1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি

জার্মানিতেও নকল ওষুধের বাজার রমরমা

জার্মানিতে নকল ওষুধ আসে আকাশপথে, লাইপসিগ কি ফ্রাংকফুর্ট বিমানবন্দরে৷ সেখানে একবার কাস্টমস পার হতে পারলেই অনলাইন বিক্রির মাধ্যমে শুধু মুনাফা আর মুনাফা৷ এই জাল ওষুধ আসে প্রধানত এশিয়া থেকে৷

প্রথমেই বলে রাখা দরকার যে, জার্মানির হেল্থ কেয়ার বা জনস্বাস্থ্য প্রণালী সুবিশাল ও সুসংগঠিত৷ এ দেশে ওষুধের অনুমোদন থেকে শুরু করে ডাক্তারের প্রেস্ক্রিপশন, ডিস্পেনসারি থেকে ওষুধ বিক্রি ও স্বাস্থ্যবীমা থেকে তার দাম চোকানো পর্যন্ত গোটা প্রক্রিয়ায় কোনো বিশেষ চোখে পড়ার মতো ফাঁক বা ফোকর নেই৷

বড় বেশি ডাক্তারের কাছে যাওয়া, ডাক্তারদের বড় বেশি ওষুধ ‘প্রেস্ক্রাইব' করা, ওষুধ কোম্পানিগুলির জার্মানিতে ওষুধের জন্য অপেক্ষাকৃত বেশি দাম নেওয়া, এ সব সমস্যা আছে বটে, কিন্তু তা বলে ভেজাল বা জাল ওষুধ এ দেশে সরকার বা জনগণের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠতে এখনও অনেক বাকি৷ তাহলে জার্মানিতে জাল ওষুধের প্রসঙ্গ উঠছে কেন?

শুধু উঠছে নয়, প্রতিবছর আরো বড় আকার ধারণ করছে৷ মজার কথা, এই সব মেকি ‘পিল' সঠিক ফার্মেসিতে যে দামে পাওয়া যায়, তার চেয়ে অনেক চড়া দামে বিক্রি হয় অনলাইন শপে৷ শুধু এশিয়ায় বসা পিল উৎপাদনকারীরাই জানেন, ঐ সব বড়ি বা বটিকায় কী আছে, কী তাদের উপাদান৷ ওদিকে খরিদ্দাররা অজ্ঞাতই থাকতে চান৷ ২০১৫ সালে জার্মান কাস্টমস প্রায় ৪০ লাখ মেকি পিল বাজেয়াপ্ত করে, যা কিনা ২০১৪ সালের তুলনায় প্রায় চারগুণ বেশি৷

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ১,০০০ ইউরো মূল্যের এক কিলোগ্রাম কাঁচা কোকেইন থেকে যদি কালোবাজারে ৪৫,০০০ ইউরো মুনাফা করা যায়, তাহলে এক কিলোগ্রাম ‘সিলডেনাফিল' থেকে মুনাফা হয় ৯০,০০০ ইউরো – কেননা সিলডেনাফিল হলো ভায়াগ্রার সক্রিয় উপাদান৷

ভায়াগ্রার মতোই কালোবাজারে ভালো বিক্রি হয় পেশি বানানোর জন্য অ্যানাবোলিক স্টেরয়েড, মাথায় চুল গজানোর ওষুধ বা ওজন কমানোর নানা ওষুধ৷ জাল ওষুধের সিংহভাগ নাকি আসে চীন, ভারত ও বাংলাদেশ থেকে, ‘ভেল্ট.ডিই' ওয়েবসাইটের একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে৷

ফ্রাংকফুর্ট অথবা লাইপসিগ বিমানবন্দরে জাল ওষুধের দশটা পার্সেল এসে পৌঁছালে, তার মধ্যে পাঁচটা ধরা পড়ে – কিন্তু যেগুলো ধরা পড়ে না, সেগুলি থেকে এতই মুনাফা হয় যে, দুই মহাদেশের অপরাধীদের ধরপড়তা পুষিয়ে যায়৷

এছাড়া জাল ওষুধে থাকেই বা কী? ব্যথা কমানোর ওষুধে থাকে হয়ত কাঠকয়লা, খিদে কমানোর ওষুধে আর্সেনিক থাকলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই, আর পুরুষত্ব বাড়ানোর টনিকে থাকে হয়ত শুধু পানি৷

কাজেই জার্মানিতে জাল ওষুধের ব্যবসাটা মাদক পাচারের মতোই সাধারণ অপরাধবৃত্তির একটা অঙ্গ বলে গণ্য করা চলে ও গণ্য করা হয়ে থাকে৷ সেক্ষেত্রে আফ্রিকা মহাদেশে প্রতিবছর সাত লাখ মানুষ প্রাণ হারান ম্যালেরিয়া বা যক্ষার জাল ওষুধ খেয়ে৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

এসি/ডিজি

নির্বাচিত প্রতিবেদন