1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

পোশাক কারখানার নিরাপত্তা ও তাজরীন-এর বিচার

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানার নিরাপত্তা এবং শ্রমিকদের কর্ম পরিবেশ নিয়ে অব্যাহত প্রশ্নের মধ্যেই তাজরীন ফাশান-এ আগুন লেগে ১১২ জন পোশাক কর্মীর মৃত্যুর বিচার চলছে৷ এই বিচার নিয়ে আছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া৷

অডিও শুনুন 02:05

‘কর্মপরিবেশ এবং নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন আছে’

পোশাক শ্রমিক নেতা এবং অর্থনীতিদিরা মনে করেন শেষ পর্যন্ত দায়ীদের বিচার হলে তা পোশাক কারখানার নিরাপত্তা এবং মালিকদের মনোভাব পরিবর্তনে হয়ত সহায়তা করবে৷ তবে সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে তা এখনো বলা যায়না৷

তাজরীনের পর ২০১৩ সালে ঢাকার অদূরে সাভারে রানাপ্লাজা ধসে ১,১৩৪ জন পোশাক শ্রমিকের মৃত্যুর পর বাংলাদেশের পোশাক শিল্প চাপের মুখে পড়ে৷ ২০০টি পোশাক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে তৈরি পোশাক কারখানার পরিবেশ এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে ‘একর্ড' নামে একটি জোটের আওতায় কাজ করছে৷

এই ক্রেতাদের মধ্যে বৃহৎ ক্রেতা প্রতিষ্ঠান এইচএন্ডএম-এর বিরুদ্ধে এরইমধ্যে অভিযোগ উঠেছে যে, তারা যেসব কারাখানা থেকে পোশাক কেনে তাদের ব্যাপারে এইচএন্ডএম অসত্য প্রতিবেদন দিয়েছে৷

‘ক্লিন ক্লদস ক্যাম্পেইন' সহ শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করে এমন একটি জোট এক প্রতিবেদনে বলেছে, ‘‘এইচএন্ডএম যেসব কারখানার নিরাপত্তা এবং পরিবেশ ভাল বলছে সেসব কারাখানার শতকরা ৬০ ভাগেরই কোনো উন্নতি হয়নি৷ শ্রমিক নিরাপত্তা এবং পরিবেশ আগের মতই আছে৷ এসব কারখানার ৭৯ হাজার শ্রমিক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন৷''

তারা বলছে, ‘‘কারখানাগুলোতে অগ্নি নিরাপত্তা পর্যাপ্ত নয়, ফায়ার এক্সিট নেই৷ অর্ধেক কারখানা থেকে এখনো স্লাইডিং ডোর ও কলাপসিবল গেট অপসারণ করা হয়নি৷ একারণেই আগুন লাগলে পদদলিত হয়ে শ্রমিকরা মারা যান৷''

এইচএন্ডএম অবশ্য বলছে, ‘‘বাংলাদেশে উন্নতমানের দরজা পাওয়া যায়না৷ তা আমদানি করা সময়সাপেক্ষ৷ তাই একাজে দেরি হচ্ছে৷''

তবুও বাংলাদেশ শ্রমিক নিরাপত্তা এবং তাদের প্রাণহানি রোধে কাজ করছে৷ এরইমধ্যে ঢাকার অদূরে আশুলিয়ায় ২০১০ সালে তাজরীন ফ্যাশান-এ আগুন লেগে ১১২ জন পোশাক কর্মীর মৃত্যুর বিচার শুরু হয়েছে৷ ১লা নভেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে৷

এনিয়ে বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম রনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এই বিচার পোশাক কারখানার মালিকদের জন্য একটি সতর্ক বার্তা৷ তারা বুঝতে পারবেন অন্যায় করলে পার পাওয়া যাবেনা৷ তারা কারাখানার পরিবেশ এবং নিরাপত্তার ব্যাপারে মনযোগী হবেন৷'' তবে তিনি মনে করেন, ‘‘এই একটি ঘটনা না, প্রতিটি ঘটনার বিচার হতে হবে৷''

অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. হেলাল উদ্দিন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বিচার শুরু হয়েছে মাত্র৷ শেষ পর্যন্ত দায়ীদের কী বিচার হয় তা দেখা প্রয়োজন৷ শাস্তি হলে মালিকরা হয়ত সচেতন হবেন৷ তবে পোশাক খাতের যে মূল সমস্যা তার সমাধান করতে আরো অনেক কিছু করতে হবে৷ এখনো কর্মপরিবেশ এবং নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন আছে৷''

প্রসঙ্গত, রানা প্লাজা ধসের ঘটনায়ও আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে৷ এই মামলার বিচার শুরু হবে শিগগিরই৷

আপনি কিছু বলতে চাইলে নীচে মন্তব্যের ঘরে লিখুন...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়