1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সাক্ষাৎকার

‘দাম একই, তাই শহর-গ্রামে একই ওষুধ বিক্রি হয়'

দেশে ৩০টি কোম্পানি ৯০ ভাগ ওষুধ উৎপাদন করে৷ এদের মার্কেট দেশব্যাপী এবং ওষুধ খুবই মানসম্পন্ন ওষুধ৷ তাছাড়া একই কাঁচামাল থেকে ওষুধ তৈরি হচ্ছে৷ ফলে গ্রামে বা শহরে ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড'-এর কোনো সুযোগ নেই৷

রুহুল আমিন

ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক রুহুল আমিন

ডয়চে ভেলের সঙ্গে আলাপকালে নিজের এই দৃঢ় বিশ্বাসের কথা তুলে ধরেছেন ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক রুহুল আমিন৷

ডয়চে ভেলে: বাংলাদেশে কতগুলো ওষুধ কোম্পানি আছে? আর এর সবগুলো কি বৈধ?

রুহুল আমিন: বাংলাদেশে বর্তমানে ৭৩৬টি ‘ফাংশনাল' ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আছে৷ তবে মোট প্রতিষ্ঠান আছে ৮৫২টি৷ এর মধ্যে কিছু ‘নন ফাংশনাল'৷ কিছু কোম্পানির প্রোডাকশন ও মার্কেটিং হেল্ডআপ আছে, কিছু কোম্পানি আছে সাসপেন্ড অবস্থায়৷ সব মিলিয়ে ফাংশনাল আছে ৭৩৬টি৷ অর্থাৎ এগুলোর লাইসেন্স আছে৷ আর যেগুলোর লাইসেন্স আছে সেগুলো বৈধ কোম্পানি৷ মূলত যেগুলোর ফংশন আছে সেগুলোই কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে৷ যেগুলোর লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া হয়েছে, সেগুলো তো নন ফাংশসাল৷ কাজেই তাদের কাজ করার কোনো সুযোগই নেই৷

বাংলাদেশে ওষুধ কোম্পানিগুলোর মধ্যে বড় কোনো ফ্যাক্টরি কি শিল্পের পর্যায়ে যেতে পেরেছে?

বাংলাদেশের প্রথম যে ১০টি সেক্টর আছে, তার মধ্যে ওষুধ শিল্প একটি৷ এই ওষুধ শিল্প দেশে এবং বিদেশে অত্যন্ত সফল একটি শিল্প হিসেবে চিহ্নিত ও বিবেচিত৷ অতত্রব ওষুধ শিল্প বড় কোনো শিল্প কিনা – তা নিয়ে প্রশ্ন করার আর কোনো সুযোগ নেই৷ এটা অত্যন্ত প্রতিষ্ঠিত একটি শিল্প হিসেবে সারাদেশেই বিবেচিত৷

কতগুলো কোম্পানির ওষুধ বিদেশে রপ্তানি হয়?

এই মুহূর্তে ৫৪ বা ৫৫টি কোম্পানির ওষুধ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে৷

ওষুধের মান রক্ষায় আপনারা কী ধরনের পদক্ষেপ নেন?

অনেক ধরনের পদক্ষেপ নেই আমরা নেই৷ আপনারা জানেন যে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর ‘রেগুলেটর' হিসেবে কাজ করে৷ যে কোনো প্রতিষ্ঠান ওষুধ উৎপাদন করতে গেলে এই প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের লাইসেন্স গ্রহণ করতে হয়৷ কাউকে লাইসেন্স নিতে হলে – সেটা এলোপ্যাথি হোক, হোমিওপ্যাথি হোক বা হারবাল হোক – বেশ কিছু শর্ত আছে যা তাকে পূরণ করতে হয়৷ একমাত্র তারপরই সে লাইসেন্স পেয়ে থাকে৷ শুধু তাই না, প্রতিটি ‘প্রোডাক্ট' বাজারে দিতে গেলে তাকে বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়৷

অডিও শুনুন 10:34

‘আমরা ওষুধের মানের বিষয়টা দেখি’

