1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ব্লগ

‘জার্মানির স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিখুঁত না হলেও, তার কাছাকাছি!'

জার্মান স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ধনী-গরিবের ভেদাভেদ নেই, ডাক্তারের ফি নেই, ওষুধপত্র থেকে শুরু করে অস্ত্রোপচার নিখরচায়৷ বিমার প্রিমিয়াম নিজে দিতে না পারলে, সরকার দিয়ে দেয়৷ বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন স্বাস্থ্যবীমা পদ্ধতি আজও সক্ষম৷

Ärzte-Visite im Krankenhaus (picture-alliance/dpa)

জার্মানির একটি হাসপাতালের ছবি

বিনা প্রিমিয়ামের জাতীয় স্বাস্থ্য বিমা যেসব দেশে আছে, সেসব দেশের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে দেখেছি৷ কিছুটা যেন ‘তোমার কর্ম তুমি করো মা' কিংবা ‘ভাগের মা গঙ্গা পায় না' অবস্থা৷ পেশেন্টরা অপারেশনের জন্য ওয়েট করতে করতে শেষমেশ পূর্ব ইউরোপের কোনো দেশে গিয়ে অপারেশন করিয়ে নেন৷

আমাকে স্বাস্থ্য বিমার জন্য দিতে হয় থোক মাইনের প্রায় ১৬ শতাংশ৷ বিমাটা জার্মানির শতকরা ৯০ ভাগ নাগরিকের মতো আমার জন্যও বাধ্যতামূলক৷ প্রতি মাসে মাইনে থেকেই বিমার প্রিমিয়াম কেটে আমার ‘ক্রাঙ্কেনকাসে' বা ‘সিকনেস ফান্ড'-কে পাঠিয়ে দেওয়া হয়; হাতে থাকে বিমা কোম্পানির প্লাস্টিক কার্ড৷

তবে সেই কার্ড সাথে থাকলে গলা ব্যথা থেকে শুরু করে করোনারি বাইপাস, এমন কোনো চিকিৎসা নেই যা আমি করাতে পারি না; এমন কোনো ডাক্তার নেই যার কাছে যেতে পারি না৷ অসুখ করলে, প্রথম ২৯ দিনের মাইনে দেয় এই স্বাস্থ্য বিমা৷ সমস্ত ওষুধপত্রের খরচ দেয় স্বাস্থ্য বিমা, যদিও নিজেকে তার সামান্য একটা অংশ দিতে হয়৷

বাড়ির ডাক্তার

ইনি সাধারণত পাড়ার ডাক্তার৷ তাদের চেম্বারে গেলে সেখানেই যাবতীয় প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অমুক টেস্ট আর তমুক কাউন্ট করা হয়৷ প্রয়োজনে ডাক্তার আমাকে পাঠান স্পেশলিস্টের কাছে৷ স্পেশালিস্টের কাছ থেকে রিপোর্ট আসে আমার ডাক্তারের কাছে বা কমপিউটারে৷ তা দেখবার পর ডাক্তার প্রয়োজনে আমাকে আবার ডেকে পাঠান৷ মোট কথা চিকিৎসা চলে, চলে নিয়মিত চেক-আপ৷

Deutsche Welle DW Arun Chowdhury (DW/P. Henriksen)

অরুণ শঙ্কর চৌধুরী, ডয়চে ভেলে

এখনও অবসর গ্রহণ করিনি, নয়তো জার্মানিতে একটা কথা আছে, প্রবীণরা যে অবসর গ্রহণ করেন, এমন নয় যে অবসর গ্রহণ করার পর তাঁদের ফুলটাইম পেশা হয়ে দাঁড়ায় অসুস্থ হওয়া; সপ্তাহের কাজের দিনগুলো কাটে ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট আর ল্যাবরেটরির টেস্ট আর ফিজিওথেরাপি, এই সব মহৎ কর্মে, মরার পর্যন্ত সময় থাকে না৷ ডাক্তারের কাছে গেলেই দেখতে পাই, আমাদের পাড়ার কিছু প্রবীণা ওয়েটিং রুমে হাত-পা ছড়িয়ে আরাম করে বসে মনোযোগ দিয়ে ম্যাগাজিন পড়ছেন৷ ঘণ্টাখানেক বাদে একবার ডাক পড়ে ব্লাড দেবার৷ সকালটা কাটে চমৎকার৷ সাধে কি পরিসংখ্যান বলে, জার্মানরা ডাক্তারের কাছে যান গড়ে বছরে আঠেরো বার! সব দেখে-শুনে বুঝেছি, গরিব দেশের লক্ষণ হল, সেখানকার লোকজন অসুখ করলেও ডাক্তারের কাছে যায় না; আর বড়লোক দেশের মানুষজন অসুখ না থাকলেও ডাক্তারের কাছে যায়৷ ডাক্তাররাও প্রেস্ক্রিপশন দিতে দক্ষ, কোনো পেশেন্টকেই খালি হাতে ফিরতে হয় না৷

জার্মানরা মুঠো মুঠো ওষুধ খান, নাকি ডেট পার হয়ে গেলে সুবোধ বালকের মতো ডিস্পেনসারিতে গিয়ে ফেরৎ দেন, তা বলতে পারব না৷ তবে ‘ক্রাঙ্কেনকাসে' বা বিমা কোম্পানিগুলো একদিকে হাসপাতাল আর ওষুধের খরচ বাড়া, অন্যদিকে অপারেশনের সংখ্যা বাড়া নিয়ে বকে বকে গলা চিরে ফেলল - কে শোনে কার কথা৷ এমনকি ডাক্তারদের ওষুধের বাজেট করে দেওয়া হয়েছে: কোনো কোয়ার্টারে বাজেট শেষ হয়ে গেলে, ডাক্তারের চেম্বারের সহকারী মহিলারাই বলে দেন, ‘পরের কোয়ার্টারের গোড়ার দিকে আসবেন৷ তখন বাজেট থাকবে৷'

গরিব দেশে যেমন অভাব, বড়লোক দেশে তেমন অপচয়৷ তাই এখানে সকাল-বিকেল ডাক্তারের প্রেস্ক্রাইব করা বিভিন্ন বটিকাগুলো গলাধঃকরণ করার সময় ভাবতে হয়, এগুলো না গিললেই বা কি হতো? কলকাতার এক ডাক্তার বন্ধু আমার এই ধন্দের কথা শুনে বলেছিলেন, ‘ও সব ছাইপাঁশ না গিলে, দেশে চলে আয়৷ এখানেও ভালো চিকিৎসায় মরতে কয়েক লাখের বেশি লাগে না৷'

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়