1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

‘এ পরিস্থিতিতে হিন্দুদের বাংলাদেশ ত্যাগ বাড়তে পারে’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনায় হিন্দুদের দেশত্যাগ বেড়ে যেতে পারে বলে মনে করেন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল৷ নাসিরনগরে হামলার শিকার পরিবারগুলোর সঙ্গে সাক্ষাতের পর এ কথা বলেন তিনি৷

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে গিয়ে হামলার শিকার হিন্দু পরিবারগুলোর অবস্থা দেখেছেন মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল৷ ডয়চে ভেলেকে টেলিফোনে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে অনেকটা প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণেই হামলা চালানো হয়েছে৷

সুলতানা কামাল বলেন, ‘‘জেলা ও পুলিশ প্রশাসন হেফাজত এবং আহলে হাদিসকে প্রতিবাদ সভার অনুমতি কিভাবে দিল সেটাই বড় প্রশ্ন৷ এমনকি হামলার সময় কিছু পুলিশ সদস্য সেখানে থাকলেও অজ্ঞাত টেলিফোন পেয়ে তারা চলে যায়৷ আমরা হামলার শিকার কয়েকটি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছি৷ তারা প্রাণ ভয়ে বাড়ি ঘর ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন৷ এখন ফিরে এসেছেন৷''

হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতিমন্ডলীর সভাপতি কাজল দেবনাথও বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এখনো আতঙ্ক কাটেনি৷ পরিকল্পিত এই হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়৷ বছরের পর বছর ধরে সংখ্যালঘুদের ওপর যে হামরা ও নির্যাতন হচ্ছে, এটা তারই ধারাবাহিকতা৷''

অডিও শুনুন 03:53

‘পুলিশ সদস্য থাকলেও অজ্ঞাত টেলিফোন পেয়ে তারা চলে যায়’

ধারাবাহিক হামলা

চলতি বছরের এপ্রিলে ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলেন করে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ জানিয়েছিল, ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালের প্রথম তিন মাসে প্রায় তিনগুণ সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে৷ জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ – এই তিন মাসে ৮২৫০টি নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে৷ এর মধ্যে হত্যা, অপহরণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর করা, গণধর্ষণ, জমিজমা ঘরবাড়ি মন্দির ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও উচ্ছেদের ঘটনাও রয়েছে৷ তাঁরা জানান, ২০১৫ সালে বাংলাদেশে ২৬১টি সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে৷ তাতে ১৫৬২টি প্রতিষ্ঠান, পরিবার ও ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷ কিন্তু ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১শে মার্চ পর্যন্ত  প্রথম তিন মাসে সংখ্যালঘুদের ওপর কমপক্ষে ৭৩২টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে, যা আগের  বছরের ঘটনার প্রায় তিনগুণ৷ এতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯৫৬৬টি, যা আগের এক বছরের তুলনায় ছয়গুণেরও বেশি৷ এ সময়ে ১০ জন নিহত, ৩৬৬ জন আহত এবং ১০ জন হিন্দু অপহৃত হন। জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগ রয়েছে ২টি৷ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৮ জন৷ জমিজমা, ঘরবাড়ি, মন্দির ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, দখল ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে ৬৫৫টি৷ এছাড়া ঐ সময়ে কমপক্ষে ২২টি হিন্দু পরিবারকে উচ্ছেদের হুমকি দেয়া হয়৷

অডিও শুনুন 01:48

‘১২শ’র মতো তরুণ এ হামলা চালায়’

২০০১ সালের নির্বাচনের পর বরিশাল, বাগেরহাট, পাবনা ও নড়াইলসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে৷ এরপর থেকে একযোগে বিভিন্ন সংখ্যালঘু নির্যাতন কমে এলেও তা থামেনি৷ এরপর ২০১২ সালের অক্টোবরে কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ওপর বড় ধরণের হামলা হয়৷ আর সর্বশেষ গত রবিবার ব্রাহ্মনবাড়িয়ার নাসির নগরে হিন্দুদের শতাধিক বাড়ি-ঘরে হামলা-ভাঙচুর এবং লুটপাট করা হয়৷ সেদিন অন্তত ১০টি মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়৷ হিন্দু পল্লিতে নারী-পুরুষকে বেধড়ক পেটানো হয়৷