সেই শর্ত পূরণ করলে তবেই ঐ প্রোডাক্টটির রেজিস্ট্রেশন হয়ে থাকে৷ এই প্রতিষ্ঠানগুলো গুড মেনুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস যথাযথভাবে অনুসরণ করে কিনা, সেটা দেখা হয়৷ তাছাড়া ডাব্লিউএইচও-র গাইডলাইনে বলা আছে, প্রতিটি প্রতিষ্ঠান গুড মেনুফ্যাকচারিং প্রাকটিস মেনে চলতে বাধ্য৷ এটা আইনেও বলা আছে৷ এগুলো আমরা নিয়মিত ‘মনিটরিং' করি৷ ওষুধের কারখানা, ওষুধের মার্কেট, ওষুধের ডিপো থেকে আমরা দৈবচয়ন ভিত্তিতে নমুনা সংগ্রহ করি৷ তারপর সেগুলো আমাদের ল্যাবে পরীক্ষা করে আমরা দেখি, মান ঠিক আছে কিনা৷ যদি কোনো প্রোডাক্টের মান নীচে থাকে, তাহলে আমরা ঐ প্রোডাক্টের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করি৷ পাশাপাশি সেই কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করি৷ এই প্রতিষ্ঠানগুলো আইনগতভাবে বাধ্য মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদন করে বাজারজাত করতে৷

ওষুধ শিল্পের প্রধান সমস্যা কী?

বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প দ্রুত বিকাশমান ও বিস্তৃত একটি শিল্প৷ আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো সব ধরনের হাইডোস ওষুধ উৎপাদনে সক্ষম৷ সব ধরনের ‘সফিস্টিকেটেড' ওষুধ এখন বাংলাদেশে উৎপাদন হচ্ছে৷ তবে এই শিল্পের কাঁচামাল অনেকটা আমদানি নির্ভর৷ সিংহভাগ কাঁচামালই বিদেশ থেকে আনতে হয়৷ এর জন্য যে অন্য প্রচেষ্টা চলছে না তা নয়, মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় শিল্প পার্ক হচ্ছে৷ এটা প্রতিষ্ঠিত হলে কাঁচামালের সমস্যারও নিরসন হয়ে যাবে৷ আর সেটা করা গেলে এই শিল্পের বড় অন্তরায় দূর করা সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি৷

কতভাগ কাঁচামাল আমাদের বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়?

আমার মনে হয়, ৯০ ভাগ কাঁচামালই বিদেশ থেকে আনা হয়...৷ সংখ্যাটা অবশ্য আরো বেশি হতে পারে৷

কোন দেশ থেকে কাঁচামাল আসে?

ইউরোপ থেকে আসে, চায়না থেকে আসে, ইন্ডিয়া থেকেও আসে৷

কিছু কোম্পানির বিরুদ্ধে আদালত থেকে নিষেধাজ্ঞা এসেছে৷ এই কোম্পানিগুলোর ওষুধের ব্যাপারে আপনারা কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?

আদালতের নির্দেশনা আমরা যথাযথভাবে পালন করেছি৷ খুব শিগগিরই একটা রিপোর্টও আদালতে উপাস্থাপন করা হবে৷ আমরা কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দিয়েছি যে, তাদের কোনো ওষুধ যদি বাজারে থাকে সেটা যেন প্রত্যাহার করে নেয় তারা৷ আগেও আমরা আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নিষিদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওষুধ বাজার থেকে তুলে নিতে নির্দেশনা দিয়েছিলাম৷ আমাদের মাঠ পর্যায়ের যাঁরা কর্মকর্তা আছেন, তাঁদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে ঐ ওষুধগুলো তাঁরা যেখানেই পাবেন, সেখান থেকেই যেন প্রত্যাহার করে নেন৷

ওষুধ শিল্পে যে শ্রমিকরা কাজ করেন, তাঁদের স্বার্থ দেখার ক্ষেত্রে অধিদপ্তরের কোনো ভূমিকা আছে কি?

না, এটা আমাদের কাজের মধ্যে পড়ে না৷ এটা শ্রমিকদের স্বার্থ যাঁরা দেখেন, তাঁদের কাজের মধ্যে পড়ে৷ এছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকরা শ্রমিকদের স্বার্থ দেখেন৷ আমরা ওষুধের মানের বিষয়টা দেখি৷ মানুষ যথাযথভাবে ওষুধ পাচ্ছে কিনা, সেটা দেখি আমরা৷ ওষুধ প্রশাসনের একটা রূপকল্প আছে বলা বাহুল্য৷ সেটা হলো – ‘মানসম্পন্ন ওষুধ, সুস্থ জাতি'৷ এই কাজটাই আমরা করে যাচ্ছি৷

যন্ত্রপাতি আমদানিতে এই শিল্প কী ধরনের সুবিধা ভোগ করে থাকে?

