1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

দুধ থেকে ডিজাইনার ড্রেস

দুধ থেকে ছানা, সন্দেশ, চিজ – সব কিছু তৈরি হয়৷ কিন্তু কাপড়? ল্যাক্টোপ্রোটিন বা দুধের প্রোটিন থেকে ফাইবার, ফাইবার থেকে সুতো, সুতো থেকে কাপড়, কাপড় থেকে ড্রেস, তাও আবার হলিউড তারকাদের জন্য, এ সবই সম্ভব৷

নানা রংয়ের কাপড়, রেশমি কাপড়ের মতো নরম৷ সেই কাপড় কেটে ফ্যাশনেবল জামাকাপড় তৈরি করেন আঙ্কে ডোমাস্কে, যিনি একাধারে ডিজাইনার ও মাইক্রোবায়োলজিস্ট৷ আঙ্কে বলেন, ‘‘এই কাপড়ে দুধের গন্ধ পাবেন না৷ কিন্তু মজার কথা, আজ পর্যন্ত অনেকেই প্রথমে শুঁকে দেখেন, দুধের গন্ধ আছে কিনা৷ অবশ্যই কোনো গন্ধ নেই৷ ওদিকে খুবই মসৃণ কাপড়৷ আমাদের ফাইবারটা পশম কিংবা রেশমের মতোই একটা প্রোটিন ফাইবার৷ কিন্তু যেহেতু তার উপরিভাগ খুব মসৃণ, সেহেতু তার হ্যাপটিক্স অর্থাৎ স্পর্শের অনুভূতিটা অনেকটা সিল্কের মতো৷'' 

ডোমাস্কে ‘‘মানুষের ব্যবহারের অযোগ্য'' দুধ থেকে টেক্সটাইল ফাইবার, অর্থাৎ কাপড় বোনার সুতো তৈরি করেন৷ এটা এমন একটা আইডিয়া, যা ভবিষ্যতে বস্ত্রশিল্পকে পুরোপুরি বদলে দেবার ক্ষমতা রাখে৷ বলতে কি, রান্নাঘরেই সব কিছুর শুরু৷ সদ্য মাইক্রোবায়োলজি পাশ করা আঙ্কে সুপারমার্কেট থেকে একটা কিচেন মিক্সার, মার্মালেড বা মোরব্বা তৈরির থার্মোমিটার ও প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন পাউডার কিনে এনেছিলেন৷ লক্ষ্য ছিল, এমন একটা ফাইবার বা রোঁয়া তৈরি করা, যা থেকে সুতো ও শেষমেষ কাপড় তৈরি করা যায়৷

আঙ্কে শোনালেন, ‘‘আমরা ঐ কিচেনে প্রায় ন'মাস ধরে এক্সপেরিমেন্ট করে এমন একটা ফাইবার তৈরি করার ফর্মুলা বার করতে পেরেছি, যা জলে দিলে সঙ্গে সঙ্গে গলে না যায়৷ কাপড় তৈরির সুতোর ওইটাই বিশেষত্ব, কেননা কাপড় তো শেষমেষ কাচতেই হবে৷''

ল্যাক্টোপ্রোটিন

এক জগ দুধ হাতে নিয়ে আঙ্কে বোঝালেন, কীভাবে এই ফাইবার তৈরি হয়৷ কিউ-মিল্ক কোম্পানির সিইও আঙ্কে বললেন, ‘‘দুধ টক হয়ে গেলে নীচে ছানার পানি থাকে, ওপরে ভাসে সাদা সাদা ল্যাক্টোপ্রোটিন বা দুধের প্রোটিন৷ সেটা কেঁকে নিলে যে দইয়ের মতো পদার্থটি পাওয়া যায়, তা শুকিয়ে প্রোটিন পাউডার তৈরি করা যায়৷ সেটাই আমাদের র-মেটিরিয়াল বা কাঁচামাল৷ সেটা মেখে আমরা একটা তাল তৈরি করি৷ সেই প্রোটিনের তাল একটা ‘নজল' দিয়ে চেপে বার করলে এরকম একটা সূক্ষ্ম ফাইবার পাওয়া যায়, যা মিলিয়ে সুতো তৈরি হয়, সেই সুতো থেকে কাপড়, সেই কাপড় থেকে এরকম একটা সুন্দর ড্রেস৷ অথচ এটা প্রকৃতিদত্ত, এই ফাইবার খাওয়া পর্যন্ত যায়৷''

আঙ্কে ডোমাস্কে এখন কারখানার মতো করে দুধের প্রোটিন থেকে ফাইবার তৈরি করছেন৷ কাঁচামাল হল প্রোটিন পাউডার, তা-তে পানি ও অন্যান্য প্রকৃতিদত্ত সংযোজক পদার্থ মিশিয়ে এমন একটি তাল মাখা যায়, যা ‘নজল' দিয়ে চেপে মানুষের মাথার চুলের মতো পাতলা ফাইবার বের করা যায়৷

নিজেদের ল্যাবোরেটরিতে সেই ফাইবারের টেনসাইল শক্তি – অর্থাৎ সেটা কতটা টান সহ্য করতে পারে, তা পরীক্ষা করে দেখা হয়৷ এই ফাইবার সিল্ক কিংবা পশমের ফাইবারের সঙ্গে তুলনা করা যায়৷ দুধের প্রোটিন থেকে তৈরি টেক্সটাইল ফাইবার থেকে অ্যালার্জি হয় না; তাতে কোনো রাসায়নিক অবশিষ্ট নেই; এবং ফেলে দেওয়ার পর তা স্বাভাবিকভাবে পচে যায়৷

আঙ্কে বলেন, ‘‘দুধের ফাইবার ‘ব্রিদেবল', মানে তা-তে হাওয়া খেলতে পারে; এটা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে; ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী; সহজে আগুন ধরে না৷ কাজেই তা শুধু বস্ত্রশিল্পের জন্যই নয়, প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও ব্যবহারযোগ্য৷ তা দিয়ে ফোম তৈরি করা যায়; স্প্রে করা যায়; ফোলিও তৈরি করা যায়; এমনকি ন্যানো পদার্থ – অসংখ্য সম্ভাবনা, যা আমরা সবে আবিষ্কার করতে শুরু করেছি৷''

ফ্যাশনের জগতে ‘দুধকাপড়ের' ব্রেকথ্রু আসে, যখন কয়েকজন হলিউড তারকা এই কাপড়কে ফ্যাশনেবল বলে ঘোষণা করেন৷ ডোমাস্কে ঐ তারকাদের ঠিক তাদের সাইজে তৈরি করা জামাকাপড় পাঠিয়েছিলেন৷ তাতেই কাজ হয়৷ আঙ্কে জানালেন, ‘‘মিশা বার্টন প্রথম আমাদের পাঠানো ড্রেসটা পরেন৷ যেদিন তিনি ড্রেসটা পান, ঠিক সেদিন সন্ধ্যাতেই – মিডিয়াতে যা বড় করে দেখানো হয়৷ আমাদের পক্ষে একটা বিরাট ব্যাপার৷''

আইডিয়াটা যদি সফল হয়, তাহলে ভবিষ্যতে বড় বড় ফ্যাশন লেবেলরাও হয়ত ‘দুধকাপড়ের' অর্ডার দেবে...৷

মার্টিন রিবে/এসি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়