1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সাক্ষাৎকার

‘ফুটবলকে বাঁচাতে হলে সালাউদ্দিনকে শোধরাতে হবে’

কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশের ফুটবল নাকি এখন সৎকারের অপেক্ষায়৷ গোলাম সারোয়ার টিপু এতটা নেতিবাচক নন৷ তীব্র হতাশা নিয়ে ফুটবলের মৃতপ্রায় দেহে প্রাণ ফেরানোর কিছু উপায় বলেছেন জাতীয় দলের এই সাবেক খেলোয়াড় ও কোচ৷

দেশের ফুটবলকে কেন ‘মৃত' ঘোষণা করে সৎকারের কথাও বলতে শুরু করলেন কেউ কেউ? এটা কি স্রেফ হেঁয়ালি?  পুরোপুরি হেঁয়ালি মনে করা যাচ্ছে না, কারণ, সম্প্রতি ভুটানের কাছেও (৩-১) হেরেছে বাংলাদেশ৷ তারপর থেকেই শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)-র বিরুদ্ধে কামান দাগানো৷ প্রচুর লেখালেখি হয়েছে৷ সাবেক ফুটবলারদের বড় একটা অংশ সরব হয়েছেন আবার৷ তাঁদের অধিকাংশেরই দাবি বাফুফে'র সভাপতি পদে পরিবর্তন৷ তাঁরা মনে করেন, সভাপতি হিসেবে আট বছরে ভালো কিছুই করতে পারেননি সালাউদ্দিন, বরং তাঁর সময়ে নামতে নামতে বাংলাদেশের ফুটবল প্রায় কবরে ঢুকে পড়েছে৷ এখন নাকি শুধু জানাজার অপেক্ষা৷ টেলিফোনে গোলাম সারোয়ার টিপু'র কাছে প্রথমে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ‘‘বাংলাদেশের ফুটবলের মান এখন একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে- কথাটা কি ঠিক?''

এ প্রশ্নের উত্তরে বাফুফে সভাপতিও হয়ত ‘‘হ্যাঁ'' বলবেন৷ গোলাম সারোয়ার টিপু কথাটা বললেন ঘুরিয়ে৷ ফুটবলের চরম অধঃপতনের প্রমাণ হিসেবে ফিফা'র সর্বশেষ ব়্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের আরো নিম্নগামী হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে বললেন, ‘‘আমাদের ব়্যাংকিং এখন ১৮৮৷ এর নীচে আর কোথায় নামবো?''

অডিও শুনুন 32:10

‘আসলে সুদূরপ্রসারী কোনো চিন্তা কখনোই বোধহয় আমাদের ছিল না’

অবশ্য ব়্যাংকিংই যে শেষ কথা নয়, তা তিনি মানছেন৷ কিন্তু দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলেও যে বাংলাদেশ আর সমীহ আদায়ের অবস্থায় নেই- এই বাস্তবতা ফুটবল সংশ্লিষ্ট প্রায় সবার মতো তিনিও মেনে নিতে পারছেন না৷ এ প্রসঙ্গে তাঁর সোজাসাপ্টা কথা হলো, ‘‘এক সময় ভারতের সঙ্গে চারটা ম্যাচ খেললে আমরা হয়ত একটায় ড্র করেছি বা একটায় জিতলেও জিতেছি৷ ব্যবধান খুব বেশি হতো না৷সার্কভুক্ত অন্যান্য দল, যেমন পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ এদের সঙ্গে তো আমরা বেশিরভাগ সময় হেসেখেলেই জিততাম, তাইনা? সেই জায়গায় গত তিনটি সাফে আমরা সেমি ফাইনালেই উঠতে পারিনি৷''

তা আট-নয় বছর আগেই কি দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে বাংলাদেশের ফুটবলের অবনমন শুরু এবং ক'দিন আগে ভুটানের সঙ্গে হেরে শেষ? প্রশ্নোত্তরের গতানুগতিকতায় শুরু হলেও পরে দীর্ঘ আলোচনায় রূপ নেয়া সাক্ষাৎকারটিতে বর্তমান ফেডারেশন বা বর্তমান সভাপতির ঘাড়ে সব দায় তুলে দেননি গোলাম সারোয়ার টিপু৷ ফুটবলের বর্তমান অবস্থা এবং এ অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় দেখাতে গিয়ে তিনি অনেকটা সময় নিয়ে যা যা বলেছেন তাঁর চুম্বক অংশ এরকম৷

ডয়চে ভেলে: ফুটবলের এ অবস্থার জন্য কি বাফুফের বর্তমান কমিটিই দায়ী?

গোলাম সারোয়ার টিপু: ৷ শুধু বর্তমান বাফুফের ওপর সব দায় দিতে হবে, এটা আমি মানতে রাজি নই৷ আমরা বোধহয় (অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়) খেয়ালই করিনি৷ আমরা বোধহয় খেলায় অনেক দর্শক হয়, মোহামেডান-আবাহনীর ফ্ল্যাগ ওড়ে-  এসব দেখে মনে করেছি ফুটবল ঠিক আছে৷কিন্তু এটার জন্য যেসব কাজ করার দরকার ছিল, যেমন, ক্রেজটাকে ধরে রাখা, মানুষের আবেগ-অনুভূতিকে ‘ক্যাশ' করা, প্রত্যন্ত এলাকা থেকে ব্রিলিয়েন্ট ছেলেগুলিকে তুলে আনা- এই জায়গাগুলি আমরা কোনো সময়ই খেয়াল করিনি৷

এই পরিস্থিতির জন্য বাফুফের বর্তমান কমিটি কতটা দায়ী? তাদের ব্যর্থতাগুলো কোন কোন জায়গায়?

আমরা আসলে কোনো টার্গেট ফিক্স করিনি৷ আমরা আগামী তিন বছরে বা পাঁচ বছরে বা সাত বছরে কোথায় যাবো, কোথায় যেতে চাই এবং আমরা কোন জায়গায় ‘ডমিনেট' করবো সেই জায়গাগুলো স্থির করিনি৷ এর বাইরে পাইপলাইন, অর্থাৎ (নতুন খেলোয়াড়) তৈরি করার জন্য যে কাজগুলো, যেমন ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট, জেলা পর্যায়ের খেলাগুলো, স্কুলের বা বয়সভিত্তিক খেলাগুলোর দিকে এই কমিটির কোনো নজরই নেই৷ ফেডারেশন শুধু চমক দেখানোর তালে ছিল৷ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের দায়িত্বতো বাংলাদেশ ফুটবল৷ শুধু ঢাকা লিগ (চালিয়ে যাওয়া) তো তাদের কাজ নয়৷

সবকিছুর জন্য সালাউদ্দিনই দায়ী?

না, ব্যর্থতাটা ধারাবাহিক৷ এজন্য যে শুধু এই ফুটবল ফেডারেশনই দায়ী, তা নয়৷ কিন্তু স্বনামধন্য সাবেক ফুটবলার সালাউদ্দিনের কাছেতো অনেক প্রত্যাশা ছিল৷ আসলাম, রুপু, ইলিয়াস, বাদল রায়ের মতো এক সময়ের নামকরা খেলোয়াড়রাও আছে সালাউদ্দিনের সঙ্গে৷ তারপরও কেনো আমরা কিছু করতে পারছিনা? হতাশা বা দুঃখবোধটা সেখানে৷ শুধু এই ফেডারেশনই যে ব্যর্থ হয়েছে, তা নয়৷ কিন্তু আগে কেউ করেনি বা পারেনি বলেইতো সালাউদ্দিনরা পারবে বলে আশা করেছিলাম৷ তারা আরো খারাপ করল৷ এর কারণ, তারা শুধু জাতীয় দল নিয়ে চমক দেখানোর চিন্তা-ভাবনা করেছে৷ মেসিকে ডেকে এনে একটা ম্যাচ খেলানো, কোটি টাকার টুর্নামেন্ট - এইসব করেছে৷ পাইপলাইনে যে খেলোয়াড় আসছে না সেদিকে একটুও খেয়াল করেনি এবং এ কারণে আমরা এই পর্যায়ে এসে পৌঁছেছি৷ শুধু চমক না দেখিয়ে আমরা তো নতুন উদ্যমে বয়সভিত্তিক কিছু প্রতিযোগিতা শুরু করতে পারতাম৷ মেসি যে এখানে এসে খেলে গেলেন, সেই খেলার ভিডিও দেখিয়ে আমাদের বাচ্চাদের উদ্বুদ্ধ করতে পারতাম৷ তা-ও তো করা হয়নি৷

ফুটবলের এ অবস্থার জন্য ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা এবং সাফল্যও কি দায়ী?

না, এ জন্য আমরা ক্রিকেটকে দোষারোপ করতে পারি না৷ সাবের হোসেন চৌধুরী যখন টেস্ট স্ট্যাটাসের জন্য দৌড়াদৌড়ি করছেন, তখন আমরা অনেকেই কিন্তু তাঁকে নিয়ে হেসেছি৷ অনেকে তাঁকে তখন পাগলও বলেছি৷ অনেকে ভেবেছি, কী কারণে টেস্ট স্ট্যাটাস নেয়ার চেষ্টা হচ্ছে? আমরা কোথায়, কার সঙ্গে খেলবো? কিন্তু তাঁর (সাবের হোসেন চৌধুরী) চিন্তায় ছিল, টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়া মানে ইন্টারন্যাশনাল এক্সপোজারটা হয়ে গেল৷ সাবের হোসেন চৌধুরী যে একাই সব করেছেন সে কথা আমি বলবো না৷ আসলে তিনি এবং তাঁর সঙ্গে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা সবাই তখন অনেক দূরের চিন্তাটা করতে পেরেছিলেন বলেই আজ ক্রিকেট এই জায়গায় এসেছে৷ এখন যে ক্রিকেট আমাদের এক নম্বর খেলা হয়ে গেছে সেটা অস্বীকার করার জো নেই৷ তাই বলে এটা তো ক্রিকেটের দোষ নয়৷ আমরা কেন সঙ্গে সঙ্গে ফুটবলটাকেও এগিয়ে নিতে পারলাম না?

তো দেশের ফুটবলের উন্নয়নের জন্য যদি পাঁচটি বা দশটি করণীয় নির্ধারণ করতে বলি, সেখানে কোন কোন বিষয় উল্লেখ করবেন?

প্রথমে আমাদের খুব জনপ্রিয় যে দুটি আন্তঃজেলা প্রতিযোগিতা ছিল, অর্থাৎ শেরে বাংলা কাপ আর সোহরাওয়ার্দি কাপ, সেই দুটো খুব তাড়াতাড়ি আবার শুরু করতে বলব৷ এগুলো শুরু হলে দেখা যাবে দর্শকদের আনাগোনা শুরু হয়ে গেছে৷ নিজেদের দলকে সমর্থন জানাতেই দর্শক আসতে শুরু করবে৷ এর ফলে জেলা পর্যায়েও খেলা শুরু হবে৷ কিছু কিছু ছেলের মধ্যে ফুটবলের প্রতি আগ্রহ আবার ফিরবে৷ এছাড়া খেলোয়াড় তুলে আনার জন্য ইয়ুথ একাডেমিটা করতেই হবে৷ ইউরোপে ক্লাবগুলো একাডেমি করে৷ ফেডারেশন বা এসোসিয়েশন একটা সময় সেই একাডেমি থেকে উঠে আসা খেলোয়াড়দের পেয়ে যায়৷ আমাদের যে আর্থ-সামাজিক অবস্থা তাতে ক্লাবগুলোর পক্ষে একাডেমি করা সম্ভব নয়৷ ক্লাবগুলোর তো মাঠই নেই, তারা একাডেমি করবে কীভাবে? এ কারণে বাফুফেকেই ভালো কিছু একাডেমি করতে হবে৷ ভালো কোচ, ভালো ইন্সট্রাকটরসহ যত ধরণের সহায়তা দিতে হয় সব দিয়েই একাডেমিগুলো করতে হবে৷ এবং পাশাপাশি নির্দিষ্ট মেয়াদের লক্ষ্য স্থির করে কাজ করে যেতে হবে৷

আপনি কি মনে করেন সালাউদ্দিনকে সরালেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে? এমন দু-একজনের নাম বলবেন, যাঁরা যাঁরা সালাউদ্দিনের জায়গায় এলে অবস্থার উন্নতি মোটামুটি নিশ্চিত হতে পারে?

দেখুন, বাফুফের বিষয়ে, বিশেষ করে সালাউদ্দীনকে নিয়ে কথা বললে মনে হবে আমি হয়ত ব্যক্তিগত জায়গা থেকে কথাগুলো বলছি৷ আসলে ব্যাপারটা তা নয়৷ কমিটিতে এখন যেসব ফুটবলার আছেন, তাঁরা কথাই বলতে পারেন না৷ পুরোপুরি ডিক্টেটরশিপ চলছে৷ সে (সালাউদ্দিন) কারো কথাই শোনে না৷ সালাউদ্দিনের মতো অন্যরাও তো নির্বাচিত হয়েই কমিটিতে এসেছে, কিন্তু সে কারো কোনো কথাই শোনে না৷ কারো কোনো পরামর্শই সে শোনে না৷ এটাই আসল সমস্যা৷ আর আমি তো নির্বাচনে আমিন আহমেদ চৌধুরীকে সমর্থন দিয়েছিলাম৷ সে কারণে আমার বিরুদ্ধে আজেবাজে কথা বলায় গত নয় বছরে আমি বাফুফের সিঁড়িতেও পা দিইনি৷ তবে সবকিছুর পরেও আমি চাইবো সে-ই শোধরাক৷ তাকে সরিয়ে অন্য কাউকে নিয়ে এলেই যে সব রাতারাতি ঠিক হয়ে যাবে, আমি তা মনে করিনা৷ তাই আমি চাইবো সে-ই শোধরাক৷ সে চমৎকার একজন ফুটবলার ছিল আর এ কারণে সে এখনো মন্ত্রণালয়ে সম্মান পায়, এখনো সবার সহযোগিতা পায়৷ তার কাছে যে প্রত্যাশা করা হয়েছিল তা অমূলক ছিল না৷ তবে যেভাবে সে ফেডারেশনটা চালাচ্ছে, সেটা ঠিক নয়৷ সে ট্র্যাকে আসুক, (ফুটবলকে) ট্র্যাকে আনুক, সেটাই আমি চাই৷ (সভাপতি) পরিবর্তন হলেই যে ফুটবলের আবার উন্নতি শুরু হবে, আই ডোন্ট বিলিভ দ্যাট৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়