আমি এটা আসলে নির্দিষ্ট করে জানি না৷ ওষুধ শিল্প কোনো যন্ত্রপাতির জন্য বিশেষ সুবিধা পায় কিনা৷ এর সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাঁরা নিশ্চয় বলতে পারবেন বিষয়টা৷

গ্রামের মানুষ যে ওষুধ পাচ্ছেন সেটা মানসম্পন্ন কিনা, তা আপনারা নিশ্চিত করেন কীভাবে?

শহরে বেশি বিক্রি হওয়ার কারণ, এখানে মানুষের বসবাসের হার অনেক বেশি৷ মানে ‘ডেনসিটি' শহরে অনেক বেশি৷ এখানে একটি বিল্ডিংয়ে দু'টো গ্রামের সমান লোক বাস করেন৷ ফলে যেখানে মানুষের চাহিদা বেশি, সেখানে সেই জিনিসও বেশি পাওয়া যাবে৷ এটাই তো স্বাভাবিক৷ আর সেটা যে কোনো কিছু হতে পারে৷ এখন প্রশ্ন হলো – গ্রামে ওষুধ সহজপ্রাপ্ত কিনা? বাংলাদেশে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া – যেখানেই যাবেন ওষুধের দোকান পাবেন৷ দেখবেন গ্রামের একটি দোকানে সুন্দর করে ওষুধ সাজানো আছে৷ ওষুধ কোম্পানিগুলোই তাদের মার্কেটিংয়ের জন্য ওষুধ সেখানে পৌঁছে দিচ্ছে৷

ঐ ওষুধগুলো কি মানসম্পন্ন?

আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, শহরে যে ওষুধ বিক্রি হয়, গ্রামেও একই ওষুধ বিক্রি হয়৷ সব জায়গায় একই ওষুধ যায়৷ কারণ শহরে যে দামে বিক্রি হয়, গ্রামেও একই দামে বিক্রি হয়৷ ওষুধের দামটা কিন্তু ওষুধের গায়েই লেখা থাকে৷ ফলে কেউ বেশি দিয়ে নিতে পারেন না৷ তাছাড়া ওষুধ একই কাঁচামাল দিয়ে তৈরি৷ ফলে এখানে ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড'-এর কোনো সুযোগ নেই৷ সারাদেশে একই ওষুধ যাচ্ছে৷ আমাদের দেশে ৩০টি কোম্পানি ৯০ ভাগ ওষুধ উৎপাদন করে৷ এদের মার্কেট দেশব্যাপী৷ তাই আমরা বলতে পারি যে, বাংলাদেশে মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদন হচ্ছে এবং সেটা সারাদেশেই যাচ্ছে৷ এটা আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস৷

চিকিৎসকরা কিছু ওষুধ লেখেন, যা দেশে নিষিদ্ধ৷ সেই ওষুধগুলোর ব্যাপারে আপনারা কি পদক্ষেপ নেন? 

বাংলাদেশের আইনে বলা আছে, কোনো চিকিৎসক অনিবন্ধিত ওষুধ লিখতে পারবেন না৷ কখনও কখনও বিশেষ কোনো রোগীর এই ধরনের কোনো ওষুধের প্রয়োজন হয়ে পড়লে এবং চিকিৎসক সেটা লিখলে, তাঁরা আমাদের কাছে আবেদন করতে পারেন৷ আমরা তখন একটা এনওসি দেই৷ সেটা দেখিয়ে সেটা আমদানি করতে হয়৷ তারপরই তিনি ঐ ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন৷ কিন্তু আইনগতভাবে কোনো ডাক্তার ঢালাওভাবে অনিবন্ধিত ওষুধ লিখতে পারেন না৷

নকল বা ভেজাল ওষুধের বিরুদ্ধে মাঝে মধ্যেই তো অভিযান হচ্ছে...৷ অধিদপ্তর এক্ষেত্রে কী ভূমিকা পালন করে?

এই অভিযানগুলো তো আমরাই চালাই৷ গত বছর আমরা ২ হাজার ১৬৯টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছি৷ প্রত্যেকটিতে মামলা হয়েছে৷ আমাদের অফিসাররাই সেই মামলাগুলো করেছেন৷ আদালত তো বিচার করবে৷ কিন্তু কাউকে না কাউকে তো অভিযোগ দিতে হবে৷ সেই কাজটা আমরা করে থাকি৷ শুধু ভ্রাম্যমাণ আদালত নয়, আমাদের অফিসাররা আলাদাভাবেও অভিযান চালাচ্ছে নকল বা ভেজাল ওষুধের বিরুদ্ধে৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়