1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বিদেশি লগ্নির নজর এখন ভারতের দিকে

প্রতিরক্ষা বাণিজ্যে মোদী সরকারের সঙ্গে হাত মেলাতে উৎসাহিত বিশ্বের শিল্পোন্নত পশ্চিমি দেশগুলি৷ রাশিয়ার পর এবার দিল্লি এসেছেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ ফাবিউস৷

ঝুলে থাকা ফরাসি জঙ্গি বিমান বিক্রির চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে চান তিনি৷ বাণিজ্যিক স্বার্থ বড় বালাই৷ ক্ষমতায় আসার পর প্রতিরক্ষা বাণিজ্যে বিদেশি লগ্নির দরজা খুলে দেওয়ার কথা বলেন মোদী সরকার৷ শুধু তাই নয়, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সংক্রান্ত যেসব চুক্তি সাবেক মনমোহন সিং সরকারের আমল থেকে দীর্ঘদিন ঝুলে ছিল, সেগুলির চূড়ান্ত অনুমোদন দেবার পদক্ষেপ নেবার কথা বলেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী অরুণ জেটলি ও তাঁর প্রতিরক্ষা দপ্তর৷ সামগ্রিকভাবে মোদী সরকারের নীতি ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তিকে ধাপে ধাপে আরো মজবুত করা৷ এর ফলে ভারতে প্রতিরক্ষা শিল্পে যে নতুন নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে সেটাকে কাজে লাগাতে ভারতকে প্রতিরক্ষা বাণিজ্যের পাখির চোখ করে ছুটে আসছে পশ্চিমি দেশগুলি৷ সেই লক্ষ্যে কিছুদিন আগেই ভারত সফরে এসেছিলেন রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী৷ আর এবার এসেছেন ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ ফাবিউস৷

২০১২ সালে সাবেক মনমোহন সিং সরকারের আমলে ফ্রান্সের ডাসল্ট কোম্পানির কাছ থেকে দেড় হাজার কোটি ডলারের ১২৬টি বহুমুখী রাফায়েল জেট জঙ্গি বিমান কেনার কথা ছিল৷ প্রাথমিক যোগ্যতার মাপকাঠিতে এই বিমানই বেছে নেয়া হয়েছিল৷ কিন্তু চুক্তির বিভিন্ন দিক ও শর্ত নিয়ে চলে দরকষাকষি৷ যেমন দাম, প্রযুক্তি হস্তান্তর, উন্নত মান এবং পরে ভারতে তা তৈরি করা ইত্যাদি৷

বিশ্লেষকদের মতে, ফ্রান্স থেকে কেনা মিরাজ-২০০০ কেনার পর পরবর্তীকালে তার উন্নয়নের জন্য প্রচুর বাড়তি খরচ করতে হয় ভারতকে৷ কারণ, উন্নতকরণের জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তরের কোনো সংস্থান ছিল না৷ কিন্তু এবার এইসব শর্ত মেনে নিয়ে রাফায়েল কোম্পানির পক্ষ থেকে নতুন করে আলোচনায় আগ্রহ দেখিয়েছে ফ্রান্স৷ ৩০শে জুন সোমবার ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক বৈঠকে মিলিত হন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী অরুণ জেটলির সঙ্গে৷ সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেও৷ তাঁকে ফ্রান্স সফরের জন্য ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রঁসোয়া ওলঁদ-এর আমন্ত্রণপত্র দেন৷

আলোচনার পর ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ ফাবিউস রাফায়েল জঙ্গি বিমান চুক্তিকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবার বিষয়ে আস্থা ব্যক্ত করে বলেন এই চুক্তির ওপর দাঁড়িয়ে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এক বৃহত্তর ‘পার্টনারশিপ' গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যেটা শুধু ক্রেতা-বিক্রেতা সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না৷ যেমন ক্ষেপণাস্ত্র, সাবমেরিন, হেলিকপ্টার ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম ইত্যাদি যাতে ভারতেই তৈরি হয় সেদিকেও নজর দেয়া হবে৷ পাশাপাশি তিনি মহারাষ্ট্রের জইতাপুর বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি আটকে থাকার প্রসঙ্গে বলেন, পরমাণু দায়বদ্ধতা আইন এই চুক্তি কার্যকর হবার পথে বাধা হবে না৷ উল্লেখ্য, পরমাণু দায়বদ্ধতা আইন অনসারে পরমাণু কেন্দ্রে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় নিতে হবে পরমাণু উপকরণ সরবরাহকারী কোম্পানিকে৷

বর্তমান মোদী সরকারের পরিবর্তিত প্রতিরক্ষা নীতি হলো, প্রতিরক্ষা আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা যতটা সম্ভব কমিয়ে এনে দেশেই তা তৈরি করা৷ সেজন্য দরকার আধুনিক প্রযুক্তি এবং আর্থিক সামর্থ্য৷ প্রাথমিকভাবে বিদেশি প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগ নিয়েই সেটা সম্ভব৷ তার জন্য প্রযুক্তি সাপেক্ষে ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ বিদেশি লগ্নির ছাড়পত্র দিতে হবে৷ এই মর্মে একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে৷ আর কয়েকদিনের মধ্যেই ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে কথা বলতে ভারতে আসছেন মার্কিন সেনেটর জন ম্যাককেইন৷ এরপর আসার কথা ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রীর৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়