1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

তাঁরা জানতে চান তাঁদের পোশাক কে বানিয়েছে

তাঁরা মানে জামা-কাপড়ের ক্রেতা৷ সারা বিশ্বের অনেক ক্রেতাই জানতে চাইছেন তাঁদের পোশাক কোথায়, কোন পরিস্থিতিতে তৈরি হয়েছে৷ আর এ জন্য বিভিন্ন ব্র্যান্ডের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছেন তাঁরা৷

টুইটারে ‘হু মেড মাই ক্লোদস' হ্যাশট্যাগ (#WhoMadeMyClothes) ব্যবহার করে এর উত্তর জানতে চান পোশাকের ক্রেতারা৷ ‘ফ্যাশন রেভ্যুলেশন' নামের একটি সংস্থা এই হ্যাশট্যাগ চালু করেছে৷ এর মাধ্যমে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডকে তাদের পোশাক কোথায়, কোন পরিস্থিতিতে তৈরি হচ্ছে সে ব্যাপারে খোঁজ নিতে উৎসাহী করে তুলতে চায় সংস্থাটি৷ সেটা সম্ভব হলে পোশাক তৈরিতে শ্রমিকদের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে কিনা, তাঁদের জীবন ঝুঁকির মুখে কিনা, তা জানা যাবে৷

ফ্যাশন রেভ্যুলেশন সংস্থার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ক্যারি সমার্স বলেন, ‘‘কোথায় পোশাক তৈরি হচ্ছে, কে করছেন আর কোন পরিস্থিতিতে করছে – এই তথ্যগুলো না জানলে কোম্পানিগুলোর পক্ষে তাদের পোশাক তৈরিতে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে কিনা, তা জানা সম্ভব নয়৷''

বাংলাদেশে ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসে এক হাজারেরও বেশি পোশাক শ্রমিকের প্রাণহানির ঘটনা সারা বিশ্বে আলোচিত হয়েছে৷ এর প্রেক্ষিতে পোশাক কারখানায় কাজের পরিবেশ ও শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বেশ কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে৷

ফ্যাশন রেভ্যুলেশন সংস্থাটিও এমন এক উদ্যোগ৷ রানা প্লাজা ধসের পর এটি গড়ে তোলেন সাবেক দুই পোশাক ডিজাইনার ক্যারি সমার্স এবং ওর্সোলা দে কাস্ত্রো৷

২০১৪ সাল থেকে রানা প্লাজা ধসের দিনকে (২৪ এপ্রিল) ‘ফ্যাশন রেভ্যুলেশন দিবস' হিসেবে পালন করছে সংস্থাটি৷ গত বছর এই দিনকে ঘিরে হ্যাশট্যাগটি চালু করা হয়৷ সে সময় ৭৬টি দেশের সোয়া ছয় কোটিরও বেশি মানুষ হ্যাশট্যাগটি ব্যবহার করেন বলে জানান কাস্ত্রো৷

চলতি বছর ১৮ এপ্রিল থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত ‘ফ্যাশন রেভ্যুলেশন সপ্তাহ' পালন করা হচ্ছে৷ এবারও টুইটার ব্যবহারকারীরা #WhoMadeMyClothes হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে তাঁদের ব্র্যান্ডের কাছে উত্তর জানতে চাইছেন৷ ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সাংসদরাও আছেন এর মধ্যে৷

ভিডিও প্রচারণা

ফ্যাশন রেভ্যুলেশন সংস্থা ২০১৫ সালে জার্মানির বার্লিনে একটি ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন করে সেখান থেকে ২ ইউরো মূল্যের টি-শার্ট বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছিল৷ তবে পোশাক কেনার জন্য ক্রেতারা যখন মেশিনে পয়সা ঢুকিয়েছিল তখন তাদের কয়েকটি তথ্য ও ছবি দেখানো হয়৷ তাদের জানানো হয় দুই ইউরো দিয়ে পোশাক বিক্রির জন্য শ্রমিকদের কীভাবে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে৷ এরপর ক্রেতাদের কাছে জানতে চাওয়া হয় তারা পোশাকটি এখনও কিনতে চায় কিনা৷ ১০ জনের মধ্যে আট জনই ‘না' বলেন৷ পুরো বিষয়টি ভিডিও করে ইউটিউবে আপলোড করা হয়৷ ভিডিওর শেষে বক্তব্যটি ছিল এরকম – মানুষ যখন জানতে পারে তখন তারা সচেতন হয়৷

চলতি বছরের ফ্যাশন রেভ্যুলেশন সপ্তাহকে ঘিরে আরও একটি প্রচারণামূলক ভিডিও প্রকাশ করেছে সংস্থার নেদারল্যান্ডস শাখা৷ এতে দেখা যাচ্ছে, ১২ বছরের একটি শিশু রাস্তায় বিভিন্ন জনকে প্রশ্ন করছে যে, তাঁরা জানেন কি না তাদের পরনের পোশাকটি কোথায়, কোন পরিস্থিতিতে তৈরি হয়েছে৷ বাকিটা দেখুন ভিডিওতে৷

বন্ধু, আপনি কি জানেন আপনার পোশাক কে বা কারা বানিয়েছেন? লিখুন আমাদের, নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়