন্যা আহমেদ, যিনি ডয়চে ভেলের ‘দ্য বব্স – বেস্ট অফ অনলাইন অ্যাক্টিভিজম' অ্যাওয়ার্ডের একজন বিচারক, বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) অ্যাক্টের সমালোচনা করেছেন৷ তিনি মনে করেন, এই অ্যাক্ট ব্যবহার করে দেশটিতে বাকস্বাধীনতার পথরুদ্ধ করা হচ্ছে৷

আহমেদ বলেন, ‘‘সংশোধিত আইসিটি অ্যাক্টে ইন্টারনেটে ধর্মের সমালোচনাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে যার শাস্তি ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড৷ আর এই আইন ব্যবহার করে ইতোমধ্যে অনেক সমালোচনামূলক লেখালেখি করা লেখক, ব্লগার এবং সাংবাদিককে হেনস্থা করা হয়েছে৷ পুলিশে এই আইনের আওতায় অনেককে গ্রেপ্তার করেছে৷''

দ্য স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ নিউ ইয়র্ক ইন কোরিয়া-র সহকারী অধ্যাপক ফাহিম হোসেইনও আহমেদের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেছেন৷ তিনি বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশে মুক্তমনারা সরকার এবং মৌলবাদী – উভয়পক্ষ থেকেই চাপের মধ্যে রয়েছে৷ আর তাই মুক্তমনারা অনলাইনে নিজেদের মত প্রকাশের ক্ষেত্রে হুমকি অনুভব করছেন, বলেন হোসেইন৷

বাংলাদেশে মুক্তমনাদের কি নিজস্ব মত প্রকাশের আর কোনো জায়গাই নেই? জানান মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন