1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ব্লগওয়াচ

ভুটানের কাছে হার বাংলাদেশের জন্য ভাল খবর হতে পারে!

হ্যাঁ৷ কারণটা হচ্ছে, সোমবার ভুটানের কাছে প্রথম হারের (১-৩) কারণে বাংলাদেশ আগামী ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়া কাপের বাছাইপর্বে খেলার যোগ্যতা হারিয়েছে৷ আর ২০১৮ বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব থেকে আগেই বাদ পড়েছে বাংলাদেশ৷

ফলে আগামী তিন বছর ফিফা ও এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের আর কোনো খেলা খেলতে হবে না বাংলাদেশকে৷ ঢাকার এক জাতীয় দৈনিকে এমন তথ্যই প্রকাশিত হয়েছে৷ ভুটানের সঙ্গে হারের পর বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তাই এক পর্যায়ে এই হার থেকে ভালো কিছু খুঁজে পাওয়ার আশা করেছেন প্রতিবেদক মাসুদ আলম৷ ফুটবলের সাম্প্রতিক হতাশার খবরগুলো একের পর এক উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, ‘‘ভুটান বিপর্যয় তাই এক দিক থেকে বড় উপকারই করেছে দেশের ফুটবলের৷ এই ‘মৃত' জাতীয় দল নিয়ে টানাটানি এবার বন্ধ হবে৷ এই দলের জন্য ঘরোয়া লিগ বন্ধ থাকে দিনের পর দিন৷ সব টাকা চলে যায় বিদেশি কোচদের বেতনে৷ যে কারণে দুই মাস ধরে বন্ধ স্থানীয়দের বেতন৷ ভুটান শিক্ষা মাথা পেতে এবার যদি কর্তারা টাকার সঠিক ব্যবহার করে তৃণমূলে নজর দেন৷ নতুন খেলোয়াড় তুলে এনে যদি নতুনভাবে শুরু করেন ফুটবলের পথচলা, সেই বরং ভালো!’’

অনেকটা এমনই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ফেসবুক ব্যবহারকারী আনারুল ইসলাম রানা৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘এখন থেকে বাংলাদেশ তিন বছর ফিফা, এএফসির কোনো ম্যাচ পাবে না৷ সুতারাং ফুটবলে টাকা ঢালা বাদ দাও৷ বাফুফে'কে বিলুপ্ত ঘোষণা কর৷ সালাউদ্দিনদের বেতন ভাতা বন্ধ কর৷ সম্ভাবনাময় খেলাগুলোতে বিনিয়োগ কর৷ তিন বছর পরে তারা যদি নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারে তবে আবার সব শুরু করা যাবে৷''

ফিফার সবশেষ ব়্যাংকিংয়ে ভুটানের অবস্থান ১৮৯, আর বাংলাদেশের ১৮৫ - যা এখন পর্যন্ত দেশের সবচেয়ে বাজে ব়্যাংকিং (উপরের ছবিটি খেয়াল করুন)৷ সোমবারের ম্যাচের আগে বাংলাদেশের সঙ্গে ভুটান ১১টি ম্যাচ খেলেছিল৷ তিনটিতে ড্র হয়েছিল আর বাকিগুলোতে জিতেছিল বাংলাদেশ৷ সেই ভুটানের সঙ্গে হারায় সমর্থকদের একটি অংশ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের উপর বেশ ক্ষিপ্ত৷ তাঁরা তাঁর পদত্যাগ চেয়েছেন৷ জামান পায়েল লিখেছেন, ‘‘ফুটবল ফেডারেশন সভাপতিকে নাঙ্গা করে নান্না মুন্না বানিয়ে দিল ভুটান ফুটবল দল৷ ভুটান ৩ - বাফুফে সভাপতি ১৷ মনে রাখা দরকার যে ভালো খেলোয়াড় হলেই ভালো সংগঠক হওয়া যায় না৷'' ফিরোজ আহমেদ লিখেছেন, ‘‘বাংলাদেশ ফুটবল দল আর কত ব্যর্থ হলে, বাফুফে সভাপতি সফলতা লাভ করবেন? ব্যর্থতারও একটা শেষ আছে!''

তবে ফুটবলের এমন অবস্থার জন্য খেলোয়াড়দেরও দায়ী করছেন অনেকে৷ মনিরুল ইসলাম বাবু লিখেছেন, ‘‘... বাংলাদেশের ফুটবলাররা ওভাররেটেড৷ এরকম মানের খেলোয়াড়দের আয় বছরে কখনো ৩০-৪০ লক্ষ টাকা হতে পারেনা, হওয়া উচিতও নয়৷ ফুটবলে উন্নত দেশগুলোতে এমন মানের ফুটবলাররা চাকরির পাশাপাশি ফুটবল খেলে৷ অথচ আমাদের দেশে ফুটবলের উন্নতির জন্য কোনো কোচ যদি খেলোয়াড়দের একটু বেশি পরিশ্রম করিয়ে নেয়, তাহলে তাঁকে বিদায় হতে হয়৷ ব্রাজিলিয়ান কোচের বেলায় যেটা হয়েছিল৷''

এক টুইটার ব্যবহারকারীও ফুটবলারদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন৷ তিনি বর্তমান খেলোয়াড়দের একেবারে বাদ দিয়ে তরুণ ফুটবলার খুঁজে তাঁদের দিয়ে নতুন করে জাতীয় দল গঠন করার প্রস্তাব দিয়েছেন৷

অবশ্য ফয়সল সিজার এমন ফলাফলে অবাক হননি৷ তিনি বলছেন, বাফুফে শুধু কথা বলা ছাড়া আর কিছু করতে পারে না৷ ‘‘আর কখনও বলবেন না যে, আমাদের ফুটবলের ভবিষ্যৎ আছে৷ অর্থ আর সময়ের অপচয়,'' লিখেছেন সিজার৷

এদিকে, ভুটানের কাছে হারের মাধ্যমে বাংলাদেশে ফুটবলের কালো অধ্যায় শুরু হলো বলে মন্তব্য করেছেন এসএম বাবলু৷ আরেক টুইটার ব্যবহারকারী অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবল দলের সঙ্গে জাতীয় দলের খেলার প্রস্তাব দিয়েছেন৷

২০১৫ সালে বাংলাদেশের ফুটবলের দুরবস্থার খবর এক নজরে জানা যাবে বাফুফের এই টুইট থেকে৷

সংকলন: জাহিদুল হক

সম্পাদনা: আশীষ চক্রবর্ত্তী

প্রিয় পাঠক, ভুটানের কাছে হারের পর আপনার যা মনে হয়েছে তা জানাতে পারেন নীচে মন্তব্যের ঘরে৷

 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়