1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

প্রতিরক্ষা চুক্তি কি হচ্ছে?

এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর নিয়ে দিল্লির মূল আগ্রহ ঢাকার সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি৷ এর জন্য বাংলাদেশকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ সহয়তা দিতে প্রস্তুত ভারত৷ তবে বাংলাদেশ প্রাধন্য দিচ্ছে তিস্তার পানিবন্টন চুক্তির ওপর৷

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস-এর খবরে বলা হয়েছে, ‘‘ভারত এমন একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি চাইছে যার আওতায় প্রশিক্ষণ, সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি এবং দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পায়৷' নিজস্ব সূত্রের বরাত দিয়ে এতে আরও বলা হয়, ‘প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের ব্যাপারে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে, তবে এখনও চূড়ান্ত হয়নি৷ বাংলাদেশের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার জন্য ভারত ৫০০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত  ঋণ সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত৷ চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে এটি হবে প্রতিরক্ষা খাতে ভারতের এ যাবতকালের সর্বোচ্চ ঋণ-সহযোগিতা৷

গত বছরের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ চীনের কাছ থেকে দু'টি সাবমেরিন কিনেছে, যা স্বাভাবিকভাবেই ভারতের জন্য অস্বস্তিকর অবস্থা তৈরি করে৷ বলা বাহুল্য, বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি সামরিক সরঞ্জামও সরবরাহ করে চীন৷ গত বছর বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা খাতে ২৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ-সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটি৷ চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর ঢাকা সফরে এ ব্যাপারে কয়েকটি চুক্তিও সই হয়৷

দক্ষিণ-এশিয়াভিত্তিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বলছে, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাক্ষরিত কয়েকটি চুক্তি এবং তাদের কাছ থেকে সাবমেরিন কেনার পর ভূরাজনৈতিক নিরাপত্তার প্রশ্নে উদ্বিগ্ন ভারত৷ সেই উদ্বেগ দূর করতেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে প্রতিরক্ষা চুক্তির তোড়জোড় করছে ভারত৷ হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ‘প্রতিরক্ষা খাতে চীন-বাংলাদেশ নৈকট্য বাড়ছে৷ আর এ কারণেই বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির ব্যাপারে ভারত উঠেপড়ে লেগেছে৷'

অডিও শুনুন 04:12

‘নো হার্ম পলিসি মেনে যদি চুক্তি হয়, তাহলে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই’

বাংলাদেশের নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল আব্দুর রশীদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা চুক্তি যদি সহযোগিতামূলক হয় তাহলে তা উভয় দেশের জন্যই ভালো হবে৷ বাংলাদেশ যদি আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ভারতের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেরাই তৈরি করতে পারে তাহলে তা অনেক কাজে দেবে৷''

তিনি বলেন, ‘‘ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বের দিক বিবেচনা করলেও এর গুরুত্ব আছে৷ ভারত মহাসাগরে বাংলাদেশ ও ভারত যৌথভাবে একটা অবস্থান তৈরি করতে পারে৷ এর মাধ্যমে সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একক কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে৷''

তিনি বলেন, ‘‘নো হার্ম পলিসি মেনে যদি বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়, তাহলে তাতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই৷''

কিন্তু বিপরীতে বাংলাদেশ চায় তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি৷ বাংলাদেশের জন্য তিস্তার পানি বণ্টন খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ তিস্তার পানির সুষম বণ্টন বাংলাদেশের ১৮ বছরের দাবি৷ কিন্তু এই পানি চুক্তিটি করার ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে নেই৷ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সম্মতি ছাড়া কেন্দ্র সরকার চুক্তিটি করতে পারবে না৷

২০১১ সালে ভারত এ চুক্তি করতে সম্মত হলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের চরম বিরোধিতার কারণে এ চুক্তি করা সম্ভব হয়নি৷ এরমধ্যে একাধিকবার ভারত সরকারের সর্ব্বোচ্চ পর্যায় থেকে আশ্বাস দেওয়ার পরও এ চুক্তি কবে হতে পারে, তা বলতে পারছে না ভারত৷

প্রসঙ্গত, অনেক দেশের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার বিষয় থাকলেও বাংলাদেশ পৃথিবীর কোনো দেশের সঙ্গে সামরিক চুক্তি করেনি৷ ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোজ পারিকর গত ৩১ অক্টোবর দু'দিনের সফরে যখন ঢাকায় আসেন, তখন ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঢাকা-দিল্লি সামরিক চুক্তির বিষয়টি সামনে আসে৷

তখন মনোজ পারিকর বাংলাদেশের সিনিয়র রাজনৈতিক, বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়