1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

আলাপ

বাংলাদেশের শ্রমশক্তি রপ্তানির নতুন বাজার দরকার

বাংলাদেশে বৈদেশিক মূদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান খাত জনশক্তি রপ্তানি৷ আর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোই এখনো জনশক্তি রপ্তানির প্রধান টার্গেট৷ গত তিন বছরে এই জনশক্তি রপ্তানি কিছুটা বাড়লেও অর্থনৈতিক মন্দার কারণে আয় কমছে৷

আয় কমার প্রধান কারণ, জনশক্তি আমাদনীকারক দেশগুলো প্রবাসী শ্রমিকদের আর আগের মতো মজুরি দেয় না৷ দক্ষ শ্রমিকের অভাবও এর একটি কারণ৷

জনশক্তি রপ্তানি বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে জনশক্তি রপ্তানির প্রচলিত বাজার সংকুচিত হয়ে আসছে৷ তাই প্রয়োজন নতুন বাজার৷ তবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ডয়চে ভেলের কাছে দাবি করেছেন, ‘পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাচ্ছে৷'

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, ২০১৫ সালে বাংলাদেশ থেকে মোট জনশক্তি রপ্তানি হয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ ৫৬ হাজার, যা সর্বশেষ তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ৷ আর এখন বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে সবচেয়ে বেশি জনশক্তি রপ্তানি করছে৷

বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানিতে শীর্ষে থাকা সৌদি আরবের অবস্থান এখন তৃতীয়৷ বাংলাদেশ থেকে তারা পুরুষ শ্রমিক নেয়া বন্ধ রেখেছে৷ আগের চেয়ে বেশি হারে নারী শ্রমিক রপ্তানির কারণেই সৌদি আরব এখন তৃতীয় স্থানে রয়েছে৷

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ৩৯৩ কোটি ডলার, যা ২০১৪-১৫ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৪০১ কোটি ডলার৷ সে হিসেবে এই খাতে ৮ কোটি ডলার রেমিট্যান্স কমেছে৷

২০১৫ সালে ওমানে গেছে সর্বোচ্চ সংখ্যক, প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার শ্রমিক, যা মোট জনশক্তি রপ্তানির ২৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ৷ আর দ্বিতীয় স্থানে থাকা কাতারে গেছে প্রায় এক লাখ ২৪ হাজার, যা মোট রপ্তানির ২২ দশমিক ৩০ শতাংশ৷ আর বাংলাদেশ থেকে ৫৮ হাজার ২৭০ কর্মী নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সৌদি আরব৷

এদিকে মালয়েশিয়ার চেয়েও বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির বড় বাজার হয়ে উঠেছে সিঙ্গাপুর৷ বাংলাদেশের মোট জনশক্তি রপ্তানির শতকরা ১০ ভাগ নিয়ে সিঙ্গাপুর চতুর্থ এবং শতকরা সাড়ে পাঁচ শতাংশ নিয়ে মালয়েশিয়া এখন পঞ্চম স্থানে৷

মালয়েশিয়া বাংলাদশ থেকে ১৫ লাখ কর্মী নেয়ার চুক্তি করলেও তা তাদের নতুন সিদ্ধান্তের কারণে কার্যকর হচ্ছে না৷ দেশটি আপাতত বিদেশ থেকে কর্মী নেয়া বন্ধ রেখেছে৷ আর ইরাক এবং লিবিয়ায় বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক রপ্তানি বন্ধ আছে সেই দুটি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে৷ এছাড়া কয়েকদিন আগে বাংলাদেশের উচ্চ আদালত লিবিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের যাওয়ার ওপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে৷

অডিও শুনুন 04:41

‘সৌদি আরব, দুবাই ও কাতারে পুরুষ জনশক্তি রপ্তানি এখন বন্ধ’

জনশক্তি রপ্তানি বিশ্লেষক হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সৌদি আরব, দুবাই এবং কাতারে পুরুষ জনশক্তি রপ্তানি বন্ধ আছে৷ লিবিয়া এবং ইরাকে পাঠানো যাচ্ছে না সেখানকার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে৷ আর সিঙ্গাপুরে ভালো সম্ভাবনা থাকলেও আইএস সন্দেহে সেখানে কিছু বাংলাদেশি শ্রমিক আটক হওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি খারাপের দিকে৷ মালয়েশিয়া বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীায় হলেও তারা এখন শ্রমিক নিচ্ছে না৷ অন্যদিকে কোরিয়া তাদের নির্মাণ খাতে বিপূল সংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক নেয়ার কথা বললেও তা এখনো শুরু হয়নি৷'’

তিনি আরো জানান, ‘‘মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে এখন বাংলাদেশের নারী শ্রমিকরা যাচ্ছেন৷ কিন্তু সেখান থেকেও হয়রানি, স্বল্প মজুরি দেয়াসহ নানা অভিযোগের খবর পাওয়া যাচ্ছে৷'’

সৌদি আরব কিছু দিন পুরুষ শ্রমিক না নিলেও বাংলাদেশ সরকার পুরুষ শ্রমিক নেয়ার জন্য সৌদি আরবের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার পর এখন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে বলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, তিনি বলেন, ‘‘এখন আর সৌদি আরবে পুরুষ শ্রমিক পাঠাতে বাধা নেই৷'’

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা নতুন নতুন বাজার খোঁজার চেষ্টা করছি৷ এরইমধ্যে আমি এ জন্য রাশিয়া, থাইল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া সফর করেছি৷ রাশিয়ায় শ্রমশক্তি পাঠানো হয়েছে৷ অস্ট্রেলিয়াও আমাদের লোক নেবে৷'’

অডিও শুনুন 00:49

‘আমরা নতুন বাজার খোঁজার চেষ্টা করছি’

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘‘সৌদি আরবে শিগগিরই পুরুষ শ্রমিক যেতে পারবে৷ মালয়েশয়িাও আশা করি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে৷'’

তাঁর মতে, ‘‘এখন বাংলাদেশ থেকে বিদেশে শ্রমিক রপ্তানির পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে৷ রেমিট্যান্স প্রবাহও আশাব্যঞ্জক৷ আমাদের দক্ষ শ্রমিকের হারও বাড়ছে৷'’

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ২৭৮ জন কর্মী বিদেশে গেছেন৷ পরের বছর ২০১০ সালে পরিস্থিতি খারাপ হলেও, ২০১১ সালে পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার ও ২০১২ সালে ৬ লাখ ৮ হাজার কর্মী বিদেশে যান৷

দক্ষ বাংলাদেশি শ্রমিকের অভাব দেখা দিয়েছে কেন? আপনার মতামত জানান, লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়