1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভাইরাল ভিডিও

পাকিস্তানের প্রথম হিজড়া মডেলের যে ভিডিও ভাইরাল

পাকিস্তানে হিজড়াদের মধ্যে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মডেল ও অভিনেত্রী রিমাল আলী৷ দেশের প্রথম হিজড়া মডেল হিসেবে মিউজিক ভিডিওতে অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি৷

Pakistan Hijra Transsexuelle Demo in Kopenhagen (Imago/Dean Pictures)

পাকিস্তানের হিজড়া সম্প্রদায়

‘নাউ দিস’ রিমালের উপর ভিত্তি করে একটি ভিডিও নির্মাণ করেছে৷ সেখানে তার মিউজিক ভিডিওর কিছু দৃশ্য এবং তার সাক্ষাৎকার রয়েছে৷ সাক্ষাৎকারে রিমাল বলেন, ‘‘পুরুষ, নারী, না হিজড়া- লিঙ্গ দিয়ে কেউ যেন আমাকে বিচার না করে৷’’ পাকিস্তানের গণমাধ্যমে হিজড়া সম্প্রদায়ের প্রতি কোনো ইতিবাচক ধারণা দেয়া হয় না৷ এর পরিবর্তন করতে চান রিমাল৷ তিনি বলেন, ‘‘আমার লিঙ্গ কী সেজন্য কিন্তু আমাকে মিউজিক ভিডিওগুলোতে সুযোগ দেয়া হয়নি, আমার যোগ্যতার কারণেই আমি কাজ পেয়েছি৷ আমিএকজন শিল্পী এবং আমি বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করতে পছন্দ করি৷ মডেলিং, টিভি নাটক, যে কোনো সুযোগ দিলেই আমি আমার যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারব বলে আত্মবিশ্বাস রয়েছে৷’’

তবে কাজ করতে গিয়ে মিডিয়া জগতে বহুবার বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে তাঁকে৷ অনেক বাধা-বিপত্তির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে৷ অনেক সময় সমঝোতা না হওয়ায় ভালো অনেক কাজ হাতছাড়া হয়েছে৷ অনেক নারী মডেল তাঁর সঙ্গে কাজ করতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করতন না৷ রিমাল বলেন, ‘‘সাধারণ মানুষ ভেবেই নেয় কোনো নাটক বা সিনেমায় নায়িকার ভূমিকায় একজন নারীই অভিনয় করবে৷ অথচ উন্নত দেশে হিজড়াকে নারী হিসেবেই ধারণা করা হয়৷

বেশিরভাগ দেশেই তাঁদের পাসপোর্ট বা পরিচয়পত্রেও লিঙ্গ পরিচয় ‘নারী’ লেখা হয়৷ তাঁরা নারীর মতো কাজ করেন, বাঁচেন নারীর মতো৷ তাঁদের বিয়ে হয়, তাঁরা বাচ্চা নিতে পারেন৷ তাঁরা স্বাভাবিক জীবন যাপন করেন৷’’ তাই তিনি প্রশ্ন রেখেছেন ‘‘পাকিস্তানে কেন এটা সম্ভব নয়?’’ রিমাল জানালেন, ‘‘এখনও পরিবার হিজড়াদের গ্রহণ করে না৷ আর তাই তাঁরা পেশা হিসেবে যৌন কর্মকে বেছে নেন৷’’ রিমালের মতে, পরিবার যদি হিজড়া সন্তানকে গ্রহণ করে, তবে সমাজেও গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া সহজ হবে৷

তিনি নিজের এই মডেলিং পেশাকে এক আশার প্রদীপ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, একটি প্রদীপ জ্বলেছে, এ থেকে হয়ত আরও অনেক প্রদীপ জ্বলবে৷

‘নাউ দিস’-এর ভিডিওটি ফেসবুকে ২ ফেব্রুয়ারি পোস্ট করার পর এ পর্যন্ত দেখা হয়েছে ৯ লাখ ৬৪ হাজার বার৷ শেয়ার হয়েছে অন্তত ৬ হাজার বার৷

পাকিস্তানে স্বল্পপরিচিত একটি ধর্মীয় সংগঠনের ৫০ জন আলেম গত বছরের জুন মাসে ফতোয়া জারি করেন৷ ফতোয়ায় বলা হয়, ইসলাম ধর্মানুযায়ী, যেসব হিজড়ার দেহে নারী বা পুরুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের ‘দৃশ্যমান চিহ্ন’ দেখা যাবে, তাঁরা তাঁদের বিপরীত লিঙ্গের কাউকে বিয়ে করতে পারবেন৷ কিন্তু যাঁদের শরীরে উভয় লিঙ্গের ‘দৃশ্যমান চিহ্ন’ থাকবে তাঁরা বিয়ে করতে পারবেন না৷ এছাড়া ১৯ বছর পর এ বছরের মার্চে পাকিস্তানে যে আদমশুমারি হওয়ার কথা, তাতে তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে হিজড়াদের গণনা করার কথা বলা হয়েছে৷

এপিবি/এসিবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়