ডয়চে ভেলেকে কাজল দেবনাথ বলেন, ‘‘এই ধারাহিক হামলায় বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বাস করছে৷ রামুতে বৌদ্ধমন্দিরে যেভাবে ফেসবুক পোস্টের অজুহাত তুলে হামলা চালানো হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও একইভাবে হামলা হয়৷ ওই এলাকা থেকে দু'জন মন্ত্রী আছেন সরকারে৷ তারা চুপ৷ তাদের একজন ঘটনা আড়াল করার জন্য নানা অপচেষ্টা চালাচ্ছেন৷ সাংবাদিকরা তার কাছে জানতে চাইলে তাদের ‘মালাউনের বাচ্চা' বলে গালি দেয়া হচ্ছে৷''

অডিও শুনুন 06:10

‘এক মন্ত্রী ঘটনা আড়াল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন’

হিন্দু জনসংখ্যা কমার কারণ কী?

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০০১ ও ২০১১ সালের তথ্য তুলনা করলে  দেখা যায় ১৫টি জেলায় হিন্দু জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে৷ ১০ বছরে মোট ৯ লাখ হিন্দু কমেছে৷

বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, নড়াইল, কুষ্টিয়া, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, কিশোরগঞ্জ ও পাবনা জেলায় এই সময়ে যে হিন্দুদের সংখ্যা কমেছে তা জরিপে স্পষ্ট৷

বিবিএস এর তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৯ দশমিক ২ ভাগ ছিল হিন্দু৷ ২০১১ সালে তা হয় ৮ দশমিক ৫ শাতাংশ৷ আর স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে মোট জনসংখ্যার ১৩ দশমিক ৫ ভাগ ছিল হিন্দু ধর্মাবলম্বী৷ তবে ২০১৫ সালের হিসেবে হিন্দু জনসংখ্যা বাড়ছে বলে জানায় বিবিএস৷ তাতে বলা হয়, মোট জনসংখ্যার ১০ দশমিক ৭ শতাংশ হিন্দু৷ আর আগের বছর, অর্থাৎ ২০১৪ সালে তা ছিল ৯ দশমিক ৯ শতাংশ৷

অ্যাডভাকেট সুলতানা কামাল বলেন, ‘‘জরিপ দেখে বলতে হবে কেন, আমার পরিচিত অনেক হিন্দু পরিবারই দেশ ত্যাগ করেছে৷ অনেক শহর ফাঁকা হয়ে গেছে৷ তারা প্রধানত নিরাপত্তার কারণেই বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন৷ আর এবারের ঘটনার পর আরো যদি কোনো পরিবার দেশ ছেড়ে চলে যায় তাহলে তাদেরতো দোষ দেয়া যাবে না৷''

একই প্রসঙ্গে কাজল দেবনাথ বলেন, ‘‘পরিস্থিতি যা, তাতে হিন্দুদের দেশত্যাগ বাড়তে পারে৷ কিন্তু আমরা কেন দেশ ছাড়বো? আমরা আমাদের জন্মভূমি ছেড়ে কোথায় যাবো? আমরা শুধু প্রতিবাদ নয়, এবার প্রতিরোধ করতে চাই৷''

নাসিরনগরে হামলার প্রত্যক্ষদর্শী এবং সার্বজনীন মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক নির্মল দাস ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘রবিবার ১২শ'র মতো তরুণ লাঠি ও দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়৷ মন্দিরের পুরোহিতের ওপরও হামলা চালানো হয়৷ তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন৷ হামলাকারীরা বাড়ি ঘর ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়, প্রতিমা ভাঙে৷''

তিনি বলেন, ‘‘এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে৷ সবাই যার যার বাড়িতে অবস্থান করছেন৷''

এদিকে এই ঘটনায় দায়িত্বহীন পালনে ব্যর্থতার অভিযোগে নাসিরনগর থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে৷

প্রিয় পাঠক, আপনার কিছু বলার আছে? জানাতে পারেন নীচে মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়