1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

গোরোঙ্গোসা অভয়ারণ্যের মহিলা রেঞ্জার

মোজাম্বিকের বৃহত্তম ন্যাশনাল পার্কের মহিলা রেঞ্জাররা চোরাশিকারিদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে পিছপা হন না৷ কঠিন এ সংগ্রামে তাঁরা কিছু নতুন পন্থাও প্রয়োগ করে থাকেন৷

গোরোঙ্গোসা ন্যাশনাল পার্কে কান্দিদা মারকেশ কাবেসা-র প্রতিদিনের কাজ হলো চোরাশিকারিদের পাতা ফাঁদগুলোকে সরানো৷ মোজাম্বিকের বৃহত্তম অভয়ারণ্যের রেঞ্জারদের মধ্যে মহিলা রেঞ্জার খুব বেশি নেই৷ কান্দিদা খুব অল্প সংখ্যক মহিলা শিকারিদের একজন৷ চোরাশিকারের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অপরাধীদের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষের বিপদ থাকে৷ কিন্তু তাতে ভয় করলে চলে না৷

কান্দিদা বলেন, ‘‘আমরা চুপি চুপি চোরাশিকারিদের শ'দুয়েক মিটারের মধ্যে পৌঁছাই৷ তারপর হামাগুড়ি দিয়ে একেবারে কাছে গিয়ে হাঁক দিই, ‘‘থামো!'' সাধারণত ওতেই ওরা থতমত খেয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে আর ওদের গ্রেপ্তার করা যায়৷ কখনো-সখনো ওরা আমাদের আক্রমণ করে৷ তখন আমরা যেভাবে আমাদের শেখানো হয়েছে, সেভাবে আত্মরক্ষা করি৷''

 পুরুষ রেঞ্জাররা তাঁদের নতুন মহিলা সহকর্মীদের পেয়ে খুশি, কেননা, এর ফলে চোরাশিকারিদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে নতুন পন্থা অবলম্বন করা যায়৷ রেঞ্জার সিকো বোনিফাসিও কোম্পানিয়া কান্দিদার মতো জাতিতে পর্তুগিজ৷ তিনি জানালেন, ‘‘মাঝেমধ্যে আমরা মহিলা রেঞ্জারদের চর হিসেবে ব্যবহার করি৷ তখন তাঁরা ভান করেন, যেন তাঁরা রেঞ্জার নন, সাধারণ মানুষ৷ এভাবে চোরাশিকারিদের কাছে আসা আর তাঁদের গ্রেপ্তার করা সহজ হয়৷''

চোরাশিকারিদের একটি প্রধান শিকার হলো হরিণ, কেননা হরিণের মাংস বেচে জীবনধারণ করা যায়৷ কিন্তু গোরোঙ্গোসা ন্যাশনাল পার্কের অন্যান্য জীবজন্তুও বিপন্ন – যদিও ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে বলে রেঞ্জারদের ধারণা৷ 

ভিডিও দেখুন 03:20

অভয়ারণ্যের নির্ভিক নারী

সিকো বলেন, ‘‘হাতিদের উপরেও চোরাশিকারিদের নজর পড়েছে বলে আমরা জানি৷ কিন্তু আমরা আমাদের কাজ করে যাই; চোরাশিকারিদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যাই৷ যার ফলে বেআইনি শিকার ধীরে ধীরে কমে আসছে৷''

বেআইনি মাছ ধরা

২০১৭ সালের প্রথম চার মাসে রেঞ্জাররা গত বছরের প্রথম চার মাসের তুলনায় ৬০ শতাংশ বেশি বেআইনি শিকার ধরার ফাঁদ বিনষ্ট করেছেন৷ নদীতে টহল দেওয়াও রেঞ্জারদের কাজ৷ ন্যাশনাল পার্কে বেআইনি মাছ ধরার চল কিছু কম নয়৷

চোরাশিকারিরা একটি মাছ ধরার জাল ফেলে গেছে৷ রেঞ্জারদের আসতে দেখে তারা উধাও হয়েছে৷ কান্দিদা জানালেন, ‘‘আমরা জাল আর মাছ নিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যাতে আমরা গেলেই ওরা আবার বেআইনি মাছ ধরা শুরু না করতে পারে৷ এ ধরণের জালও আসলে নিষিদ্ধ, বিনা অনুমতিতে মাছ ধরা তো বটেই৷''

অভয়ারণ্যের ১৫০ জন রেঞ্জারের একজন হবার জন্য কান্দিদাকে অন্যান্য সহকর্মীর মতোই কঠোর প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে৷ কান্দিদার মতে, ‘‘পুরুষ বা মহিলা, তাতে কিছু এসে যায় না৷ কাজের সময় পুরুষদের মতো আমরাও একই কাজ করি৷''

রেঞ্জারের কাজে বিপদ থাকে, ক্যাম্পে থাকার কষ্টও কম নয়৷ বাকি সকলের মতো কান্দিদা একটানা তিন সপ্তাহ কাজ করেন, তারপর এক সপ্তাহের ছুটি পান৷ কান্দিদা বললেন, ‘‘এতদিন ধরে পরিবার-আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে দূরে থাকাটা আমাদের অভ্যাস হয়ে গেছে৷ আমরা ভয় পাই না৷ আমরা সব রকমের চ্যালেঞ্জ আর সমস্যার জন্য প্রস্তুত৷''

গ্লোরিয়া সুজা/এসি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও