1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

বিদেশিদের ওপর হামলার নেপথ্যে কারা?

বিদেশিদের ওপর হামলা কারা চালালো তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে৷ পুলিশ বলছে, হামলার আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় আহ্বান জানিয়ে লোকজন একত্র করার উদ্যোগও নিয়েছিল কিছু লোক৷ হামলার নেপথ্যের ওই মানুষগুলো কারা?

‘থার্টি ফার্স্ট নাইট'-এর কলঙ্কজনক ঘটনার রেশ কাটার আগেই শরণার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জার্মান কর্তৃপক্ষ৷ যে দেশের সরকার অভিবাসী গ্রহণে সবচেয়ে উদার নীতি অবলম্বন করেছিল, সেই দেশই গত ১লা জানুয়ারি থেকে আর অভিবাসন প্রত্যাশীদের সাদরে গ্রহণ করছে না৷ বরং বইতে শুরু করেছে উল্টো স্রোত৷ নতুন অভিবাসন প্রত্যাশীদের ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে অস্ট্রিয়ায়৷ প্রথমে দিনে ৫০-৬০ জন করে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছিল, এখন সংখ্যাটি বেড়ে দুই শতাধিক হয়েছে৷

বিশ্লেষকদের একটা অংশ মনে করছেন, ‘থার্টি ফার্স্ট নাইট'-এর উৎসবকে আতঙ্কময় দুঃস্বপ্নের কালোরাত করে দেয়া ঘটনার কারণেই শরণার্থীদের প্রতি জার্মান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির এই আকস্মিক পরিবর্তন৷

ডিসেম্বর থেকেই কিছুটা কঠোর হয়েছিল জার্মানি৷ তখন দিনে ৫০-৬০ জন অভিবাসন প্রত্যাশীকে ফেরানো হচ্ছিল৷ তবে ২০১৬ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে কোনো কোনো দিন ২০০-র বেশি মানুষকেও ফিরে যেতে হচ্ছে৷

জার্মানির প্রতিবেশি দেশগুলো অবশ্য আগে থেকেই এমন অবস্থানে৷ সুইডেন অভিবাসন প্রত্যাশীর স্রোত সামলাতে ডেনমার্ক সীমান্তে নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ কঠোর করেছে৷ ডেনমার্কও জার্মানি থেকে নতুন কোনো অভিবাসন প্রত্যাশী যাতে ঢুকতে না পারে, তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে৷ আর শরণার্থী বাড়াতে অস্ট্রিয়াও অনিচ্ছুক৷ তাই স্লোভেনিয়া সংলগ্ন সীমান্ত অবাধে অতিক্রম করে সেই দেশে প্রবেশ করা এখন আর সম্ভব হচ্ছে না৷ গত ১লা জানুয়ারিও ৬৫২ জন অভিবাসন প্রত্যাশীকে ফেরত পাঠিয়েছে অস্ট্রিয়া৷

জার্মানিতে এখন নতুন করে শরণার্থী গ্রহণের চেয়ে যাঁরা ইতিমধ্যে আশ্রয় পেয়েছেন, তাঁদের নিয়েই আলোচনাটা বেশি হচ্ছে৷ আলোচনা-সমালোচনা জোরদার হয়েছে কোলনে নারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক নিপীড়ন, নির্যাতনের ঘটনা ঘটার পরে৷ দক্ষিণপন্থিরা ইতিমধ্যে উদারভাবে শরণার্থী গ্রহণ করে দেশের সমস্যা বাড়ানোর অভিযোগে চ্যান্সেলর ম্যার্কেলের পদত্যাগের দাবিও তুলতে শুরু করেছে৷

তবে বিশ্বের সব প্রান্তেই এখন চলছে কোলন নিয়ে আলোচনা৷ ‘থার্টি ফার্স্ট নাইট'-এর কেলেঙ্কারির পর গত সোমবার সাতজন বিদেশির ওপর অজ্ঞাতপরিচয় কিছু ব্যক্তির হামলা আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে৷

প্রশ্ন উঠেছে, ২০১৫ সালের শেষ লগ্নের অনাকাঙ্খিত, অপ্রীতিকর ঘটনা কি বিদেশি-বিরোধীদের আবার সক্রিয় হবার সুযোগ করে দিলো? আরেকটা প্রশ্নও উঠেছে৷ সোমবার ছয় পাকিস্তানি এবং একজন সিরীয়র ওপর হামলা কি কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর চালানো পরিকল্পিত হামলা?

পুলিশ এ বিষয়ে নিশ্চিত যে সোমবারের হামলার আগে একটি গোষ্ঠী বিদেশিদের বিরুদ্ধে লোকজনকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করেছে৷ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তারা সক্রিয় ছিল – এমন প্রমাণও পেয়েছে পুলিশ৷ কোলন পুলিশের মুখপাত্র নরবার্ট ভাগনার বলেছেন, তাঁরা মনে করেন সোমবারের দু'টি হামলা ছিল ডানপন্থিদের বিদেশি-বিরোধী পরিকল্পিত হামলা৷

এসিবি/ডিজি (ডিপিএ, এএফপি, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়