1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

গণভোটের আগে গণমাধ্যমকে চাপে রাখছে তুরস্ক

এপ্রিলের ১৬ তারিখ তুরস্কে গণভোট হবে৷ সংবিধান পরিবর্তন করে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বাড়ানো উচিত কিনা, তা জানতে চাওয়া হবে৷ এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় শনিবার জনপ্রিয় এক সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে৷

ঐ সাংবাদিকের নাম ইরফান ডেগিরমেনসি৷ তিনি ‘কানাল ডি' টেলিভিশনের একজন জনপ্রিয় উপস্থাপক ছিলেন৷ টুইটারে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১৭ লক্ষ৷ শুক্রবার বেশ কয়েকটি টুইট করে তিনি গণভোটে ‘না' ভোটের পক্ষে তাঁর সমর্থন জানান৷ একটি টুইটে তিনি লিখেছিলেন, ‘‘তাঁর প্রতি ‘না', যিনি বিজ্ঞানী, শিল্পী, লেখক, কার্টুনিস্ট, শিক্ষার্থী, শ্রমিক, কৃষক, খনিশ্রমিক, সাংবাদিকসহ যাঁরা তাঁর আদেশ না মানেন, তাঁদের শত্রু ভাবেন৷''

এই টুইটের একদিন পরই ডেগিরমেনসিকে চাকরি থেকে অব্যহতি দেয়া হয়৷ এক বিবৃতিতে কানাল ডি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাঁকে চাকরিচ্যুত করার কারণ তিনি ‘যে বিষয় নিয়ে জনগণ বিতর্ক করছে, সেই বিষয়ে একটি পক্ষের প্রতি সমর্থন জানিয়ে' নীতি ভঙ্গ করেছেন৷ অনেক সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকে হাস্যকর বলে মনে করছেন, কারণ, ফাতিহ সেকিরগে নামের এক সাংবাদিক প্রেসিডেন্ট ব্যবস্থার পক্ষে তাঁর সমর্থন জানালেও তিনি বহাল তবিয়তেই আছেন৷

উল্লেখ্য, গণভোটের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ব্যবস্থা চালু হলে দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়্যেপ এর্দোয়ানের ক্ষমতা অনেক বাড়বে৷ ফলে মন্ত্রীদের চাকরিচ্যুত করা, সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করা, ডিক্রি জারি, জরুরি অবস্থা ঘোষণাসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদে ব্যক্তি নিয়োগের ক্ষমতা পাবেন তিনি৷

এর্দোয়ানের সমর্থকরা মনে করছেন, গত জুলাইয়ের ব্যর্থ অভ্যুত্থান ও কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষিতে দেশটির এমন একজন নেতা প্রয়োজন যিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন৷ তবে বিরোধীরা বলছেন, সংবিধানে পরিবর্তন আনার মাধ্যমে একজন স্বৈরশাসকের ক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে এবং এর মাধ্যমে তুরস্ক পুরোপুরি স্বৈরশাসনের আওতায় চলে যাবে৷

দেশটিতে ইতিমধ্যে নানানভাবে গণমাধ্যমের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা চলছে৷ গত বছর বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়৷ এছাড়া কমপক্ষে দেড়শ' গণমাধ্যম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে৷ ফলে অধিকাংশ সাংবাদিক এখন ‘সেল্ফ-সেন্সরশিপ' মেনে চলছেন৷

বর্তমানে তুরস্কের বেশিরভাগ শীর্ষ গণমাধ্যমের মালিক বড় বড় কোম্পানি, যারা সরকারের বড় প্রকল্পের কাজ পেতে নিজে থেকেই সরকার বিরোধী সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকে৷ যেমন আলোচিত ‘কানাল ডি'-র মালিক ‘দোয়ান হোল্ডিং'৷ সিএনএন টুর্কসহ বেশ কয়েকটি সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যানেলের মালিক এই কোম্পানি৷ সংবাদ পরিবেশনে কিছুটা নিরপেক্ষ হিসেবে এই কোম্পানির আওতাধীন গণমাধ্যমের পরিচিতি রয়েছে৷

প্রেসিডেন্ট এর্দোয়ান বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রধানদের ফোন করে কাভারেজের বিষয়ে অভিযোগ করে থাকেন৷

এদিকে, শনিবার এর্দোয়ান বলেছেন, যাঁরা প্রেসিডেন্ট ব্যবস্থার বিরুদ্ধে, তাঁরা আসলে কুর্দিস্থান ওয়ার্কার্স পার্টি ও জুলাইয়ের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের সমর্থক৷ কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইয়েলদিরিমও এমন বক্তব্য দিয়েছিলেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়