1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সাক্ষাৎকার

‘বাংলাদেশের সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র বাড়তি সাহায্যও দিতে পারে'

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হবার পরই উঠে এসেছে কিছু প্রশ্ন– কেমন হবে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক? পোশাক রপ্তানি, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের ভবিষ্যৎ কী?

default

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবীর

সাক্ষাৎকারে এ সব প্রশ্নেরই উত্তর দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবীর৷

ডয়চে ভেলে : ট্রাম্পের ক্ষমতায় আসা  দুই দেশের সম্পর্কে  কি কোনো প্রভাব ফেলেছে?

এম হুমায়ুন কবীর : আমার কাছে মনে হয় সম্পর্ক যেভাবে ছিল এখনও সেভাবেই আছে৷ তবে এটাকে রুটিন সম্পর্কই বলব৷ আরেকটা জায়গা গভীরভাবে দেখতে হবে, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কটা কিন্তু এশিয়া পলিসির সঙ্গে সম্পর্কিত৷ কাজেই যুক্তরাষ্ট্র এশিয়াকে কিভাবে দেখে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক কী হবে, ট্রাম্প প্রশাসনের এশিয়া পলিসি কী হবে– সেই রুপরেখা আমরা দেখিনি৷ যদিও আমরা দেখছি, ট্রাম্পের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, ভাইস প্রেসিডেন্টও সাম্প্রতিক সময়ে এশীয় কয়েকটি দেশ সফরকালে এশিয়ার নিরাপত্তা ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে কমিটমেন্ট আছে সেটা বজায় থাকবে বলে বলছেন৷ অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন টিটিপি থেকে তাদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে৷ কাজেই এখানে আমরা মিক্স সিগন্যাল পাচ্ছি৷ যেহেতু এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা আসেনি এশীয় পলিসি সম্পর্কে এবং এশীয় নীতি পরিচালনা করার জন্য স্টেট ডিপার্টমেন্টেও কোনো কর্মকর্তার দায়িত্ব প্রাপ্তি ঘটেনি৷ কাজেই সেই প্রেক্ষাপটেও আমাদের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক কেমন থাকবে সেটার উপর খানিকটা প্রভাব ফেলতে পারে৷ এই মুহুর্তে আমাদের সঙ্গে তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যেমন ছিল, তেমনি আছে৷ 

অডিও শুনুন 08:52

‘বাংলাদেশিদের জন্যও খানিকটা সমস্যা হতে পারে বলে আমার আশঙ্কা’

আমাদের পণ্যের যে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের সুযোগ ছিল, সেটা ফিরে পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা আছে কি?

এই মুহুর্তে ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্যের ব্যাপারে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কি নীতি নেবে এটা নিয়েও এখনো সংশয় কাটেনি৷ জিএসপি বা খানিকটা শুল্ক রেয়াতে যে প্রবেশাধিকার পেতাম সেটা স্থগিত হয়েছে ২০১৩ সালে৷ ট্রাম্প প্রশাসনের এই মুহুর্ত পর্যন্ত যেহেতু কোনো নীতিমালা আসেনি, কাজেই এখনই এটা ফেরত পাওয়ার মতো কোনো অবস্থা তৈরি হয়েছে বলে আমার মনে হয় না৷ তবে আমাদের দিক দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটা পাবার প্রত্যাশা তো আমরা রাখি এবং আমাদের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে৷

 বাংলাদেশ-আমেরিকা সামরিক সম্পর্ক বর্তমানে কোন পর্যায়ে?

সামরিক সম্পর্ক আগে যেমন ছিল সেই পর্যায়েই আছে৷ কিন্তু এবার যে বাজেট পেশ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের কাছে, তাতে এই অঞ্চলের জন্য সামরিক খাতে ব্যয় কমাবার একটা প্রস্তাব আছে৷ যদি এটা কংগ্রেসে পাশ হয়, তাহলে হয়ত বাংলাদেশেও সামরিক সহায়তার বিষয়ে ঘাটতি পড়তে পারে৷ এটা একটা আশঙ্কা৷ আরেকটা যে দিক আছে, সেটা হলো, ট্রাম্প প্রশাসন সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একটা অবস্থান নিয়েছে৷ সেই অবস্থানের প্রেক্ষাপটে আগামী দিনে বাংলাদেশের সন্ত্রাসবাদবিরোধী কর্মকাণ্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বাড়তি সহযোগিতা পাওয়ার সম্ভাবনাও কিন্তু আছে৷

শান্তিরক্ষা তহবিল কমিয়ে দিয়েছে অ্যামেরিকা৷ এতে কি বাংলাদেশের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে?

প্রস্তাবিত বাজেটে যুক্তরাষ্ট্র শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে জাতিসংঘে তাদের যে অবদান বা চাঁদা সেটা কমাবার একটা ইঙ্গিত দিচ্ছে৷ এখন যে বাজেট প্রস্তাবনা ট্রাম্প প্রশাসন থেকে দেয়া হয়েছে সেটা যদি পাশ হয় তাহলে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের অবদান কমবে৷ সেটা কমার অর্থ দাঁড়াবে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা পরিচালনার সক্ষমতাও খানিকটা কমে আসবে৷ বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত যে পর্যায়ে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহন করছে তাতে খুব বড় ধরণের পরিবর্তন হবে বলে আমি মনে করছি না৷ তবে খানিকটা প্রভাব তো নিশ্চয়ই পড়বে৷

প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ায় বাংলাদেশে চলমান প্রকল্পগুলোতে কি কোনো প্রভাব পড়তে পারে?

খানিকটা তো হতেই পারে৷ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আমরা যে সহায়তা পেতাম, এখন তারা সেই জায়গা থেকে যদি অর্থ সরিয়ে নেয় বা সাহায্য স্থগিত করে, তাহলে আমাদের চলমান প্রকল্পগুলোতে আর্থিক সহযোগিতা পাব না৷ সেক্ষেত্রে আমরা খানিকটা ক্ষতিগ্রস্ত হতেই পারি৷

 ট্রাম্প প্রশাসন হিলারি এবং ড. ইউনূস ইস্যুতে তদন্ত শুরু করেছে৷ বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটা কি কোনো প্রভাব ফেলতে পারে?

 আসলে ট্রাম্প প্রশাসন নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনেটের জুডিশিয়াল কমিটি এটার তদন্ত করছে৷ তদন্তের ফলাফলের উপর নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র বা বাংলাদেশের উপর কোনো প্রভাব পড়বে কিনা৷

আগেও দেখেছি, মার্কিন প্রশাসন আমাদের সরকারের ওপর নানা দিক দিয়ে চাপ সৃষ্টি করেছিল৷ যেমন ড. ইউনূস এবং যুদ্ধাপরাধ ইস্যু৷ বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে কি আমাদের সরকার কোনো ধরনের চাপে পড়তে পারে?

চাপ তো আমরা কখনোই চাই না৷ যে কোনো দেশের জন্যই চাপ দেয়া হোক সেটাও আমরা চাই না৷ তবে এখনও সেটা বলা যাবে না৷ ট্রাম্প প্রশাসনের আন্তর্জাতিক নীতি কী হবে সেটা নিয়েও তো সুনির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা আমরা পাচ্ছি না৷ তবে আমাদের দিক থেকে অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে কেউ চাপ দিক সেটা আমরা চাই না৷

অ্যামেরিকা বাংলাদেশের নির্বাচন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে৷ আগামী জাতীয় নির্বাচনে অ্যামেরিকার প্রভাব কতটুকু থাকতে পারে?

বাংলাদেশের নির্বাচনে অ্যামেরিকার খুব প্রভাব আমি দেখি না৷ বাংলাদেশের নির্বাচনে জনগণকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং নির্বাচন কমিশনকে সেটা পরিচালনা করতে হবে৷ সরকার সেটা বাস্তবায়নের জন্য যতটুকু সাহায্য-সহযোগিতা দরকার সেটা করবে৷ এখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি পর্যবেক্ষণ করতে চায় সেটা ভালো৷ তাতে তো আমাদের আপত্তির কোনো কারণ দেখি না৷ এটা নির্বাচনকে যেন কোনোভাবেই প্রভাবিত না করে সেদিকে আমাদের সচেষ্ট থাকতে হবে৷ আমরা সেটাই প্রত্যাশা করব৷

সর্বশেষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের আগে অভিবাসীদের ব্যাপারে অনেক রকম আলোচনা হয়েছে৷ বাংলাদেশের যেসব অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে আছেন ট্রাম্প প্রশাসন আসার পর তাদের ব্যাপারে কি সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আসতে পারে?

এখনো পর্যন্ত নাই৷ তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসন যেভাবে যাচ্ছে, তাতে করে রাজনৈতিকভাবে তারা যদি চাপের মুখে পড়ে তাহলে অভিবাসন ইস্যুটা তাদের সস্তা রাজনৈতিক হাতিয়ার হতে পারে৷ তেমনটা যদি ঘটে তাহলে অন্যান্য দেশের অভিবাসীসের সঙ্গে বাংলাদেশিদের জন্যও খানিকটা সমস্যা হতে পারে বলে আমার আশঙ্কা৷

আমাদের সরকার এক্ষেত্রে কোনো ভূমিকা রাখতে পারে?

পারে৷ নিশ্চয়ই পারে৷ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগেও করেছে, এখনো করতে পারে৷ কূটনৈতিকভাবে ট্রাম্প প্রশাসনকে বোঝানো বাংলাদেশিরা ইতিবাচকভাবেই তাদের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে৷ তারা শান্তিপূর্ণভাবে সেখানে বসবাস করছে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের একটা ভিত্তি রচনা করছে৷ এসব মিলিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবিটা জোরালোভাবে উপস্থাপন করতে পারলে বাংলাদেশিরা হয়ত খানিকটা সুবিধায় থাকবে৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়