1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

পোশাক শ্রমিক হত্যার বিচার ইতিবাচক মেসেজ দেবে, তবে...

‘তাজরীন ফ্যাশান' পোশাক কারখানায় আগুনে শতাধিক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচার শুরু হয়েছে৷ তবে আরো অনেক ঘটনার বিচার হয়নি, বা বিচার পর্যন্ত যেতে দেয়া হয়নি৷ এই বিচারেও শেষ পর্যন্ত কী হবে তা নিয়েও আছে প্রশ্ন৷

তাজরীন ফ্যাশানে আগুন লাগে ২০১২ সালের ২৪শে নভেম্বর৷ আর এই আগুনে মোট ১১১ জন পোশাক কর্মী নিহত হন৷ আহত হন ১০৪ জন৷ আহতদের অনেকেই এখন পঙ্গু জীবনযাপন করছেন৷ নিহতদের পরিবার এবং আহতরা এখনো কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি৷ আর ঘটনার পর মামলা ও তাজরীনের মালিককে আটক করা হয়নি৷ ব্যাপক অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক চাপের পর মালিক দেলোয়ারকে আটক করা হয়, তবে তারা পরেও জামিনে ছাড়া পান৷ আর এখন দেলোয়ারসহ ১৩ জনকে বিচারের মুখোমুখি করা হল৷

বৃহস্পতিবার আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণের মধ্য দিয়ে বিচার কাজ শুরু করেন৷ তবে অভিযোগপত্রে বাংলাদেশের দণ্ডবিধি আইনে ৩০২ ধারায় সরাসরি নরহত্যার অভিযোগ আনা হয়নি৷ অভিযোগ আনা হয়েছে দণ্ডবিধির ৩০৪ ও ৩০৪ (ক) ধারায় অনুযায়ী ‘অপরাধজনক নরহত্যা' ও ‘অবহেলার কারণে মৃত্যুর' অভিযোগ৷ যার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড৷

আমি পেশাগত কারণেই তাজরীন ফ্যাশানে আগুন লাগার পর সেখানে গিয়ে বেশ কয়েকদিন কাজ করেছি৷ আর তখনই বুঝতে পারি ওই কারখানাটি ছিল একটি মৃত্যু ফাঁদ৷ ভবনটি ছিল অবৈধ৷ নিরাপত্তা ছাড়পত্র ছিলনা, ছিলনা অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা৷ ছিলনা বিকল্প সিঁড়ি এবং ফায়ার অ্যালার্ম৷

এমনকি আগুন লাগলে কী করতে হবে সে প্রশিক্ষণও তাদের দেয়া হয়নি৷ আর নিষিদ্ধ থাকলেও নীচতলায় ইলেকট্রিক লাইনের পাশেই স্থাপন করা হয়েছিল গুদাম৷ আমার তাই প্রশ্ন, এমন মৃত্যুকুপে পোশাক শ্রমিকদের ঢোকানোর পর আগুন লেগে তারা নিহত হলে এটা সরাসরি নরহত্যা কেন হবে না?

এই ঘটনার পর তাজরীন ফ্যাশানের মালিক দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে বিজিএমই ভবনে৷ তখনো তিনি গ্রেপ্তার হননি৷ আর তখন তিনি নিজেও স্বীকার করেন যে , তাঁর কারখানায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলে কিছু ছিলনা৷ তাহলে নিজেই সেখানে তিনি স্বীকার করেছেন মৃত্যুকুপের কথা৷ তারপরও আইন তাঁর প্রতি সদয় কেন?

বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের সংগঠনের নেতারাও এই বিচার নিয়ে সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন৷ তাঁরা বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়াকে স্বাগত জানালেও রায় কী হয় তা দেখতে চান৷ তাঁরা মনে করেন, বিচারের রায়ের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে৷

আর বিচার শুরু হলেও অভিযোগপত্রে দায়ী আরো কয়েকজনকে আসামি করা হয়নি৷ কারখানার নীচতলায় সিঁড়ির পাশে দাহ্য বস্তু ছিল, সেগুলো দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব ছিল সরকারি পরিদর্শকদের৷ কিন্তু সেই পরিদর্শকরা মামলার আসামি হননি৷

আরও অভিযোগ রয়েছে যে মামলার তদন্তে অনেক ত্রুটি আছে৷ অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ‘আগুন লাগার পর শ্রমিকদের বের হতে না দিয়ে তাঁদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়৷' তবে এই অভিযোগ প্রমাণের জন্য যথেষ্ট সাক্ষ্য প্রমাণ সংগ্রহ করেনি বা করতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি৷

DW-Korrespondent in Bangladesch, Harun Ur Rashid Swapan

হারুন উর রশীদ স্বপন, ঢাকা

মামলায় ১৩৭ জন সাক্ষীর কেউই ১৬১ ধারার জবানবন্দিতে আসামিদের নাম বলেননি বা তদন্তকারীরা সাক্ষীদের মুখে আসামিদের নাম নেননি৷ যা এই মামলা প্রমাণে বাধার সৃষ্টি করবে৷

তাজরীন ফ্যাশানের মালিক দোলোয়ার তাঁর স্ত্রী এবং প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তারসহ ১৩ আসামির আটজন এখন জামিনে আছেন৷ আর বাকি পাঁচজন আছেন পলাতক৷ মালিকের মত প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জামিনে থাকলে শেষ পর্যন্ত পোশাক কারখানার গরিব শ্রমিকরা সাক্ষ্য দিতে যেতে পারবেনতো?

তাজরীনে অগ্নিকাণ্ডের কয়েকমাস পর সাভারে রানাপ্লাজা ধসে এক হাজারেরও বেশি পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের কর্মপরিবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়৷ যার ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা (জিএসপি) বাতিল করে৷

বাংলাদেশে এখন পোশাক কারখানা কমবেশি সাড়ে চার হাজার৷ রপ্তানি আয়ের ৭৫ ভাগ আসে তৈরি পোশাক রপ্তানি করে৷ আর পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে দ্বিতীয়৷ যদি পোশাক শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করা হয়, তাহলে চীনকে টপকে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে প্রথম হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র৷ তাজরিনের মালিকের বিচার শুরু হওয়া ইকিবাচক৷ আর তা যদি শেষ পর্যন্ত আইওয়াশ না হয় এবং অন্যান্য ঘটনারও বিচার হয় তাহলে তা হবে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জন্য বড় সুখবর৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়