1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

পানামা পেপার্স-এ বাংলাদেশের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান

আলোচিত পানামা পেপার্স-এর পাবলিক ডকুমেন্টে বাংলাদেশের অন্তত ৫০ ব্যক্তি ও পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে৷ এতে রাজনৈতিক নেতা ছাড়াও রয়েছে ব্যবসায়ীদের নাম৷ তাই এবার, এদের ব্যাপারে তদন্তে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ৷

বাংলাদেশ ইন্টিলিজেন্স ইউনিটের জিএম দেবপ্রসাদ দেবনাথ মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘‘বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যৌথভাবে বিষয়টি তদন্ত করতে চায়৷ আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর আগে প্রাথমিক খোঁজ খবর নেয়া শুরু হয়ে গেছে ইতিমধ্যেই৷ প্রাথমিকভাবে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যাবে, কেবল সেইসব ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেই তদন্ত হবে৷''

দুদক সচিব আবু মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল বলেন, ‘‘আমরা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করব৷ প্রয়োজন হলে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হবে৷'' র আগেও প্রথম দফায় পানামা পেপার্স-এর সূত্র ধরে সংবাদপত্রে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ১১ জনকে তলব করেছিল দুদক৷

সোমবার কর ফাঁকি দেয়া বিশ্বের বিভিন্ন অঙ্গনের দুই লাখেরও বেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করে ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অউ ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম (আইসিআইজে)৷ তবে আইসিআইজে-র কথায়, তালিকায় যাঁদের নাম এসেছে, তাঁরা সকলেই যে অনিয়মে জড়িত, এমন নয়৷

অডিও শুনুন 00:59

"যে সমস্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে, তারা সবাই যে দোষী তা এখনই বলা যাচ্ছে না৷''- সুলতানা কামাল

তালিকায় থাকা বাংলাদেশিরা...

আইসিআইজে-র প্রকাশ করা তালিকায় বাংলাদেশের শাসক দল আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাফরুল্লাহ ও তাঁর স্ত্রী নীলুফার জাফরুল্লাহর নাম আছে৷ নাম রয়েছে মোবাইল ফোন কোম্পানি সিটিসেল-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেহবুব চৌধুরী, আইজিডাব্লিউ অপারেটর সেল টেলিকমের কফিল এইচ এস মুয়ীদ, এক্সেসটেল-এর মালিক জাইন ওমর, কিউবির অংশীদার আফজালুর রহমান, টেকনোমিডিয়ার সরকার জীবন কুমার, বাংলাট্রাকের আমিনুল হক ও তাঁর ছেলে নাজিম আসাদুল হক এবং তারিক একরামুল হকের৷ সিটিসেল-এর সাবেক চেয়ারম্যান আজমাত মঈনও এর মধ্যে রয়েছেন৷ এছাড়া আব্দুল মোনেম গ্রুপের এ এস এম মহিউদ্দিন মোনেম এবং আসমা মোনেমের নামও রয়েছে এই তালিকায়৷

নাম আছে দিলীপ কুমার মোদি, মল্লিক সুধীর, কাজী রায়হান জাফর, মো. ইউসুফ রায়হান রেজা, মাহতাবউদ্দিন চৌধুরী, বেনজির আহমেদ, ইসরাক আহমেদ, নভেরা চৌধুরী, সৈয়দা সামিনা মির্জা, উম্মে রুবানা, বিলকিস ফাতিমা, সালমা হক , ফরহাদ গনি মোহাম্মদ, মো. আবুল বাশার, নিজাম এম সেলিম, মোহাম্মদ মোকসেদুল ইসলাম, মো. মোতাজ্জারুল ইসলাম, মো. মোতাজ্জারুল ইসলাম, মো. সেলিমুজ্জামান, সৈয়দ সেরাজুল হক, এফ এম জুবাইদুল হক-এর৷

তথ্য ভাণ্ডারে আরো নাম আছে ক্যাপ্টেন এম এম জাউল, মোহাম্মদ শহীদ মাসুদ, খাজা শাহাদত উল্লাহ, মোহাম্মদ ফয়সাল করিম খান, মোহাম্মদ শহীদ মাসুদ, জুলফিকার হায়দার, মির্জা এম ইয়াহিয়া, নজরুল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম, এফ এম জুবাইদুল হক, এ এফ এম রহমাতুল বারী ও খাজা শাহাদাত উল্লাহর৷

এঁদের নামের সঙ্গে তাঁদের এক বা একাধিক প্রতিষ্ঠানের নামও আছে৷ তবে সবার পরিচয় নিশ্চিত হতে আরো অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানা গেছে৷

প্রতিষ্ঠান

তালিকায় থাকা বাংলাদেশের পাঁচটি কোম্পানি হচ্ছে – বাংলাদেশ বিমান ইনকর্পোরেশন, ইসলামিক সলিডারিটি শিপিং কোম্পানি বাংলাদেশ ইনকর্পোরেশন, বাংলাদেশ টেক্সটাইল এজেন্সিস লিমিটেড, এসার বাংলাদেশ হোল্ডিং প্রাইভেট লিমিডেট ও টেলিকম ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড৷

অফশোর প্রতিষ্ঠান

বাংলাদেশ ডাটাবেজে ৫৬ ব্যক্তির নাম ছাড়াও রয়েছে দু'টি অফশোর প্রতিষ্ঠানের নাম৷ একটি সোয়েন ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, অপরটি সেভেন সি'জ অ্যাসেটস লিমিটেড৷ দু'টি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই গুলশান ২-এর একই ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে৷ এই প্রতিষ্ঠান দুটিতে সংশ্লিষ্ট দু'জন হলেন – স্টেফান পিরকার ও রুখসানা পিরকার৷

ইন্টারমিডিয়ারি

বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট তিন ইন্টারমিডিয়ারির নামও আছে তালিকায়৷ তাঁরা হলেন – স্টিফান পিরকার, বিবিটিএল ও দিলিপ কুমার মোদি৷

বাংলাদেশের ঠিকানা

অফশোর প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানের মোট ৪২টি ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে৷ ডাটাবেজে ঠিকানা ও ঠিকানা ব্যবহারকারী ব্যক্তির নামও উল্লেখ করা হয়েছে৷

দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই হবে

দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর ট্রাস্টি বোর্ডের প্রধান অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ‘‘প্রথমিকভাবে অনুসন্ধানের পর তদন্ত হতে পারে৷ তাই যে সমস্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে, তারা সবাই যে দোষী তা এখনই বলা যাচ্ছে না৷''

তবে তাঁর কথায়, ‘‘এই তালিকা নিয়ে তদন্ত করে দেখা উচিত যে, আসলেই কেউ কর ফাঁকির জন্য দায়ী কিনা৷ দায়ী হলে তো ব্যবস্থা নিতেই হবে৷''

তিনি বলেন, ‘‘প্রাথমিক তদন্তে যদি কাউকে দোষী পওয়া যায় তাহলে বিস্তারিত তদন্ত হবে৷ এটা করা প্রয়োজন৷ এর পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থাও নিতে হবে৷''

তালিকায় যাঁদের নাম আছে, তাঁদের কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁদের পাওয়া যায়নি৷

বন্ধু, এই তালিকায় আপনাদের চেনা কি কেউ আছেন? জানান আমাদের, লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও