1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

আলাপ

‘দুর্নীতি একেবারে কমানো সম্ভব না'

‘‘বাংলাদেশের আত্ম-সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দুর্নীতি একেবারে কমানো না গেলেও, একটা সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি৷ সেটা হলেই নিজেদের সার্থক মনে করব৷'' বললেন দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার সাহাবুদ্দিন চুপ্পু৷

অডিও শুনুন 05:35

‘তবে ঋণে ফ্রড, প্রতারণা, জালিয়াতি অনেক কমেছে’

বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা মামলায় সাজা হওয়ার হার ৪৭ ভাগ, আগে যেখানে ছিল ১৫ থেকে ২০ ভাগ৷ ‘‘এটাকে আমরা ৯০ ভাগের কাছাকাছি নিয়ে যেতে চাই৷'' ডয়চে ভেলের সঙ্গে আলাপকালে এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদুক-এর কমিশনার৷ সেই সাক্ষাৎকারেরই কিছু অংশ তুলে ধরা হলো৷

ডয়চে ভেলে: আপনি দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন কমিশনার৷ এই মুহূর্তে বাংলাদেশে দুর্নীতির অবস্থাটা কেমন?

সাহাবুদ্দিন চুপ্পু: আমি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে অকার্যকর দুর্নীতি দমন কমিশনকে কার্যকর করার চেষ্টা করছি৷ কমিশন গঠন হওয়ার পর ২০০৪ সাল থেকে এটিকে অকার্যকর করে রাখা হয়েছিল৷ কিন্তু ওয়ান ইলেভেনের (১/১১) পর সরকার এই কমিশনকে অন্যভাবে পরিচালিত করার চেষ্টা করেছে৷ গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর, আমরা বলতে গেলে প্রভাবমুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করছি৷ আমাদের নিরন্তন প্রচেষ্টা দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধ৷ বাংলাদেশের আত্ম-সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দুর্নীতি যে একেবারে কমানো সম্ভব – এটা আমি বিশ্বাস করি না৷ আমার অভিজ্ঞতাও তা বলে না৷ আমরা দুর্নীতিকে যদি একটা সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসতে পারি, তাহলে আমরা মনে করব যে আমরা অনেকটাই সার্থক৷ আমরা কাজ করে যাচ্ছি৷ প্রতিরোধের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছি৷

‘ফাইনালশিয়াল সেক্টরে' দুর্নীতি অনেক কমে এসেছে৷ বেশ কিছু বড় প্রতিষ্ঠানকে ধরতে সক্ষম হয়েছি আমরা৷ এখন ঋণের ক্ষেত্রে ফ্রড, প্রতারণা, জালিয়াতি অনেকাংশে কমে এসেছে৷ টিআইবি-র দুর্নীতির সূচকে গতবার আমাদের যে অবস্থা ছিল, এবারও সেই অবস্থানে আছে৷ অর্থাৎ কোনো অবনতি হয়নি৷ আমাদের ‘অ্যাগ্রেসিভ' কার্যক্রমের কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে বলে আমার বিশ্বাস৷

আপনি বলছিলেন, প্রতিরোধ কমিটি কাজ করছে৷ তাহলে কেন আমরা সামনের দিকে এগোতে পারছি না?

এখানকার বাস্তবতার নিরিক্ষে বিবেচনা করলে দেখা যাবে যে, আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে৷ এ সব সীমাবদ্ধতার কারণে আমরা এগোতে পারছি না৷ আমাদের জনবলের অভাব রয়েছে৷ বিশেষ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আমাদের মাত্র ২৩টি জেলায় অভিস ছিল৷ এখনও ৪-৫টি জেলা মিলিয়ে একটি অফিসে কাজ করতে হয়৷ এটাতে আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে৷ এর সঙ্গে আমাদের জনবলেরও সমস্যা আছে৷ এ সব কারণে আমরা যতটা কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করেছি, ততটা সম্ভব হয়নি৷

একটা অভিযোগ আপনাদের বিরুদ্ধে সব সময় দেয়া হয় যে, সরকারি দলের নেতাদের দুর্নীতির অভিযোগ আসলে আপনারা প্রমাণ খুঁজে পান না৷ অথচ বিরোধী দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলে তার বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে, তদন্ত হচ্ছে, বিচার হচ্ছে, এটা কেন? আপনি যে বলছিলেন, আপনারা স্বাধীনভাবে কাজ করছেন?

এটা একটা অমূলক ধারণা৷ আমরাই একমাত্র কমিশন, যাদের কাছে সরকারি দল, বিরোধী দল বা আমলা বলে কিছু নেই৷ আমাদের কাছে পরিচয় হচ্ছে, অপরাধের ধরণ ও অপরাধী৷ আমরা অপরাধ ও অপরাধীকে নিয়েই কাজ করি৷ এই ধরনের কথা যারা বলেন, তারা মান্ধাতার আমলের মানসিকতা নিয়েই বলেন৷

এ দেশে যেসব কথা বললে রাজনৈতিকভাবে মানুষকে প্রভাবিত করা যাবে বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা যাবে, সেই ধরনেরই কথা বলা হয়৷ আমরাই পেরেছি বর্তমান পার্লামেন্টের মেম্বারকে কারাগারে পাঠাতে৷ ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত কোনো মন্ত্রী বা এমপিকে কি দুদক-এর বারান্দায় আসতে হয়েছে? আমরাই অনেক সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দিয়েছি৷ এখন তারা বিচারের সম্মুখীন৷ পাশাপাশি অনেক আমলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি এবং এর ফলে তারা চাকরিচ্যুত হয়েছেন৷

দুদক-এর পক্ষ থেকে যে মামলাগুলো করা হয়, চার্জশিট দাখিলের পর সে সব মামলার বিচারে সফলতার হার কেমন?

দুদক-এর দায়ের করা মামলায় ৪৭ শতাংশের বিরুদ্ধে সাজা হচ্ছে৷ আগে যেখানে এটা ছিল ১৫ থেকে ২০ শতাংশ৷

সাজার হার ৪৭ ভাগ থেকে বাড়িয়ে কবে আমরা শতভাগ দেখব?

না, এটা আশা করি না, সম্ভবও না৷ কিছু ত্রুটি তদন্তে থেকেই যায়৷ পরে বিচারে সেটা ধরা পড়ে৷ এটাকে বলা হয় ‘সিস্টেম এরর'৷ তবে হ্যাঁ, আমরা আশা করব এটা যেন ৯০ ভাগের কাছাকাছি আসে৷

বন্ধু, আপনি কি দুদক কমিশনার সাহাবুদ্দিন চুপ্পুের সঙ্গে একমত? মন্তব্য জানান, নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়