1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

রাশিয়া

মার্কিন কূটনৈতিকদের বহিষ্কার করছে রাশিয়া

ক্রাইমিয়া দখল ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপের প্রচেষ্টার অভিযোগে রাশিয়ার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অনুমোদনের পর ৭৫৫ জন মার্কিন কূটনৈতিক কর্মীকে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিন৷

পুটিন রবিবারেই সাবধান করে দেন যে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক একটি দীর্ঘমেয়াদি রেষারেষির দিকে এগোচ্ছে৷ ‘রসিয়া-টোয়েন্টিফোর' টেলিভিশনের সাক্ষাৎকারে পুটিন বলেন, রাশিয়ায় মার্কিন দূতাবাস ও বাণিজ্য দূতাবাসগুলিতে ‘‘এক হাজারের বেশি মানুষ কাজ করতেন ও আজও করছেন''; তাদের মধ্যে ‘‘৭৫৫ জনকে রাশিয়ায় তাদের কার্যকলাপ ও গতিবিধি বন্ধ করতে হবে'', বলে পুটিন ঘোষণা করেন৷ মস্কোর দূতাবাস ছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাশিয়ায় তিনটি বাণিজ্য দূতাবাস আছে৷ সব ক'টি স্থানেই মার্কিন ও রুশ কর্মীরা কাজ করে থাকেন৷

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর রাশিয়ার সিদ্ধান্তকে  একটি ‘‘দুঃখজনক ও অপ্রয়োজনীয় পদক্ষেপ'' বলে অভিহিত করেছে৷ এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘‘আমরা এই সীমিতকরণের প্রভাব ও এক্ষেত্রে আমাদের প্রতিক্রিয়া কি হবে, তা যাচাই করে দেখছি৷''

Deutschland | Hamburg - G20 Donald Trump und Vladimir Putin

গত জি-টোয়েন্টি সম্মেলনে ট্রাম্প-পুটিনের আলাদা বৈঠক

গত শুক্রবার রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেপ্টেম্বরের পয়লা তারিখের মধ্যে রাশিয়ায় মার্কিন কূটনৈতিক কর্মীদের সংখ্যা কমিয়ে ৪৫৫ করতে বলে – ওয়াশিংটনে মস্কোর ঠিক যে সংখ্যক কূটনৈতিক কর্মী নিয়োজিত আছেন৷ পরে পুটিন সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ৭৫৫ করেন৷ তা সত্ত্বেও দৃশ্যত হিসাব না-ও মিলতে পারে, কেননা রাশিয়ায় সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল ম্যাকফাউল টুইটারে মন্তব্য করেছেন, ‘‘আমি যখন ওখানে ছিলাম, তখন গোটা দূতাবাসে অতোজন মার্কিন কর্মী ছিল না৷''

কর্মীসংখ্যা কমার ফলে রুশ নাগরিকদের তরফ থেকে ভিসার আবেদন বিবেচনা করতে আরো বেশি সময় – এমনকি কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস লেগে যেতে পারে, বলেছেন ম্যাকফাউল৷ অপরদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে যে, তাদের তরফ থেকে বিদেশে কর্মরত মার্কিন কর্মকর্তাদের সংখ্যার ব্যাপারে কোনোরকম মন্তব্য করা হয় না৷

রবিবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স এস্টোনিয়ায় পেট্রিয়ট রকেট প্রতিরক্ষা প্রণালী স্থাপনের সম্ভাবনা সম্পর্কে সোচ্চার চিন্তা করেন, যদিও বালটিক দেশটি ন্যাটোর সদস্য নয়৷

অপরদিকে পুটিন তাঁর সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কের ‘‘শীঘ্র উন্নতি'' প্রত্যাশা করে লাভ নেই৷ বরং রাশিয়ার ভবিষ্যতে উত্তরোত্তর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আরোপের অধিকার থাকছে, বলে তিনি মন্তব্য করেন৷

‘‘আমরা যথেষ্ট সময় ধরে অপেক্ষা করেছি এই আশায় যে, পরিস্থিতি হয়ত উন্নতির দিকে মোড় নেবে'', বলেন পুটিন৷ ‘‘কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, পরিস্থিতি বদলাচ্ছে বটে, কিন্তু শীঘ্র কখনো নয়৷''

এক ঢিলে দুই পাখি?

বৃহস্পতিবার মার্কিন সেনেট ৯৭-২ ভোটে যে বিলটি অনুমোদন করে, তা ইতিপূর্বে হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস-এ ৪১৯-৩ ভোটে গৃহীত হয়েছিল৷ কাজেই রাশিয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন কংগ্রেসের মনোভাব সম্পর্কে কোনো দ্বিধা থাকতে পারে না৷ এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যাতে তাঁর একক কর্তৃত্বে রাশিয়ার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার অবসান ঘটাতে না পারেন, বিলটিতে তারও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে৷

ভিডিও দেখুন 00:36

বিলটি প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর সাপেক্ষ হলেও, কংগ্রেসের উভয় কক্ষে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার ফলে প্রেসিডেন্ট তাঁর ভেটো প্রয়োগ করতে পারবেন না৷ অপরদিকে হোয়াইট হাউসের বিরুদ্ধে বিশেষ কৌঁসুলি রবার্ট মুলারের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে৷

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গত ডিসেম্বর মাসে ৩৫ জন রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার ও রুশ দূতাবাসের দু'টি গ্রীষ্মকালীন নিবাস বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেন – সংশ্লিষ্ট বাগানবাড়ি দু'টি গুপ্তচরবৃত্তির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছিল, বলে ওয়াশিংটনের অভিযোগ৷ পালটা প্রতিক্রিয়া হিসেবে রুশ সরকার পয়লা আগস্ট থেকে মস্কোয় মার্কিন দূতাবাসের একটি গ্রীষ্মকালীন নিবাস ও শহরে একটি স্টোরেজ ফ্যাসিলিটি বন্ধ করে দেবার ঘোষণা দিয়েছে৷

তবুও পুটিনের কণ্ঠে আপোশের সুর শোনা গেছে: তিনি দাবি করেছেন যে, রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই কঠিন সময়েও পরস্পরের সঙ্গে সহযোগিতা করে ফলাফল অর্জন করার ক্ষমতা রাখে – যার উদাহরণ হিসেবে পুটিন সিরিয়ায় ‘উত্তেজনা প্রশমন এলাকা' সৃষ্টির কথা বলেন৷

এসি/ডিজি (এএফপি, রয়টার্স, এপি, ডিপিএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়